বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: দেশীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে বাজার মূলধন সবচেয়ে বেশি ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের। গতকাল পর্যন্ত কোম্পানিটির বাজার মূলধন ৪১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তালিকাভুক্তির এক বছরেরও কম সময়ে ওয়ালটনের ভ্যালুয়েশন বেড়েছে পাঁচ গুণেরও বেশি।

ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ২০২০ সালে তালিকাভুক্ত হয়েছে পুঁজিবাজারে। আর ওয়ালটনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৮ সালে। এরই মধ্যে এটি দেশের শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিকস ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স উৎপাদক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে পুঁজিবাজারে আসে ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ। তালিকাভুক্তির সময় কোম্পানিটির শেয়ারের ভ্যালুয়েশন ছিল ৭ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল লেনদেন শেষে এ ভ্যালুয়েশন দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ১৯২ কোটি টাকায়। এত কম সময়ে বাজার মূলধনে এমন উল্লম্ফন দেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে কখনো দেখা যায়নি।

বাজার মূলধনের দিক দিয়ে এরই মধ্যে গ্রামীণফোন বাদে তালিকাভুক্ত স্থানীয় ও বহুজাতিক সব কোম্পানিকে ছাড়িয়ে গেছে ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ। ডিএসইর গতকালের বাজার মূলধনের ৯ দশমিক ১ শতাংশ দখলে নিয়ে গ্রামীণফোনের পরেই রয়েছে ওয়ালটন। বাজার মূলধনে ওয়ালটনের পরে রয়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি (বিএটিবিসি), রবি আজিয়াটা, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ইউপিজিডিসিএল), রেনাটা লিমিটেড, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) ও বেক্সিমকো লিমিটেড। এগুলোর সবই বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি। আয় ও মুনাফার দিক থেকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শত বছরের পুরনো বহুজাতিক ইলেকট্রনিকস ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স উৎপাদক সিঙ্গার বাংলাদেশকেও ছাড়িয়ে গেছে ওয়ালটন।

ওয়ালটন গ্রুপ ও মার্সেল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এসএম নজরুল ইসলাম। ১৯৭০ সালে ইস্পাত শিল্পের মাধ্যমে তার ব্যবসার যাত্রা। ১৯৭৭ সালে তিনি রেজভি অ্যান্ড ব্রাদার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যার সংক্ষিপ্ত রূপ আরবি গ্রুপ। তবে ওয়ালটনের ব্যবসার প্রসার হয়েছে এসএম নজরুল ইসলামের ছেলে এসএম নুরুল আলম রেজভির হাত ধরে, যিনি বর্তমানে ওয়ালটন গ্রুপের চেয়ারম্যান।

বর্তমানে ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের মোট শেয়ারের ৯৯ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশই রয়েছে এর উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। বাকি শেয়ারের দশমিক ৪৫ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ও দশমিক ৫২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে।

পুঁজিবাজারে কোম্পানিটির বাজার মূলধনে উল্লম্ফনের প্রভাবে এর উদ্যোক্তা পরিচালকেরাও বর্তমানে অন্যতম সম্পদশালীতে পরিণত হয়েছেন। এর মধ্যে ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান এসএম নুরুল আলম রেজভির কাছে থাকা শেয়ারের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। ভাইস চেয়ারম্যান এসএম শামসুল আলমের শেয়ারের মূল্য ৮ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা। পরিচালক এসএম আশরাফুল আলমের শেয়ারের মূল্য ৮ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা। পরিচালক মাহবুবুল আলমের শেয়ারের মূল্য ৭ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা, পরিচালক এসএম রেজাউল আলমের শেয়ারের মূল্য ৫ হাজার ৩০৩ কোটি, পরিচালক এসএম মনজুরুল আলম অভির শেয়ারের মূল্য ৪ হাজার ৭৯ কোটি এবং পরিচালক তাহমিনা আফরোজ তান্না ও রাইসা সিগমা হিমার প্রত্যেকের কাছে কোম্পানিটির ১ হাজার ২২৩ কোটি টাকা মূল্যের শেয়ার রয়েছে।

উল্লেখ্য, বুক বিল্ডিং পদ্ধতির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরুর দিনেই কোম্পানিটির শেয়ারদর ৩৭৮ টাকায় দাঁড়ায়। সর্বশেষ গতকাল ডিএসইতে ১ হাজার ৩৫৯ টাকা ৯০ পয়সায় ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০১৯-২০ হিসাব বছরে ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের আয় হয়েছে ৪ হাজার ১০৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা। ওই হিসাব বছরে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফার পরিমাণ ৭২৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। অন্যদিকে চলতি ২০২০-২১ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) ওয়ালটন হাইটেকের আয় দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৯১ কোটি টাকায়। আগের বছরের একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির আয় ছিল ৩ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা।

ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে রয়েছে রেফ্রিজারেটর (ফ্রস্ট ও নন-ফ্রস্ট), কম্প্রেসর, ফ্রিজার, এয়ারকন্ডিশনার, টিভি, মাইক্রোওয়েভ ও ইলেকট্রিক ওভেন, ওয়াশিং মেশিন, জেনারেটর, ব্যাটারি, ওয়াটার পাম্প, ফ্যান, এলিভেটর এবং কিচেন ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স। বিদেশে রেফ্রিজারেটর, কম্প্রেসর ও এর যন্ত্রাংশ, টিভি ও এয়ারকন্ডিশন রফতানি করছে তারা। ওয়ালটন ব্র্যান্ডের পাশাপাশি মার্সেল ব্র্যান্ডের পণ্যও বিক্রি করে কোম্পানিটি।

ঢাকা/এসআর