আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মহম্মদপুর উপজেলার পলাশবাড়িয়া ইউনিয়নের বেথড়ি গ্রামে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ কমপক্ষে ২০ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে অর্ধশতাধিক বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করে। আবারও সংঘর্ষ ও লুটপাট এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, বেথড়ি গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিম বাবু মাস্টার ও বিএনপি নেতা সাবেক ইউপি সদস্য আহাদুজ্জামানের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় বেথড়ি বাজারে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন নিয়ে বাবু মাস্টার তার লোকজন ডেকে আলোচনা করছিলেন। খবর পেয়ে আহাদুজ্জামানের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন দেশিয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মধ্যরাত পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে নারীসহ কমপক্ষে ২০ ব্যক্তি আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত জামাল শেখ (২৮), রেজাউল শেখ (৪০), মন্নু শেখ (৫০), আরজান (৩০), হেনা (৫০), ঝর্ণা (৩২), হাকিম মোল্যা (৬০) ও জাকিরকে (১০) মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অন্যরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে গোপনে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। 

খবর পেয়ে মহম্মদপুর থানা পুলিশ রাত নয়টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এর কিছুক্ষণ পর উভয় পক্ষের লোকজন সাধারণ মানুষের বাড়িঘরে ব্যাপক হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট শুরু করে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া একটি পাকাঘরসহ অর্ধশত বসত বাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতে থাকার অভিযোগে মফিজ মাস্টার নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। 

শনিবার দুপুরে সরজমিনে বেথড়ি গ্রামে গিয়ে বাবু মাস্টার ও আহাদ মেম্বারের বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি। বাড়িতে থাকা অন্য সদস্যরা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। ওই এলাকার ওহিদুজ্জামান বলেন, ‘আমার ঘরে থাকা নগত ৩০ হাজার টাকাসহ অনেক মালামাল লুটে নিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন।’

হেনা বেগম বলেন, ‘আমার ঘরের সবকিছু নিয়ে গেয়ে ওরা। এছাড়া অনেকের ঘরের টিভি, ফ্রিজ ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ভাংচুর করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন।’

শনিবার দুপুরে এ রিপোর্ট লেখা প্রর্যন্তু উভয় পক্ষ মামলার প্রস্তুতি নিয়েছে। মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারক বিশ্বাস বলেন, ‘আবার যাতে সংঘর্ষ না হয় এজন্য ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে মফিজ মাস্টার নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তবে এজাহারে নাম না থাকলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।’