০৫:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪
অনিয়ম দূর্নীতিতে প্রকট হচ্ছে আস্থার সঙ্কট

ব্যাংক থেকে আমানত তুলে নিচ্ছেন গ্রাহকরা

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ১২:৩২:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০২৪
  • / ৬২৪১ বার দেখা হয়েছে

ব্যাংক খাতে নানা অনিয়ম, দিন দিন খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, একের পর এক ঋণ কেলেঙ্কারির কারণে কিছু ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। আর দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সবল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব কারণে ব্যাংক খাতের গ্রাহকদের আস্থার সংকট বাড়ছে। যার ফলে চলতি বছর জানুয়ারি মাসে ব্যাংকিং খাত থেকে গ্রাহকরা ১২ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা আমানত তুলে নিয়েছে।

এর মধ্যে শুধু পুরোপুরি ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর থেকে গ্রাহকরা ৮ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। অপরদিকে, আলোচ্য এসব ব্যাংকগুলোর ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

চলতি বছরের জানুয়ারিতে তফসিলি ব্যাংকগুলোর আমানত দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৫৭ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে পুরোপুরি ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর আমানত ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে তফসিলি ব্যাংকগুলোর আমানত ছিল ১৭ লাখ ৭০ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা। পুরোপুরি ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর আমানতের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৮৪ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা। এক মাসের ব্যবধানে তফসিলি ব্যাংকগুলোর আমানত কমেছে ১২ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা। এ সময় ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোর আমানত কমেছে ৮ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা।

এদিকে, আলোচ্য সময় তফসিলি ব্যাংকগুলোর ঋণ বা বিনিয়োগ বেড়েছে ১১ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। এরমধ্যে ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর ঋণ বা বিনিয়োগ বেড়েছে ৩ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। জানুয়ারিতে তফসিলি ব্যাংকগুলোর ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৩৫ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা, ইসলামি ব্যাংকের ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭৩ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে তফসিলি ব্যাংকগুলোর ঋণের পরিমাণ ছিল ১৯ লাখ ২৪ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা, আর ইসলামি ব্যাংকগুলোর ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন: ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ

প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ইসলামী ব্যাংকগুলোর আমানত কমলেও প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর ইসলামি ব্যাংকিং শাখাগুলোতে আমানত বেড়েছে ২ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা। ডিসেম্বরে প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর ইসলামি ব্যাংকিং শাখাগুলোতে আমানতের পরিমাণ ছিল ২১ হাজার ১১৮ কোটি টাকা। জানুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ২৭০ কোটি টাকা। যদিও একই সময়ে এসব ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডোগুলোতে আমানত কমেছে ১ হাজার ৮১৬ কোটি টাকা।

চলতি বছর জানুয়ারি শেষে ব্যাংক খাতে ইসলামী ধারার ব্যাংকিংয়ে মোট আমানতের পরিমাণ ৪ লাখ ১৩ হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা। ইসলামী ধারার ব্যাংকিংয়ে ডিসেম্বরে আমানতের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ২২ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা। মাসের ব্যবধানে ইসলামী ধারার ব্যাংকিংয়ে আমানত কমেছে ৮ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা।

ঢাকা/এইচআর

শেয়ার করুন

x

অনিয়ম দূর্নীতিতে প্রকট হচ্ছে আস্থার সঙ্কট

ব্যাংক থেকে আমানত তুলে নিচ্ছেন গ্রাহকরা

আপডেট: ১২:৩২:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০২৪

ব্যাংক খাতে নানা অনিয়ম, দিন দিন খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, একের পর এক ঋণ কেলেঙ্কারির কারণে কিছু ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। আর দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সবল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব কারণে ব্যাংক খাতের গ্রাহকদের আস্থার সংকট বাড়ছে। যার ফলে চলতি বছর জানুয়ারি মাসে ব্যাংকিং খাত থেকে গ্রাহকরা ১২ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা আমানত তুলে নিয়েছে।

এর মধ্যে শুধু পুরোপুরি ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর থেকে গ্রাহকরা ৮ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। অপরদিকে, আলোচ্য এসব ব্যাংকগুলোর ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

চলতি বছরের জানুয়ারিতে তফসিলি ব্যাংকগুলোর আমানত দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৫৭ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে পুরোপুরি ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর আমানত ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে তফসিলি ব্যাংকগুলোর আমানত ছিল ১৭ লাখ ৭০ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা। পুরোপুরি ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর আমানতের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৮৪ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা। এক মাসের ব্যবধানে তফসিলি ব্যাংকগুলোর আমানত কমেছে ১২ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা। এ সময় ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোর আমানত কমেছে ৮ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা।

এদিকে, আলোচ্য সময় তফসিলি ব্যাংকগুলোর ঋণ বা বিনিয়োগ বেড়েছে ১১ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। এরমধ্যে ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর ঋণ বা বিনিয়োগ বেড়েছে ৩ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। জানুয়ারিতে তফসিলি ব্যাংকগুলোর ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৩৫ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা, ইসলামি ব্যাংকের ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭৩ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে তফসিলি ব্যাংকগুলোর ঋণের পরিমাণ ছিল ১৯ লাখ ২৪ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা, আর ইসলামি ব্যাংকগুলোর ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন: ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ

প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ইসলামী ব্যাংকগুলোর আমানত কমলেও প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর ইসলামি ব্যাংকিং শাখাগুলোতে আমানত বেড়েছে ২ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা। ডিসেম্বরে প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর ইসলামি ব্যাংকিং শাখাগুলোতে আমানতের পরিমাণ ছিল ২১ হাজার ১১৮ কোটি টাকা। জানুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ২৭০ কোটি টাকা। যদিও একই সময়ে এসব ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডোগুলোতে আমানত কমেছে ১ হাজার ৮১৬ কোটি টাকা।

চলতি বছর জানুয়ারি শেষে ব্যাংক খাতে ইসলামী ধারার ব্যাংকিংয়ে মোট আমানতের পরিমাণ ৪ লাখ ১৩ হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা। ইসলামী ধারার ব্যাংকিংয়ে ডিসেম্বরে আমানতের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ২২ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা। মাসের ব্যবধানে ইসলামী ধারার ব্যাংকিংয়ে আমানত কমেছে ৮ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা।

ঢাকা/এইচআর