বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সারা দেশে যেকোনো সময় শাটডাউন ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। এ বিষয়ে করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশকে যৌক্তিক বলে মনে করেন তিনি। এর আগে গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সারা দেশে শাটডাউনের সুপারিশের কথা জানায় সরকার গঠিত করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। সংক্রামক এ রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় এবং জনজীবনের ক্ষতি প্রতিরোধের জন্য সারা দেশে কমপক্ষে ১৪ দিন সম্পূর্ণ ‘শাটডাউনের’ সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সুপারিশের বিষয়ে সরকারের অবস্থানের বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেহেতু করোনার সংক্রমণ বাড়ছে, সেজন্য দেশের বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয়ভাবেও কঠোর বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় সেটি চলছে। সেখানে তা কার্যকরও হচ্ছে। এখন ঢাকার চারপাশের সাত জেলায়ও কঠোর বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছে। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি সরকার কিছুদিন ধরেই গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

বুধবার রাতে করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির ৩৮তম সভায় শাটডাউন করার সুপারিশের সিদ্ধান্ত হয়। যেসব স্থানে পূর্ণ শাটডাউন করা হয়েছে সেখানে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ হয়েছে। তবে পঞ্চাশের বেশি জেলায় সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সারা দেশে ১৪ দিন সম্পূর্ণ শাটডাউনের সুপারিশ করেছে কমিটি। শাটডাউন বলতে জরুরি সেবা ছাড়া সবকিছু বন্ধ রাখার কথা উল্লেখ করে কমিটি।

কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ সময়ে জরুরি সেবা ছাড়া যানবাহন, অফিস-আদালতসহ সবকিছু বন্ধ রাখা প্রয়োজন। এ ব্যবস্থা কঠোরভাবে পালন করতে না পারলে যত প্রস্তুতিই থাকুক না কেন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অপ্রতুল হয়ে পড়বে।

মে মাসের শুরুতে দেশে প্রথম নভেল করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এরপর ভারত সীমান্তবর্তী কয়েকটি জেলাকে স্থানীয়ভাবে লকডাউন করা হয়। তবে এতেও সংক্রমণ বিস্তার ঠেকানো যায়নি। চলতি মাসের শুরুতে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট (ভারতীয় করোনার ধরন) কমিউনিটি ট্রান্সমিশন (গোষ্ঠীগত সংক্রমণ) ঘটায়। গতকালও দেশে আড়াই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে।

মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ে সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্ন জেলায় কভিড বিস্তারের মধ্যে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, আগামী মাসের শুরুতে দেশে তৃতীয় পর্যায়ে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে। এতে পরিস্থিতি দ্বিতীয় পর্যায়ের চেয়েও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশে দ্বিতীয় পর্যায়ে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ৫ এপ্রিল থেকে সাতদিনের জন্য গণপরিবহন চলাচলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। পরে তা আরো দুদিন বাড়ানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত আরো কঠোর বিধিনিষেধ দিয়ে সর্বাত্মক লকডাউন শুরু হয়। পরে তা আরো আট দফা বাড়িয়ে আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও বিভিন্ন এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধ চলছে।

ঢাকা/এসআর