০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মার্চ ২০২৩

ভারত-বাংলাদেশের বাণিজ্য স্থানীয় মুদ্রায় করা যায়: মশিউর রহমান

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৭:১৩:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মার্চ ২০২৩
  • / ৪০৯৯ বার দেখা হয়েছে

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেন, দুদেশের বাণিজ্য স্থানীয় মুদ্রায় করা যেতে পারে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ কাজে লাগিয়ে এ দেশে একক কিংবা যৌথ বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) এবং বাংলাদেশস্থ ভারতীয় দূতাবাসের যৌথ আয়োজনে ‘ভারত ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেন, দুদেশের বাণিজ্য স্থানীয় মুদ্রায় করা যেতে পারে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ কাজে লাগিয়ে এ দেশে একক কিংবা যৌথ বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। দুদেশের রেল যোগাযোগ উন্নয়ন যমুনা রেল সেতু স্থাপন সহ বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে, যা সম্পন্ন হলে যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে প্রভৃত উন্নয়ন পরিলক্ষিত হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে সহজতর করবে। তিনি ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের পাশাপাশি অন্যান্য প্রদেশে বিনিয়োগ ও পণ্য রপ্তানিতে মনোযোগী হওয়ার জন্য বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহবান জানান।

উপদেষ্টা বলেন, কিছু পণ্যের উপর এন্টি-ডাম্পিং আরোপের ফলে আমাদের স্থানীয় উদ্যোক্তারা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখী হচ্ছেন, যা নিরসনে ভারত সরকারকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: সিএমএসএমই খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

অনুষ্ঠানে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ব্যারিস্টার সামীর সাত্তার বলেন, ২০২২ অর্থবছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। শুল্ক বর্হিভূত যোগাযোগ অবকাঠামোর প্রয়োজনীয় উন্নয়নের মাধ্যমে দু’দেশের বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব। তিনি বলেন, ২০২১ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলে হয়েছে বাংলাদেশ-ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় উন্নোয়ন করা সম্ভব হলে বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় আয় যথাক্রমে ১৭% ও ৮% বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি জানান, দু’দেশের রয়েছে পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম সীমান্ত, এমন অবস্থায় সীমান্ত এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারিত হলে দেশদুটোর রাজস্ব আহোরণ বৃদ্ধির উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

ব্যারিস্টার সাত্তার বলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং বাংলাদেশের যোগাযোগের উন্নয়নে দুদেশের আঞ্চলিক বাজার ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, ভারতীয় উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে ইতোমধ্যে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং বাংলাদেশের বিনিয়োগ সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে এগ্রো-প্রসেসিং, টেক্সটাইল, অটোমো বাইল, তথ্য-প্রযুক্তি ও সেবা প্রভৃতি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তিনি জানান, গত এক দশকে দুদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে এবং প্রস্তাবিত ‘সেপা’ চুক্তির বাস্তাবয়ন হলে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থায় অগ্রগতি পরিলক্ষিত হবে।

হাইকমিশনার বলেন, ব্যবসা পরিচালনায় ব্যয় হ্রাসকল্পে আধুনিক সড়ক, রেল ও নদী পথের যোগাযোগ এবং অবকাঠামো খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে এবং বর্তমানে বাংলাদেশের ৭টি কাস্টমস ও চেকপোষ্ট পয়েন্টের অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ চলছে, যা সম্পন্ন হলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরো সহজতর হবে।

তিনি জানান, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ৭টি স্থানে ‘বর্ডার-হাট’ পরিচালনার মাধ্যম স্থানীয় উদ্যোক্তাবৃন্দ সহজেই পণ্য রপ্তানিতে সক্ষম হয়েছেন এবং সামনের দিনগুলোতে বডার হাট আরো বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশী উদ্যোক্তারা অন্যান্য দেশে পণ্য রপ্তানিতে কলকাতা ও দিল্লী বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারে।

সেমিনারে ভারতীয় দূতাবাসের ফাস্ট সেক্রেটারি (অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য) প্রতীক নেগি এবং ফাস্ট সেক্রেটারি (চ্যান্সেরি প্রধান, প্রকল্প ও রাজনৈতিক) সালোনি সাহাই মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

