শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রিং সাইন টেক্সটাইলের পূণ:রায় উৎপাদন শুরুর মাধ্যমে ব্যবসা উন্নয়নের লক্ষ্যে পর্ষদ পূণ:গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একইসঙ্গে কোম্পানির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) ও কোম্পানি সচিবকে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।

মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

দ্বিতীয় কোম্পানি হিসেবে রিং সাইনের পর্ষদ পূণ:গঠন করল বিএসইসি। এর আগে গত ২০ জানুয়ারি আলহাজ্ব টেক্সটাইলের পর্ষদ পূণ:গঠন করেছে।

বিএসইসি রিং সাইন টেক্সটাইলে ৭ জন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিয়েছে। তারা হলেন- পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মেজবাহ উদ্দিন (পিআরএল), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ল্যাদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্সের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সগির হোসাইন খন্দকার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং অ্যান্ড সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, জনতা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. ফোরোজ আলী, পাওয়ার গ্রীডের স্বতন্ত্র পরিচালক ইসতাক আহমেদ শিমুল এবং অ্যাভিয়েশন ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেসের সাবেক মহা ব্যবস্থাপক আব্দুর রাজ্জাক।

এই ৭ জন স্বতন্ত্র পরিচালকের মধ্যে কোম্পানিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মেজবাহ উদ্দিন।

রি সাইনের চলমান মন্দাবস্থা কাটিয়ে তোলার লক্ষ্যে কমিশন পর্ষদ পূণ:গঠন করেছে। এই স্বতন্ত্র পরিচালকদের নেতৃত্বে কোম্পানিটির ব্যবসায় উন্নয়ন হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। যাতে করে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা হবে।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহি পরিচালক ও মূখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বিজনেস আওয়ারকে বলেন, মূলত রিং সাইনের উৎপাদন চালুর জন্য পর্ষদ পূণ:গঠন করা হয়েছে। এছাড়া নতুন পর্ষদ করপোরেট গভর্ণন্সে কোড অনুযায়ি প্রয়োজনীয় কমিটি গঠন করবে। এছাড়া সিএফও ও সচিবের পরিবর্তন করবে।

তিনি বলেন, নতুন পর্ষদ যদি মনে করে আটকে থাকা আইপিও ফান্ড কোম্পানির উন্নয়নে প্রয়োজন, তখন কমিশন ওই ফান্ড ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। কমিশন চায় কোম্পানিটির উন্নয়নের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করতে।

২০১৯ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া রিং সাইনের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে ২০২০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে। করোনার কারণে কাঁচামাল ও রপ্তানি আদেশের সংকটে সাময়িকভাবে লে-অফ বা বন্ধ ঘোষণা করে কোম্পানিটি।

অথচ এই সময় দেশের বস্ত্র খাতের অন্যান্য কোম্পানির কার্যক্রম চালু রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রিং সাইনের বিশাল সম্পদ কাজে লাগিয়ে নতুন পর্ষদ কোম্পানিটিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। আর এই লক্ষ্যেই পর্ষদ পূণ:গঠন করেছে কমিশন।

উল্লেখ্য, রিং সাইনের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৫০০ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এছাড়া ২০৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকার রিজার্ভ রয়েছে। এসব সম্পদের ৬৮.৪৬ শতাংশের মালিকানাই শেয়ারবাজারের বিভিন্ন শ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের হাতে।

ফ্লোর প্রাইস ৬.৪০ টাকায় আটকে থাকা রিং সাইনের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ (এনএভিপিএস) দাড়িঁয়েছে ১৭.৩৯ টাকায়।