বিজনেস জার্নাল ডেস্কঃ সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিক শেয়ারদর ও লেনদেন বৃদ্ধির পেছনে অপ্রকাশিত কোনো মূল্যসংবেদনশীল তথ্য নেই অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ও এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এক চিঠির জবাবে এ তথ্য জানিয়েছে কোম্পানি দুটি।

অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স: বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ৪ এপ্রিল কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৩৫ টাকা। এর পর থেকেই শেয়ারটির দর অস্বাভাবিক হারে বাড়তে শুরু করে। সর্বশেষ গতকাল শেয়ারটি ৪৫ টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। শেয়ারদরের পাশাপাশি কোম্পানিটির অস্বাভাবিক লেনদেনও দেখা গেছে। এর মধ্যে গত ৭ এপ্রিল কোম্পানিটির ২ লাখ ৬১ হাজার ৪৩৪টি শেয়ার লেনদেন হয়। পরের দিনই সেটি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে ৩৮ লাখ ৫২ হাজার ৮২২টি শেয়ার লেনদেন হয়। আর সর্বশেষ গতকাল কোম্পানিটির ২৮ লাখ ৬২ হাজার ৮১৩টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের মোট ১০ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদানের সুপারিশ করেছে অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ। এর মধ্যে ৫ শতাংশ স্টক ও ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ রয়েছে। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৭২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ২৬ পয়সা। এ হিসাবে কোম্পানিটির বার্ষিক ইপিএস বেড়েছে ৩৬ দশমিক ৫ শতাংশ। ৩১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি আয় (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৮ টাকা ১১ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৭ টাকা ৩৯ পয়সা।

সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ঘোষিত লভ্যাংশসহ অন্যান্য এজেন্ডা পর্যালোচনা ও অনুমোদনের জন্য ২৮ এপ্রিল বেলা ১১টায় ডিজিটাল প্লাটফর্মে কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করা হয়েছে।

এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স: কোম্পানিটির এক মাসের বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২১ মার্চ কোম্পানিটির শেয়ারের সমাপনী দর ছিল ৫২ টাকা ৯০ পয়সা। পরের দিনই যা বেড়ে ৬২ টাকায় দাঁড়ায়। সর্বশেষ গতকাল শেয়ারটির সমাপনী দর দাঁড়ায় ৬৭ টাকায় ৯০ পয়সায়। অন্যদিকে লেনদেন চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ৩১ মার্চ কোম্পানিটির ১ লাখ ৪৭ হাজার ১২১টি শেয়ার লেনদেন হয়। এর পর থেকেই লেনদেন অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকে। ৬ এপ্রিল ৫২ লাখ ৬৬ হাজার ৩১টি শেয়ার লেনদেন হয়। সর্বশেষ গতকাল ৩২ লাখ ৭১ হাজার ৬০২টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ১ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ৯৩ পয়সা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ইপিএস ছিল ৫০ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৬৫ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর এনএভিপিএস ছিল ২০ টাকা ৬৮ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২০ টাকা ৪৫ পয়সা।

২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ৪২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।  মোট শেয়ার সংখ্যা ৪ কোটি ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৩৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ উদ্যোক্তা-পরিচালক, ২৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক ও বাকি ৩৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।

ঢাকা/এসএ