বিশ্বে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৬ কোটি ১৫ লাখ ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, মৃত মানুষের সংখ্যা ১৪ লাখ ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে।

জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য বলছে, আজ শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল আটটা পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৬ কোটি ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫৩১। একই সময়ে বিশ্বে করোনায় মোট মারা গেছেন ১৪ লাখ ৪১ হাজার ৩৩৫ জন।

জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের  তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত বিশ্বে করোনা থেকে সেরে ওঠা মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩৩।

 

বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৩০ লাখ ৮৬ হাজার ২৬৮। দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ২ লাখ ৬৪ হাজার ৮৪২ জন।

ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় ভারতের অবস্থান দ্বিতীয়। ভারতে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৯৩ লাখ ৯ হাজার ৭৮৭। দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৭১৫ জন।

ব্রাজিল আছে তৃতীয় অবস্থানে। ব্রাজিলে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৬২ লাখ ৪ হাজার ২২০। দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৯৭৪ জন।

তালিকায় ফ্রান্সের অবস্থান চতুর্থ। রাশিয়া পঞ্চম। স্পেন ষষ্ঠ। যুক্তরাজ্য সপ্তম। ইতালি অষ্টম। আর্জেন্টিনা নবম। কলম্বিয়া দশম। তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ২৫তম।
গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়।

চীনে করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যু হয় চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি। তবে তার ঘোষণা আসে ১১ জানুয়ারি।

চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি চীনের বাইরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় থাইল্যান্ডে। পরে বিভিন্ন দেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ে।

করোনার প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ জানুয়ারি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

গত ২ ফেব্রুয়ারি চীনের বাইরে করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ফিলিপাইনে।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাস থেকে সৃষ্ট রোগের নামকরণ করে ‘কোভিড-১৯’।

গত ১১ মার্চ করোনাকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

 

বাংলাদেশ পরিস্থিতি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গতকাল শুক্রবারের তথ্যমতে, দেশে ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৭১১ জনের দেহে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৬ হাজার ৫৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সুস্থ হয়েছেন ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৬৭৬ জন।

পরীক্ষার সংখ্যা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ। দেশে এখন পর্যন্ত সংক্রমণ বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্তের কথা জানায় সরকার।

মাঝে করোনা সংক্রমণ কমতে দেখা গেলেও কিছুদিন ধরে রোগী শনাক্তের হার আবার ঊর্ধ্বমুখী। মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে।

দেশে গতকাল সকাল আটটা পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ২ হাজার ২৭৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। গতকাল দেশে ১৬ হাজার ৩৭৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়।