০৫:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

কয়েক স্তরের মামলা বাণিজ্যে মজেছেন পুলিশ-রাজনীতিবিদ

কাজী ইহসান বিন দিদার
  • আপডেট: ০৮:০৬:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১০২৬৭ বার দেখা হয়েছে

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রায় সব নির্বাচন এবং রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের বেশির ভাগ মানুষ সরকারবিমুখ হয়ে পড়েন। এরই মুখে, গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে থানায় হামলা, ভাঙচুর ঘটে। পাশাপাশি শুরু হয় মামলা বাণিজ্য। জুলাইয়ে নানা ধরণের অপরাধের কারণে দায়ের হওয়া এসব মামলা নিয়ে চলছে নানা ধরণের বাণিজ্য। বিশেষ করে ফেনী জেলায়। সরেজমিন অনুসন্ধানে গিয়ে যা জানা যায়, তা রীতিমতো চমকে দেয়ার মত তথ্য।

অনুসন্ধানে দেখে গেছে, ফেনীতে কয়েক স্তরে ‘মামলা–বাণিজ্য’ হয়েছে এবং চলছে। ব্যবসায়িকসহ বিভিন্ন বিরোধের জেরে এক পক্ষ থেকে টাকা নিয়ে তার প্রতিপক্ষের নাম মামলায় দেওয়া হয়েছে। আবার কারও কারও কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য আগে এজাহারের খসড়া পাঠানো হয়। টাকা দিলে নাম বাদ পড়ে, না দিলে আসামি করা হয়। এ ধরনের আসামিদের বেশির ভাগ মামলার বাদীই চেনেন না। মামলার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিরা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন।

এখন এ ধরনের মামলাগুলোর ক্ষেত্রে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের বাণিজ্য চলছে। এজাহারভুক্ত আসামি না হলেও সন্দিগ্ধ হিসেবে অনেকে গ্রেপ্তার হন। তাঁদের অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে হত্যা মামলায় দেওয়া হবে নাকি হত্যাচেষ্টা বা আহত ব্যক্তিদের করা মামলায়, সেটার জন্য একধরনের হিসাব। গ্রেপ্তার আসামি জামিনের আবেদন করলে সে ক্ষেত্রেও মামলার ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত’ দাবিদার একটি বিশেষ দলের নেতা বা আইনজীবীর সম্মতির বিষয় রয়েছে। আদালত জামিন মঞ্জুর করলে ওই ব্যক্তিকে নতুন কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে কি না, সে ক্ষেত্রেও বিভিন্ন ‘ঘাট ম্যানেজ’ করার বিষয় আছে। আদালত থেকে বা পুলিশের উচ্চপর্যায় থেকে কারও সম্পর্কে তদন্ত প্রতিবেদন চাইলে সে ক্ষেত্রেও ‘খরচ’ আছে। অন্যথায় কোনো ব্যক্তির সম্পর্কে নেতিবাচক কিছু বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও আওয়ামী লীগ নেতার ঘনিষ্ঠ বা অর্থদাতা লিখে প্রতিবেদন দেওয়ার নজিরও রয়েছে।

ভুক্তভোগীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ ক্ষেত্রে বিশেষ একটি রাজনৈতিক দল ও তাদের যুব শাখার কয়েকজন নেতার পাশাপাশি ফেনী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীসহ পুলিশেরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসূত্র রয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক ও পুলিশ সূত্র বলছে, শুরুর দিকে গণ-অভ্যুত্থানের সময়ের ঘটনায় মামলা করতে এলেই নেওয়া হতো। একপর্যায়ে ঢালাও আসামি করা ও মামলা–বাণিজ্যের কথা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে তারপর হরেদরে মামলা নেওয়া কিছুটা বন্ধ হয়ে যায়। তখন আদালতের মাধ্যমে মামলা করার চেষ্টা চলে।

সাম্প্রতিক সময়ে ফেনীতে আদালতের মাধ্যমে মামলা করার তিনটি চেষ্টা রয়েছে। সব কটিই পুলিশের তদন্তাধীন।

একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় নাম থাকা একজন ব্যবসায়ী নাম-পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, মামলার এজাহারের খসড়া তৈরি করে তাঁকেসহ নানা ব্যবসায়ীর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এটা অনেকটা মাছ ধরতে বড়শি ফেলার মতো—মামলা হচ্ছে জানান দেওয়া ‘রফাদফার’ জন্য। কিন্তু এতে তিনি সাড়া না দেওয়ায় পরে এজাহারে নিজের নাম দেখতে পান।

ওই ব্যবসায়ী বলেন, তিনি ১৯ বছর বিদেশে ছিলেন। বছর দুয়েক আগে দেশে ফিরে ঢাকায় ব্যবসা করছেন। প্রথমে তাঁকে একটি ছবি পাঠানো হয়, সেখানে সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন নেতার সঙ্গে এক সামাজিক অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নিয়েছেন। এরপর তাঁর নামসহ খসড়া এজাহার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়। বন্ধু-সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে টাকা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

খসড়া এজাহারে নাম উঠিয়ে টাকা চাওয়া এবং টাকা দিয়ে নাম কাটানো ১২ জন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তাঁদের বেশির ভাগই ব্যবসায়ী, প্রবাসী ও পেশাজীবী। বাণিজ্যের ধরনটা অনেকটা এ রকম—কাউকে লক্ষ্যবস্তু করার পর ফেসবুকে আওয়ামী লীগের কোনো স্থানীয় নেতার সঙ্গে ওই ব্যক্তির কোনো ছবি বা ভিডিও থাকলে তা সামনে আনা হতো। এর মাধ্যমে মামলায় নাম আসছে—এমন ইঙ্গিত দেওয়া হতো। এরপর ওই ব্যক্তি কিংবা তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের কাছে খসড়া এজাহার পাঠানো হতো।

এমনই একজন ভুক্তভোগী চিকিৎসক জানান, গত বছরের নভেম্বরের দিকে হোয়াটসঅ্যাপে তাঁর কাছে একটি খসড়া এজাহার আসে। তাতে আসামির ঘরে তাঁর নাম দেখতে পান। যোগাযোগ করে নাম কাটাতে ৪০ হাজার টাকা দেন। পরে থানায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, প্রথম খসড়ায় তাঁর নাম ছিল, পরে বাদ দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র বলছে, মামলার এজাহারে কারও নাম তোলা, বাদ দেওয়া নিয়ে একধরনের বাণিজ্য হচ্ছে। এর বাইরে কেউ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় কারাফটকে পুনরায় আটক এড়াতেও মোটা অঙ্কের টাকা গুনতে হয় আসামিকে। এ ক্ষেত্রে মামলার পেছনে থাকা রাজনীতিকেরা পুলিশকে কারাফটকে উপস্থিত থাকার বিষয়ে আগাম তথ্য দেন। এ ক্ষেত্রে পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার যুক্ততার অভিযোগও রয়েছে।

কেউ জামিন পেলে কারাফটকে গ্রেপ্তার বা নতুন মামলায় জড়ানো বা না জড়ানোকে কেন্দ্র করে কারাগারের কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তা, বড় একটি রাজনৈতিক দল এবং একটি ইসলামিক দলের নেতা, আদালতের আইনজীবী ও তাঁদের সহকারীদের একটি চক্র কাজ করছে। এর সঙ্গে একটি বড় রাজনৈতিক দলের যুব শাখার জেলা পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান দুই নেতার যোগসাজশেরও অভিযোগ রয়েছে।

এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হিসেবে ফেনী সদর সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নাম বিশেষভাবে আলোচিত। তাঁর সহযোগী হিসেবে ছাগলনাইয়া থানা ও সোনাগাজী থানার সদ্য বদলি হওয়া দুই ওসি এবং জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীকে গত ২৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া সার্কেলে বদলি করা হয়েছে।

বিজনেস জার্নাল/ঢাকা

শেয়ার করুন

কয়েক স্তরের মামলা বাণিজ্যে মজেছেন পুলিশ-রাজনীতিবিদ

আপডেট: ০৮:০৬:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রায় সব নির্বাচন এবং রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের বেশির ভাগ মানুষ সরকারবিমুখ হয়ে পড়েন। এরই মুখে, গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে থানায় হামলা, ভাঙচুর ঘটে। পাশাপাশি শুরু হয় মামলা বাণিজ্য। জুলাইয়ে নানা ধরণের অপরাধের কারণে দায়ের হওয়া এসব মামলা নিয়ে চলছে নানা ধরণের বাণিজ্য। বিশেষ করে ফেনী জেলায়। সরেজমিন অনুসন্ধানে গিয়ে যা জানা যায়, তা রীতিমতো চমকে দেয়ার মত তথ্য।

