দেশজুড়ে ‘নীরব ধর্মঘট’ পালনের পরদিন বৃহস্পতিবারও মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীরা ফের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করার পরিকল্পনা করেছেন।

গত কয়েকদিনে রাস্তার বিক্ষোভের মাত্রা কমেছিল। বৃহস্পতিবার থেকে নেতাকর্মীদের ফের রাস্তায় নামার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। সকালে ইতোমধ্যে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন শহরের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন। খবর রয়টার্সের

বুধবার মিয়ানমারের বিক্ষোভকারীরা ‘নীরব ধর্মঘট’ অর্থাৎ ‘অল শাটডাউন’ করেন। মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় শহর ইয়াঙ্গুন ও মনুইয়াতে ঘর থেকে বের হননি, কোনো ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও খোলেননি তারা। বুধবার রাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে কোথাও কোথাও। 

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:বিজনেসজার্নালবিজনেসজার্নাল.বিডি

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টে আই থিনজার মাং নামে এক বিক্ষোভকারী বলেছেন, ‘সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় নীরবতার পরে আসে।’

মঙ্গলবার সাত বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়। বুধবার রাতে মিয়ানমারের দ্বিতীয় শহর মান্দালয়ে আরও পাঁচ বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। এদিন ১৬ বছর বয়সী গুলিবিদ্ধ একজনের মৃত্যু হয়েছে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। এ নিয়ে চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ২৮৬ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিকাল প্রিজনার্স (এএপিপি) নামে একটি অধিকার সংগঠন। 

এদিকে, ইয়াঙ্গুনের ইনসেইন কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন ৬২৮ জন বিক্ষোভকারী। বুধবার সকালে তাদের মুক্তি দিয়েছে জান্তা সরকার। দেশটিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৮০০ জনকে আটক করা হয়েছে। 

দেশটির নেত্রী অং সান সু চির নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকারকে গত ১ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতাচ্যুত করার পর দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশটি চরম সংকটের মধ্যে পড়েছে। অচলাবস্থার মধ্যে পুরো মিয়ানমার। প্রায় ১০ বছরের অস্থায়ী গণতান্ত্রিক সংস্কারের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখলে নিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী।

দেশটিতে সেনা অভ্যত্থানের পর থেকেই এর বিরুদ্ধে গণতন্ত্রপন্থীদের বিক্ষোভ চলছে। প্রায় প্রতিদিনই পুলিশের গুলিতে বিক্ষোভকারীদের প্রাণ যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মিয়ানমারের জান্তাবাহিনীকে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে চাপে ফেলার চেষ্টাও করা হচ্ছে।

বিজনেসজার্নাল/ঢাকা/এনইউ

 

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here