পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রিং শাইন টেক্সটাইলের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অর্থ ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। এখন থেকে কোম্পানিটি আইপিও অর্থ ব্যবহার করতে পারবে।

জানা যায়, গত ছয় মাস ধরে আইপিও অর্থের ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকার কারণে সেই টাকা ব্যবহার করতে পারেনি কোম্পানির ম্যানেজমেন্ট।

এর আগে অনিয়মিত নগদ অর্থ খরচের অভিযোগে কোম্পানির আইপিও অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করেছিল বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

পুঁজিবাজার থেকে ২০১৯ সালের অক্টোবরে আইপিওর মাধ্যমে ১৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে রিং শাইন। সংগৃহীত অর্থ থেকে ২০২০ সালের জুলাই পর্যন্ত ৫০ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করে। অবশিষ্ট ১০০ কোটি টাকা ব্যাংকে ফ্রিজ থাকে।

কোম্পানিটির বিরুদ্ধে উরি ব্যাংক অভিযোগ করেছিল যে, কোম্পানিটি উরি ব্যাংক লিমিটেডের ঢাকা শাখার পরিবর্তে প্রিমিয়ার ব্যাংকে ২২ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করেছে। এ কারণে উরি ব্যাংক বিএসইসিকে তার ঋণ পুনরুদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য হস্তক্ষেপের অনুরোধ করেছিল।

তবে রিং শাইন দাবি করেছে যে উরি ব্যাংকের পরিবর্তে প্রিমিয়ার ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের বিষয়টি বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) আলোচিত এবং অনুমোদিত হয়েছে।

এছাড়া, কোম্পানির উদ্যোক্তা এবং পরিচালকরা হলেন তাইওয়ানিজ, তারা উচ্চ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে পূর্বের কোনও বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই চীনা নববর্ষ উদযাপন করতে নিজ দেশে চলে যান।

উরি ব্যাংকের অভিযোগ এবং না জানিয়ে নিজ দেশে তাদের চলে যাওয়ায় ফিরে আসার অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার কারণে বিএসইসি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে কোম্পানিটির আইপিও অর্থের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার জন্য অনুরোধ করেছিল।

উল্লেখ্য, গত বছরের মার্চ মাসে রিং শাইনের আইপিও অনুমোদন করে কমিশন। কোম্পানি আইপিও থেকে উত্তোলনকৃত অর্থ যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ক্রয় এবং মেরামত এবং ঋণ পরিশোধের জন্য ব্যবহার করতে চেয়েছিল।

কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে এই কোম্পানির নিট মুনাফা ছিল ২৯.৪১ কোটি টাকা, যা আগের বছরে ছিল ৪২.০৫ কোটি টাকা।

তৃতীয় প্রান্তিকে এই সংস্থার লোকসান হয়েছে ৭.৯২ কোটি টাকা। এ সময় কোম্পানির কর্মকান্ড কিছুটা স্থবির হয়ে যায়। ফলে রফতানি কমে যায় ৬৮.৫৪ শতাংশ।

সূত্র মতে, কোভিড-১৯ সময়কালে কোম্পানি ধারণক্ষমতার প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়ে চলছে। যে কারণে এর রফতানি ও উৎপাদন প্রভাবিত হয়েছে।

কোম্পানিটির ১৯৯৭ সালে একটি বেসরকারী কোম্পানি হিসাবে চালু হয়েছিল এবং পরের বছর এটির উৎপাদন শুরু হয়েছিল।