তারা বলেন, দুদেশের মোট বাণিজ্যের ৪০ শতাংশ হয়ে থাকে স্থলবন্দরের মাধ্যমে এবং এক্ষেত্রে বেনাপল-পেট্রোপল বন্দরের ব্যবহারের হার প্রায় ৭০%।

মূল প্রবন্ধে জানানো হয়, গত ৫ বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গত ৩ বছরে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানী দ্বিগুন হয়েছে, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এছাড়াও বাংলাদেশের রেলওয়ে খাতের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভারত সরকার বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, যার সুফল শ্রীঘ্রই কাজে আসবে। সেই সাথে তারা বলেন, ‘ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ পাইপলাইন’ এর কার্যক্রম চালু হলে প্রতিবছর প্রায় ১ মিলিয়ন মেট্রিক টন ডিজেল পরিবহন সক্ষম হবে, যেটি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

মুক্ত আলোচনায় প্রাক্তন পররাষ্ট্র সচিব ফারুক সোবহান, ডিসিসিআই’র প্রাক্তন সভাপতি মতিউর রহমান, আসিফ ইব্রাহীম, মোঃ সবুর খান, শামস মাহমুদ, এমসিসিআই’র প্রাক্তন সভাপতি আনিস এ দৌলা, ঢাকা চেম্বারের পরিচালক মালিক তালহা ইসমাইল বারী, খায়রুল মজিদ মাহমুদ প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।

তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রস্তাবিত ‘কম্প্রিহেনসিভ প্রিফারেনশিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (সেপা)’তে দুদেশের বিদ্যমান শুল্ক ও প্যারা-ট্যারিফ প্রতিবন্ধকতার নিরসন হবে, যা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ত্বরান্তিতকরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে, পাশাপাশি বাংলাদেশের তথ্য-প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রভৃতি খাতে ভারতের উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহবান জানান। এছাড়া বাংলাদেশী উদ্যোক্তাদের ভারতের ভিসা গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজতর করার উপর জোরারোপ করেন।

ঢাকা/টিএ

শেয়ার করুন

English Version

ভারত-বাংলাদেশের বাণিজ্য স্থানীয় মুদ্রায় করা যায়: মশিউর রহমান

আপডেট: ০৭:১৩:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মার্চ ২০২৩

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেন, দুদেশের বাণিজ্য স্থানীয় মুদ্রায় করা যেতে পারে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ কাজে লাগিয়ে এ দেশে একক কিংবা যৌথ বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) এবং বাংলাদেশস্থ ভারতীয় দূতাবাসের যৌথ আয়োজনে ‘ভারত ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেন, দুদেশের বাণিজ্য স্থানীয় মুদ্রায় করা যেতে পারে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ কাজে লাগিয়ে এ দেশে একক কিংবা যৌথ বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। দুদেশের রেল যোগাযোগ উন্নয়ন যমুনা রেল সেতু স্থাপন সহ বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে, যা সম্পন্ন হলে যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে প্রভৃত উন্নয়ন পরিলক্ষিত হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে সহজতর করবে। তিনি ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের পাশাপাশি অন্যান্য প্রদেশে বিনিয়োগ ও পণ্য রপ্তানিতে মনোযোগী হওয়ার জন্য বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহবান জানান।

উপদেষ্টা বলেন, কিছু পণ্যের উপর এন্টি-ডাম্পিং আরোপের ফলে আমাদের স্থানীয় উদ্যোক্তারা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখী হচ্ছেন, যা নিরসনে ভারত সরকারকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: সিএমএসএমই খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

অনুষ্ঠানে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ব্যারিস্টার সামীর সাত্তার বলেন, ২০২২ অর্থবছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। শুল্ক বর্হিভূত যোগাযোগ অবকাঠামোর প্রয়োজনীয় উন্নয়নের মাধ্যমে দু’দেশের বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব। তিনি বলেন, ২০২১ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলে হয়েছে বাংলাদেশ-ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় উন্নোয়ন করা সম্ভব হলে বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় আয় যথাক্রমে ১৭% ও ৮% বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি জানান, দু’দেশের রয়েছে পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম সীমান্ত, এমন অবস্থায় সীমান্ত এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারিত হলে দেশদুটোর রাজস্ব আহোরণ বৃদ্ধির উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

ব্যারিস্টার সাত্তার বলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং বাংলাদেশের যোগাযোগের উন্নয়নে দুদেশের আঞ্চলিক বাজার ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, ভারতীয় উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে ইতোমধ্যে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং বাংলাদেশের বিনিয়োগ সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে এগ্রো-প্রসেসিং, টেক্সটাইল, অটোমো বাইল, তথ্য-প্রযুক্তি ও সেবা প্রভৃতি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তিনি জানান, গত এক দশকে দুদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে এবং প্রস্তাবিত ‘সেপা’ চুক্তির বাস্তাবয়ন হলে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থায় অগ্রগতি পরিলক্ষিত হবে।

হাইকমিশনার বলেন, ব্যবসা পরিচালনায় ব্যয় হ্রাসকল্পে আধুনিক সড়ক, রেল ও নদী পথের যোগাযোগ এবং অবকাঠামো খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে এবং বর্তমানে বাংলাদেশের ৭টি কাস্টমস ও চেকপোষ্ট পয়েন্টের অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ চলছে, যা সম্পন্ন হলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরো সহজতর হবে।

তিনি জানান, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ৭টি স্থানে ‘বর্ডার-হাট’ পরিচালনার মাধ্যম স্থানীয় উদ্যোক্তাবৃন্দ সহজেই পণ্য রপ্তানিতে সক্ষম হয়েছেন এবং সামনের দিনগুলোতে বডার হাট আরো বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশী উদ্যোক্তারা অন্যান্য দেশে পণ্য রপ্তানিতে কলকাতা ও দিল্লী বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারে।

সেমিনারে ভারতীয় দূতাবাসের ফাস্ট সেক্রেটারি (অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য) প্রতীক নেগি এবং ফাস্ট সেক্রেটারি (চ্যান্সেরি প্রধান, প্রকল্প ও রাজনৈতিক) সালোনি সাহাই মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

তারা বলেন, দুদেশের মোট বাণিজ্যের ৪০ শতাংশ হয়ে থাকে স্থলবন্দরের মাধ্যমে এবং এক্ষেত্রে বেনাপল-পেট্রোপল বন্দরের ব্যবহারের হার প্রায় ৭০%।

মূল প্রবন্ধে জানানো হয়, গত ৫ বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গত ৩ বছরে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানী দ্বিগুন হয়েছে, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এছাড়াও বাংলাদেশের রেলওয়ে খাতের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভারত সরকার বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, যার সুফল শ্রীঘ্রই কাজে আসবে। সেই সাথে তারা বলেন, ‘ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ পাইপলাইন’ এর কার্যক্রম চালু হলে প্রতিবছর প্রায় ১ মিলিয়ন মেট্রিক টন ডিজেল পরিবহন সক্ষম হবে, যেটি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

মুক্ত আলোচনায় প্রাক্তন পররাষ্ট্র সচিব ফারুক সোবহান, ডিসিসিআই’র প্রাক্তন সভাপতি মতিউর রহমান, আসিফ ইব্রাহীম, মোঃ সবুর খান, শামস মাহমুদ, এমসিসিআই’র প্রাক্তন সভাপতি আনিস এ দৌলা, ঢাকা চেম্বারের পরিচালক মালিক তালহা ইসমাইল বারী, খায়রুল মজিদ মাহমুদ প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।

তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রস্তাবিত ‘কম্প্রিহেনসিভ প্রিফারেনশিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (সেপা)’তে দুদেশের বিদ্যমান শুল্ক ও প্যারা-ট্যারিফ প্রতিবন্ধকতার নিরসন হবে, যা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ত্বরান্তিতকরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে, পাশাপাশি বাংলাদেশের তথ্য-প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রভৃতি খাতে ভারতের উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহবান জানান। এছাড়া বাংলাদেশী উদ্যোক্তাদের ভারতের ভিসা গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজতর করার উপর জোরারোপ করেন।

ঢাকা/টিএ