রাজস্ব বাড়লে ভ্যাটের হার কমবে বলে মন্তব্য করেছেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

তিনি বলেন, আমাদের এনবিআরের একটা ফর্মুলা আছে। যত রেভিনিউ (রাজস্ব) বৃদ্ধি পাবে তত আমরা রেট কমাতে পারবো। যত আয় বৃদ্ধি পাবে তত আমরা ভ্যাট কমাতে পারবো।

আজ বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে পল্টনের ফারস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে ইলেকট্রনিক ফিসকাল ডিভাইস (ইএফডি) ও সেলস ডাটা কন্ট্রোলার (এসডিসি) ব্যবহার ও উপকারিতা সম্পর্কে জানাতে আয়োজিত সেমিনার ও আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, যাদের ইএফডি মেশিন আছে, তারা জানুয়ারি থেকে কম্ফোর্ট ফিল করবেন। ইএফডি মেশিনের মাধ্যমে একটা করে ইনভয়েস জেনারেট হয়। এই ইনভয়েসের একটা ইউনিক নম্বর থাকে। আমরা পরিকল্পনা করেছি জানুয়ারি থেকে ইএফডি মেশিন থেকে যে ইনভয়েস পাব, সেগুলোর ওপর লটারি করবো। প্রতি মাসে ইনভয়েসগুলোর ওপর লটারি হবে। সেই লটারিতে আমরা বিভিন্ন ধরনের পুরস্কার রেখেছি।

লটারিতে প্রাপ্ত অর্থের জন্য ক্রেতা ভ্যাট দিতে উদ্বুদ্ধ হবেন জানিয়ে তিনি বলেন, যখন লটারিতে নগদ অর্থ পাওয়া যাবে তখন একজন কাস্টমার ২-৩ টাকা বেশি দিয়ে ভ্যাট দেওয়ার জন্য দ্বিধা করবেন না। তখন তার কাছে ভ্যাট চাপ মনে হবে না। এ কারণে লটারির টিকিট নিতে ক্রেতা ইএফডি মেশিন যেসব দোকানে আছে সেখান থেকে কেনাকাটা করবে। এর ফলে যে দোকানে ইএফডি মেশিন নেই সেই দোকানে বিক্রি কমবে।

আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, ভ্যাট নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে। বিক্রেতাকে ভ্যাটকে বোঝা মনে করেন আর ক্রেতারা ভাবেন তাদের প্রদেয় ভ্যাট সরকারের কাছে পৌঁছায় না। আমরা চাই জনগণের ভ্যাট না দেওয়ার মানসিকতা দূর হোক।

ঢাকা দক্ষিণের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ঢাকা দক্ষিণের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এনবিআরের সদস্য (মূসক বাস্তবায়ন ও আইটি) ড. আব্দুল মান্নান শিকদার। আরও উপস্থিত ছিলেন এনবিআরের সদস্য (মূসক ও নীরিক্ষা) জাকিয়া সুলতানাসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি।