বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদকঃ দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় সরকার কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করে। ফলে বন্ধ হয়ে যায় গণপরিবহন। কয়েক দফায় বিধি নিষেধ বেড়েছে। এরই মধ্যে পরিবনগুলো মালিক ও শ্রমিকদের সংগঠনগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলো। গণ পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত সবগুলো সংগঠনই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো সড়কে স্বাস্থ্যবিধি মানার। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সরকারের সিদ্ধান্তে স্বাস্থ্যবিধি মানা, ৫০ ভাগ যাত্রী পরিবহন ও আন্তঃজেলা পরিবহন বন্ধ রাখার কথা বলা হয়। কিন্তু বাস চালুর দুই দিনের মাথায় সবাই বেমালুম ভুলে গেলেন নির্দেশনাগুলো। কোনো ধরনের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করছেন না বাস চালকরা।

অন্যদিকে ঈদকে সামনে রেখে নানা উপায়ে মানুষ বাড়ির দিকে ছুটছে। ফলে ঢাকার প্রবেশ মুখগুলোতে ঘরমুখী মানুষের উপচে পরা ভিড়। নির্দেশনা অমান্য করে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, সাভার, নবী নগর, মানিকগঞ্জসব বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল করছে। আর এই সকল বাসে করে ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে অনেককে।

শুক্রবার সকালে গুলিস্তানে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের পশ্চিম পাশ এবং বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ দিক থেকে নারায়ণগঞ্জ এবং নরসিংদীগামী বাস চলতে দেখা গেছে। এরমধ্যে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে চলাচল করে দোয়েল, বন্ধন পরিবহন। আবার ঢাকাসহ তিন জেলায় চলাচল করে এমন পরিবহনও চালু রয়েছে। এই সকল পরিবহনে শতভাগ যাত্রী নেয়া হচ্ছে। যাত্রী-চালকদের মুখে মাস্ক থাকলেও বাসে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহার দেখা যায়নি।

জানতে চাইলে একটি বাসের চালক আরিফ হোসেন বলেন, ঘরমুখো মানুষের চাপ বেশি। নিষেধ করলেও যাত্রীরা বাসে উঠেছেন। এছাড়াও অনেক যাত্রী নিয়ম অনুযায়ী ৬০ শতাংশ বেশি ভাড়া দিতে চান না। এ নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডাও হয়।

গুলিস্তান এলাকায় গাদাগাদি করে বিভিন্ন পরিবহনে যাত্রী তোলা হলেও পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কোনো সদস্যকে তৎপর দেখা যায়নি। তবে রাজধানীর মহাখালী হয়ে গাজীপুর রুটে চলাচল করা বাসগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে। একই দেখা গেছে ঢাকা সাভার নবীনগর রুটে। মুখে মাস্ক থাকলেও অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া হচ্ছে এই সকল পরিবহনে।

মহাখালীর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সামনে স্কাইলাইন পরিবহনের চালক মাসুম আন্তঃজেলা বাস চলাচলের বিষয়ে জানান, ঢাকা মহানগর এবং গাজীপুর মহানগরে যান চলাচলে কেউ তাদের বাধা দেয়নি। মালিকপক্ষের নির্দেশে তারা যাত্রী পরিবহন করছেন।

বাস চলার অনুমতি দেয়ার আগে সড়কে গণপরিবহন চালাতে কিছু নির্দেশনা মেনে চলতে বলেছিল বিআরটিএ।

নির্দেশনায় বলা হয়েছিল-

*আন্তঃজেলা গণপরিবহন বন্ধ থাকবে, কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটে উল্লিখিত মোট আসন সংখ্যার অর্ধেকের (৫০%) বেশি যাত্রী বহন করা যাবে না।

*কোনোভাবেই সমন্বয়কৃত ভাড়ার (বিদ্যমান ভাড়ার ৬০% বৃদ্ধি) অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না। *ট্রিপের শুরু ও শেষে জীবাণুনাশক দিয়ে গাড়ি জীবাণুমুক্ত করতে হবে এবং পরিবহন সংশ্লিষ্ট মোটরযান চালক, অন্যান্য শ্রমিক কর্মচারী ও যাত্রীদের বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

ঢাকা/এসএ