মাধ্যমিক স্তরে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের রোল নম্বরের পরিবর্তে আইডি নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শিক্ষার্থীর নামের বানানের প্রথম বর্ণ অনুসারে নির্দিষ্ট ডিজিটের এই আইডি নম্বর দেওয়া হবে। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে গত ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় এবং লটারির মাধ্যমে চলতি শিক্ষাবর্ষে সব শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর পরিকল্পনার কারণে মাধ্যমিকের কোনো শিক্ষার্থীকে রোল নম্বর দেওয়া হবে না।

তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, রোল নম্বরের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাদের মধ্যে সহযোগিতার মনোভাব ও মানসিকতা সৃষ্টির জন্য রোল নম্বর প্রথা তুলে দেওয়া দরকার। তাই করোনা পরবর্তী ভবিষ্যতেও এই একই পদ্ধতি অনুসরণ করার কথা ভাবছে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।

সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানা গেছে গত ৩ জানুয়ারি রোববার জারি করা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের এক চিঠিতে। সারাদেশের সব শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে।

মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক স্বাক্ষরিত এ চিঠিতে বলা হয়, কভিড-১৯ মহামারির কারণে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য ২০২১ শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক পর্যায়ে (ষষ্ঠ থেকে দশম পর্যন্ত) প্রাতিষ্ঠানিক বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় অ্যাসাইনমেন্টভিত্তিক মূল্যায়ন কার্যক্রম সারাদেশে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ মূল্যায়নের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের রোল নম্বর দেওয়া যথাযথ হবে কিনা তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। এছাড়া রোল নম্বর প্রথা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করে, যা শেষ পর্যন্ত গুণগত শিক্ষা অর্জনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। গুণগত শিক্ষা অর্জনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মনোভাব নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহযোগিতামূলক মানসিকতা তৈরি করা প্রয়োজন। তাই নম্বর প্রথার পরিবর্তে আইডি নম্বর ব্যবহার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে।

মহাপরিচালক তার এই চিঠিতে আইডি নম্বর দেওয়ার জন্য দুটি ভিন্ন প্রস্তাবের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দুই পদ্ধতিতে আইডি নম্বর দেওয়া যায়। একটি দৈবচয়ন পদ্ধতিতে। অন্যটি শিক্ষার্থীর নামের বানানের বর্ণ ক্রমানুসারে। এ আলোকে পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করতে মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয় এ চিঠিতে।

মাউশির মাধ্যমিক উইং থেকে জানা গেছে, সারাদেশের অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের নামের বর্ণ ক্রমানুসারে আইডি দেওয়ার বিষয়েই বেশি সাড়া দিয়েছেন। এ নিয়ে তারা মাউশি কর্মকর্তাদের কাছে নানা জিজ্ঞাসা ও পরামর্শও চাইছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) মোমিনুর রশীদ আমিন বলেন, কেবল এ বছরে নয়, পরবর্তী বছরগুলোতেও আইডি নম্বর দেওয়ার এ পদ্ধতি অনুসরণ করার বিষয়ে ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, রোল নম্বর প্রথার বিলুপ্তি হবে। কারণ এর কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা অনভিপ্রেত প্রতিযোগিতা হয়, অনেক সময় সহযোগিতার মনোভাবের অভাবও ঘটে। চেষ্টা করছি ২০২১ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের রোল নম্বরের পরিবর্তে আইডি নম্বর দিতে। পুরো শিক্ষা জীবনেই সে ওই আইডি নম্বর নিয়ে থাকবে, এতে সে ঝরে পড়ছে কিনা তা ট্র্যাক করাও যাবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন জানিয়েছেন, প্রাথমিকে তাদের আইডি নম্বর দেওয়ার পরিকল্পনা নেই। আগের রোল নম্বরই শিশুদের দেওয়া হবে।

গতকাল সোমবার এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, প্রাথমিকের ৮০ ভাগ শিক্ষার্থীই নতুন ক্লাসে উঠে নতুন বই পেয়েছে। তারা আগের ক্লাসের রোল নম্বর নিয়েই পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here