বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ২১টি জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথ। সারা বছরই এ নৌপথ দিয়ে হাজারো যানবাহন ও যাত্রী পারাপার হয়ে থাকে। তবে বিভিন্ন উৎসব-পার্বণে যানবাহন ও যাত্রীদের সমাগমে মুখর থাকে পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকা।

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চমুখী হাজারো মানুষ প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে ভোগান্তি নিয়েই বাড়ি ফিরছে ঘরমুখী মানুষ।

আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ থাকায় বিভিন্ন উপায়ে পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় এসে জড়ো হচ্ছে মানুষ। ফলে ফেরিঘাট এলাকায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছে ঘাট কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে সোমবার (১০ মে) সকাল ৯টার দিকে পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় দেখা যায়, ভোর থেকে ঘরমুখী হাজার হাজার যাত্রী ঘাট এলাকায় এসে জড়ো হয়েছে। পাটুরিয়ার ৪ নম্বর ফেরিঘাট থেকে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স ও একটি লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ হাজারো যাত্রী নিয়ে পাটুরিয়া ঘাট থেকে দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশে সাড়ে ৯টায় ছেড়ে যায় চন্দ্রমল্লিকা ও হাসনাহেনা ফেরি। এরপর ১১টার দিকে বনলতা নামের আরেকটি ছোট ফেরি ঘাট ছেড়ে যায়।

অন্যদিকে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে পাটুরিয়া ঘাটে আসে তিনটি ফেরি। ফেরির র‌্যাম খোলামাত্রই যাত্রীরা হুড়মুড় করে উঠে পড়ে। এতে স্বাস্থ্যবিধি কিংবা সামজিক দূরত্বের কোনো বালাই ছিল না। ঝুঁকি জেনেও বাড়ি ছুটছে এসব মানুষ। স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করাই যেন তাদের একমাত্র লক্ষ্য। এক থেকে দেড় ঘণ্টা পরে পাটুরিয়া থেকে ফেরি ছাড়ার কারণে ঘাট এলাকা হয়ে ওঠে জনাকীর্ণ।

তবে ফেরিতে গাদাগাদি করে নৌপথ পারাপারের সময় যাত্রীদের অনেকের মুখে মাস্ক থাকলেও ছিল না সামজিক দূরত্ব। এতে উপেক্ষিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। যে কারণে বাড়ছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিও।

এ ছাড়া পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্য পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের দেখা গেছে। মানিকগঞ্জে তিনটি পয়েন্টে বিজিবি মোতায়েন করা হয়। তবে বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় জড়ো হচ্ছে হাজারো ঘরমুখী মানুষ। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঘাট এলাকায় বিজিবির কোনো টিমকে টহল দিতে দেখা যায়নি।

মাগুরাগামী যাত্রী রিপন মিয়া ঢাকা পোস্টকে বলেন, রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় মুদি দোকান করি। আগের মতো বেচাকেনা নাই। অনেক দিন দেশের বাড়ি যাই না। তবে করোনার বিষয়টি মাথায় রেখেই বাড়ি যাচ্ছি।

কুষ্টিয়াগামী যাত্রী চঞ্চল হোসেন বলেন, ঢাকার একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করি। করোনার কারণে কাজের চাপ নাই। এ জন্য বাড়িতে যাইতাছি। এই ঘাটে প্রতিবছরই ভোগান্তি পোহাতে হয়। তবে এবার এর মাত্রাটা একটু বেশি। গাবতলী থেকে পাটুরিয়া আসতে তার খরচ হয়েছে ৬০০ টাকা।

রুমি আক্তার নামের আরেক যাত্রী বলেন, ঢাকা থেকে পাটুরিয়া আসতে তিন-চারবার গাড়ি পরিবর্তন করতে হয়েছে। এতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। রোদের মধ্যে পারের জন্য অপেক্ষায় আছি। তিনি জানান, এত কষ্ট আর ভোগান্তি নিয়ে বাড়িতে যাওয়ার কারণ একটাই বাবা-মায়ের সঙ্গে ঈদ করার আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম মো. জিল্লুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুয়ায়ী পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে জরুরি সেবায় অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি পারপার করার সময় ফেরিতে উঠে পড়ছে যাত্রীরা। জরুরি সেবায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে দুটি ফেরি চলাচল করছে।

তবে শিমুলিয়া ফেরিঘাটে মতো পাটুরিয়া ঘাট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের কোনো নির্দেশনা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

ঢাকা/এসএ