পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ফাইন ফুডসের মালিকানায় বড় পরিবর্তন আসছে। দেশের একটি শিল্পগ্রুপ কোম্পানিটির শেয়ার কিনে নিচ্ছে। গ্রুপটি এরই মধ্যে ১৫ শতাংশের বেশি শেয়ার বাজার থেকে কিনে নিয়েছে। বর্তমানে কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিত শেয়ার আছে মাত্র পাঁচ শতাংশ। অপরদিকে বিএসইসি’র সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম শেয়ার ধারণের বেঁধে দেওয়া সময়ও শেষ হয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত কোম্পাটির বোর্ডে থাকা পরিচালকরা কোন শেয়ার কেনেননি। ফলে এ কোম্পানির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় আসছে বড় পরিবর্তন।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিত শেয়ার ধারণের পরিমাণ ৩০ শতাংশে উন্নীত করবে বলে জানিয়েছে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ফাইন ফুডস লিমিটেড। সম্প্রতি এসইসিতে এক চিঠির মাধ্যমে নির্দেশনা পরিপালনের কথা জানিয়েছে কোম্পানিটি। এরই মধ্যে দেশের বড় একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গ্রুপ ফাইন ফুডসের ১৫ শতাংশের বেশি শেয়ার বাজার থেকে কিনে নিয়েছে। এ কারণে শেয়ারটির চাহিদা বেড়ে গেছে এবং এর দর তিন মাসের ব্যবধানে ৪২ টাকা থেকে ৯০ টাকায় উঠেছে।

বর্তমানে ফাইন ফুডসের মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে মাত্র ৫.০৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। এ কারণে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণের নির্দেশনা পরিপালনে ২৯ জুলাই ফাইন ফুডসকে চিঠি দেয় এসইসি। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি ফাইন ফুডস কর্তৃপক্ষ এসইসিকে জানিয়েছে, এসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকরা সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম শেয়ার ধারণ করতে ইচ্ছুক। শিগগিরই এ বিষয়ে অগ্রগতি এসইসিকে জানাবে বলে কোম্পানিটি নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে দেওয়া চিঠিতে জানিয়েছে।

২০১৯ সালের ৩০ জুন দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ফাইন ফুডসে পাঁচ পরিচালক রয়েছেন। এর মধ্যে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ছাড়া অন্য সবাই স্বতন্ত্র পরিচালক। নজরুল ইসলামের কাছে কোম্পানির মোট শেয়ারের ৫.০৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। আর কোম্পানির পরিচালক সুজিত সাহার কাছে রয়েছে মাত্র ২৬০টি শেয়ার। এ ছাড়া আরেক স্বতন্ত্র পরিচালক মো. আলম বিশ্বাসের কাছে তিন হাজার ৬৬০টি শেয়ার রয়েছে। এসইসির নির্দেশনা পরিপালন করতে হলে কোম্পানির মোট শেয়ারের ২৪.৯৫ শতাংশ শেয়ার কিনতে হবে। কিন্তু কোম্পানির বর্তমান পরিচালকরা এখনও কোনো শেয়ার কেনার ঘোষণা দেননি।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ফাইন ফুডসের অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ১৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। আর কোম্পানিটির মোট শেয়ারের সংখ্যা ১ কোটি ৩৯ লাখ ৭৩ হাজার। যার সিংহভাগ শেয়ার বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।

এদিকে, কোম্পানিটির হিসাব পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রধান আয়ের উৎস হচ্ছে মাছ চাষ। কিশোরগঞ্জে কোম্পানির মূল প্রজেক্ট। এ ছাড়া ময়মনসিংহে আরেকটি প্রকল্প রয়েছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে এবারই প্রথম সবচেয়ে বেশি মুনাফায় রয়েছে ফাইন ফুডস। চলতি ২০১৯-২০ হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১.৪৪ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ০.১৭ টাকা। গত পাঁচ বছরে এই কোম্পানির সর্বোচ্চ আয় ছিল ২০১৬ সালে। ওই সময় কোম্পানিটির নিট মুনাফা হয় এক কোটি ছয় লাখ টাকা। আর ২০১৯-২০ হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ফাইন ফুডসের নিট মুনাফা হয়েছে দুই কোটি দুই লাখ টাকা।

২০১৯ সালে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ২ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল। এর আগে ২০১৮ সালে ৩ শতাংশ স্টক, ২০১৭ সালে ২ শতাংশ স্টক এবং ২০১৬ সালেও ২ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দিয়েছিল।

মুনাফার দিকে থেকে ২০১৫ সালে কোম্পানিটি লোকসানে ছিল। এরপর ২০১৬ সালে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ০.৯১ টাকা, ২০১৭ সালে ০.৬৫ টাকা, ২০১৮ সালে ০.০৭ টাকা এবং ২০১৯ সালে ইপিএস হয়েছে ০.২৪ টাকা।

কোম্পানিটির ১৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকার বিপরীতে রিজার্ভ রয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা।

শেয়ারটির বর্তমান মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) নীরিক্ষিত আয় অনুযায়ী ৬৭.২১ এবং অনীরিক্ষিত আয় অনুযাযী ৪৭.২৪।

সূত্র: শেয়ারবিজ

 

পুঁজিবাজার ও অর্থনীতির সর্বশেষ সবাদ পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজ ‘বিজনেস জার্নাল

ও ফেসবুক গ্রুপ ‘ডিএসই-সিএসই আপডেট’ এর সাথে সংযুক্ত থাকুন।