ফাইনালে গুজরাট টাইটানস

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: প্রথমবার আইপিএলে অংশ নিয়েই গুজরাট টাইটানসের বাজিমাত। লিগ পর্বে সর্বোচ্চ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে প্লে-অফ নিশ্চিত। প্রথম কোয়ালিফায়ারেও তারই ছাপ। ডেভিড মিলারের তাণ্ডবে ২০২২ আইপিএলের ফাইনালের টিকিট পেয়ে গেছে নবাগত দলটি।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

মঙ্গলবার আইপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ারে রাজস্থান রয়্যালসকে ৭ উইকেটে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে গুজরাট। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে শেষ ওভারে ছড়ায় উত্তেজনা। তবে মিলারের তাণ্ডবে সহজেই শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চের টিকিট কেটেছে তারা। এই প্রোটিয়া ব্যাটারের টানা ৩ ছক্কায় ৩ বল আগেই ৩ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে হার্দিক পান্ডিয়ারা।

কলকাতার ইডেন গার্ডেনসের প্রথম কোয়ালিফায়ারে জস বাটলারের দুর্দান্ত হাফসেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮৮ রান করে রাজস্থান। কঠিন এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মিলারের ঝড়ো হাফসেঞ্চুরিতে নাটকীয় জয় পায় গুজরাট। তাতে অবশ্য রাজস্থানের ফাইনালের স্বপ্ন একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে খেলার সুযোগ আছে তাদের। এলিমিনেটর ম্যাচ জিতে আসা দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় কোয়ালিয়ার জিতলে ফাইনালের টিকিট পাবে সঞ্জু স্যামসনরা।

গুজরাটের শেষ ওভারে জিততে দরকার ছিল ১৬ রান। টি-টোয়েন্টি ম্যাচে খুব একটা কঠিন নয়, আবার সহজও নয়। তবে মিলার যেভাবে সমীকরণ মিলিয়ে দিলেন, তাতে লক্ষ্যটা আরও বড় হলেও সমস্যা ছিল না! প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার করা প্রথম ৩ বলে ৩ ছক্কা হাঁকিয়ে এনে দিলেন ‘অনায়াস’ জয়। ব্যাটে তাণ্ডব তোলা মিলার খেলেন হার না মানা ৬৮ রানের ইনিংস। ৩৮ বলের ইনিংসটি সাজান ৩ বাউন্ডারি ও ৫ ছক্কায়। এমন পারফরম্যান্সের পর ম্যাচসেরার পুরস্কার তার হাতেই মানায়। গুজরাটের ফাইনাল নিশ্চিতের পথে অবদান রেখেছেন অধিনায়ক পান্ডিয়াও। মিলারের সঙ্গে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ার আগে ২৭ বলে ৫ বাউন্ডারিতে তিনি খেলেন অপরাজিত ৪০ রানের ইনিংস।

যদিও ১৮৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা বাজে ছিল গুজরাটের। কোনও রান যোগ না হতেই হারায় ওপেনার ঋদ্ধিমান সাহার (০) উইকেট। যদিও তারা ওই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠে শুবমান গিল ও ম্যাথু ওয়েডের ব্যাটে। তবে ভুল বোঝাবুঝিতে শুবমান (২১ বলে ৩৫) ফিরে গেলে আবারও ছন্দপতন। তাতে ভাঙে দ্বিতীয় উইকেটে ৭২ রানের জুটি। সঙ্গীকে হারিয়ে ওয়েডও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। ৩০ বলে ৩৫ রান করে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার ফিরে গেলে চাপ বাড়ে গুজরাটের। ৮৫ রানে তারা হারায় ৩ উইকেট। ওই শেষ, আর কোনও বিপদ হয়নি। রাজস্থানের কোনও বোলারই ঠিক সুবিধা করতে পারেননি। ট্রেন্ট বোল্ট ও ওবেড ম্যাককয় নিয়েছেন একটি করে উইকেট।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা রাজস্থানের শুরুটাও সুবিধার ছিল না। মাত্র ৩ রান করে ফিরে যান যশস্বী জয়সওয়াল। তবে সেই ধাক্কা তারা কাটিয়ে ওঠে বাটলার-স্যামসনের ব্যাটে। ভাগ্যই বলতে হবে বাটলারের। ৫৬ বলে ৮৯ রানের ইনিংস খেলেছেন, তবে তাতে আছে গুজরাট ফিল্ডারদের ‘সাহায্য’ ও ভাগ্যের ছোঁয়া। অন্তত দুইবার জীবন পেয়েছেন, আরও দুইবার একটুর জন্য বেঁচে গেছেন। শুরু থেকেই সংগ্রাম করেছেন এবারের আইপিএলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। সময় গড়ানোর সঙ্গে খোলস ছেড়ে বেরিয়েছেন ঠিকই, তবে সেখানে মিস ফিল্ডিং ও সৌভাগ্যের পরশ পেয়েছেন।

একবার বেঁচেছেন থার্ডম্যানে। মোহাম্মদ সামি অনেকটা দৌড়ে এসেও বল হাত পর্যন্ত নিতে পারেননি। রশিদ খান তো বল তালুতে নিয়েও জমাতে পারেননি! আরেকবার বাটলারের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়েছে হার্দিক পান্ডিয়া পা পিছলে যাওয়ায়। লং অনে উড়ে আসা বলের লাইনেই ছিলেন গুজরাট অধিনায়ক। কিন্তু বল ধরার আগেই পা পিছলে পড়ে যান। আউটের বদলে বাউন্ডারি পান ইংলিশ ব্যাটার। এমন আরও বেশ কয়েকটি বাউন্ডারি পেয়েছেন তিনি গুজরাট ফিল্ডারদের ‘সৌজন্যে’ কিংবা ব্যাটের কানায় লেগে।

শেষ পর্যন্ত এই ব্যাটার যখন আউট হলেন, ততক্ষণে রাজস্থানের স্কোর পৌঁছে গেছে ১৯.৫ ওভারে ১৮৫। আর বাটলার নিজে করে যান ৫৬ বলে ১২ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ৮৯ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। তার আগে ঝড় তুলেছিলেন স্যামসন। রাজস্থান অধিনায়ক ২৬ বলে ৫ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় খেলেন ৪৭ রানের ইনিংস। এছাড়া দেবদূত পড়িকল ২০ বলে করেন ২৮ রান।গুজরাটের মোহাম্মদ সামি, জশ দয়াল, রবিশ্রীনিবাসন ও পান্ডিয়া প্রত্যেকে নেন একটি করে উইকেট।

ঢাকা/এসএম