স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন বোর্ড গঠন করা হবে: শিবলী রুবাইয়াত

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন বোর্ড গঠন করা হবে। কারন স্টার্টআপ কোম্পানিগুলো মূল বা এসএমই মার্কেটে এসে খাপ খাওয়াতে পারবে না। তবে উন্নতি করার পরে এসএমইতে দেওয়া হবে। আরও উন্নতির পরে এসএমই থেকে মূল মার্কেটে নেওয়া হবে।

আজ বৃহস্পতিবার (০৪ আগস্ট) রাজধানীর নিকুঞ্জের ডিএসই ভবনে ‘ক্যাপিটাল মার্কেট অফ বাংলাদেশ প্রস্পেক্ট অ্যান্ড অপারচুনিটিস ফর টেক স্ট্যার্টআপ অ্যান্ড গ্রোথ স্টেজ কোম্পানিজ’ শীর্ষক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, স্টার্টআপ কোম্পানির মুনাফা করতে সময় লাগে। তবে লোকসানে থাকলেও ছাড় বা সুযোগ দিয়ে (ওয়েভার) পুঁজিবাজারে আসতে দেওয়ার সুযোগ আছে। তবে আইন পরিবর্তন করে সব লোকসানি স্টার্টআপ কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনা যাবে না। তাহলে যেসব কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ব্যক্তি স্বার্থ উদ্ধারে ফন্দিফিকির করে, তারা সুযোগ নেবে।

তিনি বলেন, ব্যাংক গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত নিয়ে ঋণ দেয়। এই অন্যদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ঋণ দিতে ব্যাংকগুলোকে অনেক সাবধান হতে হয়। এছাড়া জামানত নিতে হয়। কিন্তু স্টার্টআপ কোম্পানিগুলো নতুন জেনারেশন গঠন করে। যাদের স্টার্টআপ কোম্পানি চালানোর জ্ঞান থাকলেও সেভাবে সম্পদ থাকে না। এ জাতীয় কোম্পানিকে কমিশন সহযোগিতা করবে।

শিবলী রুবাইয়াত বলেন, অবশ্যই আমরা স্টার্টআপ কোম্পানিকে অর্থায়নে সাহায্য করব। তবে যোগ্যরাই পাবে। অযোগ্যদের সুযোগ দিয়ে পরিবেশ নষ্ট করব না।

তিনি বলেন, স্টার্টআপ কোম্পানিকে সহযোগিতা করলে যদি দেশ লাভবান হয়, তাহলে কেনো সহযোগিতা করব না। তবে এ জাতীয় কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে আসতে চাইলে অবশ্যই কমপক্ষে ১০ শতাংশ শেয়ার ইস্যু করতে হবে। অন্যথায় আমরা অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেব না।

তিনি আরোও বলেন, আমাদেরকে কোন কোম্পানির অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের দিকটিও দেখতে হয়। তাই সবকিছু কোম্পানি কর্তৃপক্ষের মনো:পুত নাও হতে পারে। তবে এটা কাউকে নিরুৎসাহিত করার জন্য না করি না। কারন আমাদেরকে কোম্পানির পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের দিকটিও বিবেচনা করতে হয়।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে বিএসইসির কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের দুয়ার সবসময় স্টার্টআপ কোম্পানির জন্য খোলা। আপনারা কমিশনে আসেন। আপনাদের কথা গুরুত্ব সহকারে শুনতে চাই। সমস্যা থাকলে, তা সমাধান করা হবে। আমাদের দেশে ফান্ডের সমস্যা নাই, আছে স্পৃহার অভাব।

এসময় তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইর পিই ১৫ এর কাছাকাছি। যা বিনিয়োগের জন্য খুবই ভালো।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, চার পাঁচ ধরণের স্টার্ট আপে আমাদের বিনিয়োগ করা দরকার। যারা বসে আছে, যারা ভালো অবস্থানে আছে, যাদের বেশি প্রফিট নেই, কিন্তু দেশের জন্য প্রয়োজন, যাদের সরকারি দিকনির্দেশনা দরকার। এরকম কোম্পানিতে আমাদের বিনিয়োগ করা দরকার।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোর জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৫০০ কোটি টাকা দিয়েছেন। আমরা ইতোমধ্যে ১৫-২০টি কোম্পানিতে ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছি। ২০২৫ সালের মধ্যে আমাদের দেশের স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোতে ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবো।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব ও স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এনএম জিয়াউল আলম এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

এছাড়াও সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ডিএসইর চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান।

ঢাকা/টিএ