বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দেশের সব নাগরিককে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেবে সরকার। সে লক্ষ্যে ২০২১-২০২২ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বৃহস্পতিবার (৩ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। এ সময় সংসদে উপস্থিত ছিলেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন— সরকার দেশের সব নাগরিককে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন প্রদান নিশ্চিত করবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডোজ ভ্যাকসিন সংগ্রহের জন্য যত টাকাই লাগুক না কেন, সরকার তা প্রদান করবে। সে লক্ষ্যে এ বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি থেকে জনজীবনের সুরক্ষার জন্য সম্প্রসারিত ভ্যাকসিন প্রয়োগ কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় ন্যাশনাল ডেপলয়মেন্ট অ্যান্ড ভ্যাকসিন প্ল্যান প্রণয়ন করা হয়েছে। ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তিন কোটি ডোজ কোভিশিল্ড কেনা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটি থেকে দেশের জনসংখ্যার শতকরা ২০ শতাংশ, তথা ৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষের জন্য ৬ কোটি ৮০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে। এর মধ্যে  তার মধ্যে এক লাখ ৬ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন এরই মধ্যে পাওয়া গেছে।

ভ্যাকসিন কেনার খরচের বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক থেকে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন কেনার জন্য ৫০ কোটি মার্কিন ডলার ও লজিস্টিক সাপোর্টের জন্য ১ কোটি ৪৮ লাখ মার্কিন ডলার ব্যবহৃত হচ্ছে। ভ্যাকসিন কেনার জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ৯৪ কোটি মার্কিন ডলার পাওয়ার লক্ষ্যে ঋণচুক্তি চূড়ান্ত পর্যায় রয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক এবং এআইআইবি থেকে ভ্যাকসিন কেনার জন্য সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, মোট ৮০ শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়ার লক্ষ্যে ভাগ ভাগ করে পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগণকে এবং প্রতিমাসে ২৫ লাখ করে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। ইপিআই ও সিডিসি‘র (সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ) সমন্বয়ে এ ভ্যাকসিন দেওয়ার কার্যক্রম মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ভ্যাকসিন কেনা ও দেশে ভ্যাকসিন উৎপাদনে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, চীন ও রাশিয়ার সরকার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার ও ফ্রান্স-বেলজিয়াম ভিত্তিক সানোফি/জিএসকের কাছ থেকে ভ্যাকসিন কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। চীন থেকে সিনোফার্ম ও রাশিয়া থেকে স্পুটনিক-ভি ভ্যাকসিন কেনা এবং প্রয়োজনে বাংলাদেশেই তা উৎপাদনের লক্ষ্যে আলোচনা বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, এরই মধ্যে অক্সফোর্ডের ৭০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন দেশে এসে পৌঁছেছে এবং ভারত ও চীন সরকার যথাক্রমে ৩২ লাখ ডোজ ও ৫ লাখ ডোজ এবং ফাইজারের ১ লাখ ডোজ বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে দিয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রীসভার এ বিশেষ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। এরপর মন্ত্রিসভা অনুমোদিত বাজেট সংসদে উত্থাপনের জন্য অনুমোদনসূচক সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এরপর বিকেল ৩টায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে পেশ শুরু করেন।

২০২১-২০২২ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের জন্য বরাদ্দ বেড়েছে ৩ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের জন্যে ৩২ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২১-২০২২ অর্থবছরের জন্যে প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থাৎ গত অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ২৯ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা।

এছাড়া করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারি মোকাবিলায় যেকোনো জরুরি চাহিদা মেটানোর জন্যে ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।