বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদকঃ দেশে প্রতিবছর যাত্রা শুরু করে ২০০-টিরও বেশি স্টার্টআপ। বর্তমানে ১২ শতাধিক দেশীয় উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। সম্ভাবনাময় এ খাতে প্রায় ২৪৭ মিলিয়ন ডলারের বিদেশী বিনিয়োগ এসেছে। তবে বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতি ও বাংলাদেশ নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণায় দেশের স্টার্টআপে কমছে বিদেশি বিনিয়োগ। আজ বৃহস্পতিবার (৬ মে) ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অ্যান্ড প্রাইভেট ইক্যুইটিজ এসোসিয়েশনের এক প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনের সাবেক কমিশনার আরিফ খান।

তিনি বলেন, ২০১৭ সালে দেশীয় স্টার্টআপে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল মাত্র ৭ মিলিয়ন ডলার। ২০১৮ সালে যা ১০৩ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। ২০১৯ ও ২০২০ সালে যথাক্রমে ৯১ ও ৩৮ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পায় দেশীয় স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলো। দেশের স্টার্টআপে ২০২১ সালে এ পর্যন্ত ৩১ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এসেছে।
আরিফ খান আরও বলেন, সরকার স্টার্টআপের বিকাশে যথেষ্ট আন্তরিক। করোনার মধ্যেও ২০২১ সালে দেশের ৫০টি স্টার্টআপে ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড। তবে বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, ইজ অব ডুয়িং বিজনেসে বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়া অবস্থান, গ্লোবাল ব্র্যান্ডিং না করাকেই দেখছেন তিনি।

বিষয়টি স্বীকার করে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, আমাদের ইমেজ সঙ্কট রয়েছে। এটাকে সামগ্রিকভাবেই মোকাবিলা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে স্টার্টআপের ব্যাপক সম্ভাবনা আছে। এটাকে সাহায্য সহযোগিতা করা দরকার। সবাই মিলে এমন একটা পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে দেশের এই স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলো সত্যিকারভাবে অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে। এই স্টার্টআপের হাওয়াটাকে আরও জোরদার করার ব্যবস্থা করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, শিগগিরই অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে সঙ্গে বাজেট নিয়ে আলোচনা হবে। আমি স্টার্টআপের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলব।

সহজ ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা মালিহা কাদের বলেন, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ব্রান্ড ভ্যালু অনেক কম। ইনভেস্টররা বাংলাদেশের কথা শুনলে মনে করে এই দেশ অনেক গরিব কিংবা দুর্যোগকবলিত দেশ। এই অবস্থা থেকে আমাদের উত্তরণ করতে হবে। প্রয়োজনে গ্লোবাল পি আর এজেন্সি হায়ার করে বিদেশি গণমাধ্যমে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং করতে হবে। আমরা গরিব দেশ নই, উন্নয়নশীল ও বিনিয়োগবান্ধব এটা সবাইকে বোঝাতে হবে।
ঢাকা/এসএ