বিনিয়োগকারীদের অনাস্থায় লেনদেন কমেছে ১৮১ কোটি টাকা

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: পূর্বের সপ্তাহের (১৬-১৯ মে) ন্যায় সদ্য সমাপ্ত সপ্তাহেও (২২-২৬ মে) দেশের পুঁজিবাজারে দরপতন অব্যাহত। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নানা উদ্দ্যোগেও বাড়েনি বাজার। ধারাবাহিক এই দরপতনে আস্থা হারাচ্ছে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। ফলে বাজারে দিন দিন লেনদেনের পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে।

গত সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৩ হাজার ৫৪ কোটি ২৩ লাখ ৫৯ হাজার ১২০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৩ হাজার ২৩৫ কোটি ৭৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে ১৮১ কোটি ৪৯ লাখ ৯৮ হাজার ৬০৫ টাকার বা ৫.৬১ শতাংশ লেনদেন কমেছে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসই’র বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮ হাজার ২ কোটি টাকা। যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৫ লাখ ৯ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। অর্থাৎ গেল সপ্তাহে ডিএসই’র বাজার মূলধন কমেছে ১ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহে বাজার মূলধন কমে ২১ হাজার ১৪০ কোটি টাকা। বাজার মূলধন কমার অর্থ ডিএসইতে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের দাম সম্মিলিতভাবে ওই পরিমাণ কমে গেছে।

এতে গত সপ্তাহে ডিএসই’র প্রধান মূল্যসূচক ডিএসই-এক্স কমেছে ২০ দশমিক ২৭ পয়েন্ট বা দশমিক ৩২ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ৩০৭ দশমিক ২২ পয়েন্ট বা ৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ। তার আগের দুই সপ্তাহে কমে ৯০ দশমিক ২০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং ৬ দশমিক ৭০ পয়েন্ট বা দশমিক ১০ শতাংশ। অর্থাৎ চার সপ্তাহের টানা পতনে ডিএসই’র প্রধান মূল্যসূচক হারিয়েছে ৪২৩ পয়েন্ট।

গত সপ্তাহজুড়ে এই সূচকটি কমেছে ৯ দশমিক ২৯ পয়েন্ট বা দশমিক ৪০ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ৯০ দশমিক ২৪ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। তার আগের দুই সপ্তাহে কমে ৫৩ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং ১৭ দশমিক ৩১ পয়েন্ট বা দশমিক ৭০ শতাংশ। অর্থাৎ চার সপ্তাহের টানা পতনে ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত সূচকটি কমেছে ১৭১ পয়েন্ট।

গত সপ্তাহেও এই সূচকটি কমেছে ৯ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট বা দশমিক ৬৭ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ৪৯ দশমিক ১৩ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ। তার আগের দুই সপ্তাহে কমে ১৪ দশমিক ৮১ পয়েন্ট বা ১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ এবং ১৭ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২০ শতাংশ। অর্থাৎ চার সপ্তাহের পতনে এই সূচকটি কমেছে ৯০ পয়েন্ট।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে ৩৯৩টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট কেনাবেচা হয়। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৬১টির, কমেছে ১৯৫টির। আর ৩১টির দাম ছিল অপরিবর্তিত এবং ৬টির লেনদেন হয়নি।

অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ৮৮ কোটি ৫১ লাখ ৭২ হাজার ৭৫৫ টাকার। আর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ১২১ কোটি ৩৪ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৫ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন ৩২ কোটি ৮৩ লাখ ০৩ হাজার ১৮০ টাকা বা ২৭ শতাংশ কমেছে।

সপ্তাহটিতে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৫৮.৯৫ পয়েন্ট বা ০.৮৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ২৮০.৭৭ পয়েন্টে। সিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে সিএসসিএক্স ৯৮.১০ পয়েন্ট বা ০.৮৮ শতাংশ, সিএসই-৩০ সূচক ১১২.৫৫ পয়েন্ট বা ০.৮৪ শতাংশ, সিএসই-৫০ সূচক ১০.২৯ পয়েন্ট বা ০.৭৫ শতাংশ এবং সিএসআই ৯.৫১ পয়েন্ট বা ০.৮১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১০ হাজার ৯৬৬.৫৯ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ২৬০.৯৫ পয়েন্টে, এক হাজার ৩৬৫.৭০ পয়েন্টে এবং এক হাজার ১৬৩.৩৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ৩৪৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১১৯টির বা ৩৪.৬৯ শতাংশের দর বেড়েছে, ২০৪টির বা ৫৯.৪৮ শতাংশের কমেছে এবং ২০টির বা ৫.৮৩ শতাংশের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম গত বৃহস্পতিবার (২৬ মে) বলেন, পুঁজিবাজারের নানান বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দীর্ঘ এক ঘন্টার আলাপ হয়েছে। সবাই ধৈর্য ধরুন। গুজবে কান দিয়ে প্রতারিত হবেন না। সমস্যা অনেকাংশে কেটে যাবে। পুঁজিবাজার বড় করতে কমিশন দিন রাত কাজ করে যাচ্ছে। মন্ত্রনালয়সহ সবাই আমাদেরকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে। এতে করে আগামী সপ্তাহ থেকে পুঁজিবাজারে ভালো হবে বলে জানিয়েছেন বিএসইসির চেয়ারম্যান।

ঢাকা/এসএ

আরো পড়ুন: পুঁজিবাজার আগামী সপ্তাহ থেকে ভালো হবে: শিবলী রুবাইয়াত