বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদকঃ লকডাউন নিয়ে প্রশ্ন তোলা পথশিশু মারুফকে ‘আদালতের আদেশের ভিত্তিতে’ সমাজসেবা অধিদপ্তরের মিরপুর আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। নিরাপত্তা ও চিকিৎসা দিতে তাকে সেখানে পাঠানো হয়েছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কোতোয়ালি থানার ওসি মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘তাকে আনার পরে আমরা করোনা টেস্ট করিয়েছি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করিয়ে ভালো কাপড় পরাই। এরপর খাওয়া-দাওয়া করিয়ে মিরপুর সমাজসেবা অফিসে হস্তান্তর করেছি। এখন থেকে ওর খাওয়া-দাওয়া, বসবাসের বিষয়গুলো সরকারিভাবে দেখা হবে।’ 

দু’দিন আগে পুরান ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত এলাকায় সাংবাদিকের লাইভের মাঝে এক পথশিশু ঢুকে পড়ে লকডাউন নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পরে সেই ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। অনেকে শিশুটির সাহসিকতা, সাবলীলভাবে কথা বলা ও স্মার্টলি ক্যামেরার ফ্রেম থেকে বেরিয়ে যাওয়া দেখে প্রশংসা করছেন।

ঘটনাটি হলো সোমবার (১৯ এপ্রিল) করোনার উচ্চ সংক্রমণ রোধে সরকারের জারি করা লকডাউন পরিস্থিতি তুলে ধরতে একটি বেসরকারি টেলিভিশন কিংবা কোনো অনলাইন পত্রিকার একটি লাইভ অনুষ্ঠানে রিপোর্টার বুম হাতে ধারাভাষ্য দিচ্ছিলেন। আচমকা ফ্রেমে ঢুকে পড়ে এক পথশিশু। রিপোর্টার কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে বলতে থাকে, ‘আচ্ছা, এই যে লকডাউন দিয়েছে, সামনে ঈদ, মানুষ খাবে কী? মাননীয় মন্ত্রী যে লকডাউন দিয়েছে,….এটা একটা ভুয়া। থ্যাংক ইউ।’

এই এক ভিডিও ক্লিপেই দেশব্যাপী আলোড়ন তুলেছে সেই পথশিশু। কে এই শিশু? আর কোথায় কবে ঘটল এই ঘটনা জানতে আগ্রহী নেটিজেনরা। সেই দুই প্রশ্নের জবাব পাওয়ার আগেই ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে ওই শিশুর আরো একটি ছবি। যেখানে দেখা গেছে, তার চোখে-মুখে মারের জখম, একটি চোখ ফোলা। ওই ছবিটি নিয়ে ফেসবুকে গুঞ্জন শুরু হয়েছে, লকডাউন প্রসঙ্গে এমন বক্তব্য দিয়ে কোনো একটি পক্ষের রোষানলে পড়েছে শিশুটি। তাই তাকে মারধর করা হয়েছে।

এমন ছবি ও গুঞ্জনের বিষয়টি ফের ভাইরাল হয়ে পড়ে নেট দুনিয়ায়। অনেকেই দুঃখপ্রকাশ করে শিশুটির নির্যাতনকারীদের বিচার দাবি করেন। কেউ বা তার দায়িত্ব নিতে চান।

ঢাকা/এনইউ