বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদকঃ চলমান মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে দেশে চলছে কঠোর লকডাউন। এর প্রভাব পড়েছে রাজধানীর বায়ুমণ্ডলে। ইতিবাচক হারে কমে গেছে ঢাকা শহরের বায়ুদূষণ। মাত্র ৭ দিনেই বায়ুদূষণ কমেছে প্রায় ৪৫ শতাংশ।

এ সংক্রান্ত একটি জরিপ প্রকাশ করেছে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)। জরিপে দেখা যায়, ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকার বায়ুদূষণের মান প্রথম দফার (সীমিত লকডাউন) চেয়েও ৪৫ শতাংশ কম। সীমিত লকডাউন বলতে ১ থেকে ৪ এপ্রিল (লকডাউনের আগে) এবং ৫ থেকে ৮ এপ্রিলের (সীমিত লকডাউন) এর সময়কালকে বোঝানো হয়েছে।

জানা গেছে ইউএসএইড ও ইউকেএইডের অর্থায়নে এই জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় স্বয়ংক্রিয় একটি যন্ত্রের সাহায্যে প্রতিদিন ঢাকায় দুটি করে মোট ১০টি এলাকায় এই বায়ুর মান পরিমাপ করা হয়।

ক্যাপসের মতে, লকডাউনের সময় ঢাকার বায়ুদূষণ কমার চারটি কারণ রয়েছে। কারণগুলো হলোও-
১. লকডাউনের সময়ে যত্রতত্র রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, সংস্কারকাজ ও রাস্তা নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। যা ঢাকার বায়ুদূষণ কমাতে ভূমিকা পালন করেছে।
২. ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া লকডাউনের কারণে ঢাকা শহরের প্রায় ৯৫ শতাংশ যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঢাকা শহরের বায়ুদূষণের প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশের উৎস এই শহরের ফিটনেসবিহীন প্রায় পাঁচ লাখ ৬০ হাজার যানবাহন।
৩। রাস্তার ওপরে জমে থাকা যে ধুলাবালি যানবাহনের সঙ্গে উড়তে থাকে, সেই ধুলাবালি ওড়াও অনেক কমছে, যার পরিমাণ প্রায় ১০ শতাংশ।
৪. স্বাভাবিক অবস্থায় ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য পোড়ানো হয়। লকডাউনের সময় সে বর্জ্য পোড়ানো হচ্ছে না বলে বায়ুদূষণ কমছে। বায়ুদূষণের প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে আবর্জনা পোড়ানো বন্ধ হওয়ায়।
এ প্রসঙ্গে ক্যাপসের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার গণমাধ্যমকে বলেন, ইচ্ছা থাকলে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বায়ুদূষণ ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কমানো সম্ভব। তবে সেটার জন্য সময় লাগবে। বায়ুদূষণের উৎসগুলোকে চিহ্নিত করে যদি কমপক্ষে পাঁচ বছরের একটি পরিকল্পনা নেওয়া যায়, তাহলে প্রতি বছর কমপক্ষে ১০ শতাংশ করে বায়ুদূষণ কমবে।

ঢাকা/এসএ