বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদকঃ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের শেয়ারবাজারের ব্যাপ্তি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তাই দেশের শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক পরিসরে ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে ব্র্যান্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন‌্য আন্তর্জাতিক মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিএসইসির পাবলিক রিলেশন ও ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিরাও দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে আকৃষ্ট হবেন বলে মনে করছে কমিশন।

পাবলিক রিলেশন ও ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক মিডিয়া প্রতিষ্ঠান খুঁজছে বিএসইসি। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে বিএসইসি কয়েক দফা আলোচনা করেছে। এ কাজের জন্য একটি প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সেবা ক্রয়ের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে দেশের শেয়ারবাজার পরিস্থিতি, সার্বিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ ব্যবসায়িক কমিউনিটির জন্য সুবিধাসমূহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে হবে। এছাড়া, শেয়ারবাজারের ব্র্যান্ডিংয়ের অন্যতম মাধ্যম ‘রোড শো’। ইতোমধ্যে দুবাইতে রোড শো হয়েছে। সেখানে দেশের শেয়ারবাজারের বড় ব্র্যান্ডিং হয়েছে। আগামীতে আরও বেশি রোড শো করে প্রচার চালাতে হবে। তবে একটি সুষ্ঠু কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে, সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে প্রবাসীসহ বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে আকৃষ্ট হবেন।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের শেয়ারবাজারের ব্যাপকতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে কমিশন। তাই যেসব প্রতিবন্ধকতা আছে তা নিরসনের কাজ চলছে। এদিকে, দেশের শেয়ারবাজারে অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী পরোক্ষভাবে বিনিয়োগ করছে বলে লক্ষ করেছে কমিশন। সেসব বিনিয়োগকারীকে আরও সহজভাবে দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে কমিশন। তাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের শেয়ারবাজারকে ব্যাপকভাবে পরিচিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘আমরা আমাদের স্টক মার্কেটকে গ্লোবালি এক্সেসেবল করাতে চাই। আমরা দেখেছি, অনেক বিদেশি ইনডাইরেক্টলি দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করছেন। তাদের সেই বিনিয়োগটাকে আরেকটু অর্গানাইজড ফর্মে নিয়ে আসতে চাই। সেজন্য তাদের কিছু ফ্যাসিলিটিজ দিয়ে আগ্রহী করে তুলতে শেয়ারবাজারকে ব্র্যান্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশা করছি, এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন। সেটা আমাদের অর্থায়ন ও শিল্পায়নকে আরো সহযোগিতা করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সব বিনিয়োগকারী যেমন নিউইয়র্ক ও লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জকে চেনে, আমরা চাচ্ছি, বাংলাদেশের শেয়ারবাজারকে বিশ্ববাসী সেভাবে চিনুক। তবে আমরা তাদের মতো এত বড় না হলেও আমাদের মতো করে এগোতে চাই। আমাদের কার্যক্রম সবকিছু ঠিকমতো চললে ভবিষ্যতে আমরাদের স্টক এক্সচেঞ্জ একদিন গ্লোবালি প্রতিষ্ঠিত হবে।’

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ও ইবিএল সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের সুনাম আছে বলেই এখনও শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ আসছে। এতে বোঝা যায় যে, কিছুটা হলেও ব্র্যান্ডিং ইতোপূ্র্বে হয়েছে, তবে সেটার পরিসর স্বল্প ছিল। আমাদের আশপাশের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের মার্কেটের সাইজ তুলনামূলক ছোট। তবে এখন দেশের শেয়ারবাজারকে আরও বড় পরিসরে গড়ে তোলার চিন্তা করছে কমিশন। সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এসব কার্যক্রমই একপ্রকার ব্র্যান্ডিং। তবে এটা অব্যাহত রাখতে হবে।’

ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম কেমন হওয়া উচিত, এমন প্রশ্নের জবাবে বিএসইসির সদস্যভুক্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশের চিফ ইনভেস্টমেন্ট অফিসার (সিআইও) রিয়াজ ইসলাম বলেন, ‘শেয়ারবাজারে উন্নয়ন ও বিনিয়োগ আকৃষ্টে ব্যান্ডিংয়ের বিকল্প কিছুই নেই। নতুন কমিশন এ বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে। তবে ব্য্যান্ডিং হতে হবে ফ্যাক্ট অ্যান্ড ফিগার নিয়ে। বিনিয়োগ সম্পর্কিত সুযোগ-সুবিধার কথা স্পষ্ট করে তুলে ধরতে হবে। এজন্য অ্যাকশন প্ল্যান থাকতে হবে। সে অনুযায়ী এগোতে হবে। তবে ব্র্যান্ডিংয়ের অন্যতম উৎস প্রবাসী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। তাদের আশ্বস্ত করতে হবে। এছাড়া, ইক্যুইটি মার্কেটের পাশাপাশি বিকল্প বিনিয়োগের ব্যবস্থা করতে পারলেই বিদেশি ও প্রবাসীরা বিনিয়োগে আকৃষ্ট হবেন।’

সূত্রঃ রাইজিংবিডি