অনুসন্ধানে দেখে গেছে, ফেনীতে কয়েক স্তরে ‘মামলা–বাণিজ্য’ হয়েছে এবং চলছে। ব্যবসায়িকসহ বিভিন্ন বিরোধের জেরে এক পক্ষ থেকে টাকা নিয়ে তার প্রতিপক্ষের নাম মামলায় দেওয়া হয়েছে। আবার কারও কারও কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য আগে এজাহারের খসড়া পাঠানো হয়। টাকা দিলে নাম বাদ পড়ে, না দিলে আসামি করা হয়। এ ধরনের আসামিদের বেশির ভাগ মামলার বাদীই চেনেন না। মামলার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিরা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন।

এখন এ ধরনের মামলাগুলোর ক্ষেত্রে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের বাণিজ্য চলছে। এজাহারভুক্ত আসামি না হলেও সন্দিগ্ধ হিসেবে অনেকে গ্রেপ্তার হন। তাঁদের অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে হত্যা মামলায় দেওয়া হবে নাকি হত্যাচেষ্টা বা আহত ব্যক্তিদের করা মামলায়, সেটার জন্য একধরনের হিসাব। গ্রেপ্তার আসামি জামিনের আবেদন করলে সে ক্ষেত্রেও মামলার ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত’ দাবিদার একটি বিশেষ দলের নেতা বা আইনজীবীর সম্মতির বিষয় রয়েছে। আদালত জামিন মঞ্জুর করলে ওই ব্যক্তিকে নতুন কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে কি না, সে ক্ষেত্রেও বিভিন্ন ‘ঘাট ম্যানেজ’ করার বিষয় আছে। আদালত থেকে বা পুলিশের উচ্চপর্যায় থেকে কারও সম্পর্কে তদন্ত প্রতিবেদন চাইলে সে ক্ষেত্রেও ‘খরচ’ আছে। অন্যথায় কোনো ব্যক্তির সম্পর্কে নেতিবাচক কিছু বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও আওয়ামী লীগ নেতার ঘনিষ্ঠ বা অর্থদাতা লিখে প্রতিবেদন দেওয়ার নজিরও রয়েছে।

ভুক্তভোগীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ ক্ষেত্রে বিশেষ একটি রাজনৈতিক দল ও তাদের যুব শাখার কয়েকজন নেতার পাশাপাশি ফেনী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীসহ পুলিশেরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসূত্র রয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক ও পুলিশ সূত্র বলছে, শুরুর দিকে গণ-অভ্যুত্থানের সময়ের ঘটনায় মামলা করতে এলেই নেওয়া হতো। একপর্যায়ে ঢালাও আসামি করা ও মামলা–বাণিজ্যের কথা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে তারপর হরেদরে মামলা নেওয়া কিছুটা বন্ধ হয়ে যায়। তখন আদালতের মাধ্যমে মামলা করার চেষ্টা চলে।

সাম্প্রতিক সময়ে ফেনীতে আদালতের মাধ্যমে মামলা করার তিনটি চেষ্টা রয়েছে। সব কটিই পুলিশের তদন্তাধীন।

একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় নাম থাকা একজন ব্যবসায়ী নাম-পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, মামলার এজাহারের খসড়া তৈরি করে তাঁকেসহ নানা ব্যবসায়ীর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এটা অনেকটা মাছ ধরতে বড়শি ফেলার মতো—মামলা হচ্ছে জানান দেওয়া ‘রফাদফার’ জন্য। কিন্তু এতে তিনি সাড়া না দেওয়ায় পরে এজাহারে নিজের নাম দেখতে পান।

ওই ব্যবসায়ী বলেন, তিনি ১৯ বছর বিদেশে ছিলেন। বছর দুয়েক আগে দেশে ফিরে ঢাকায় ব্যবসা করছেন। প্রথমে তাঁকে একটি ছবি পাঠানো হয়, সেখানে সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন নেতার সঙ্গে এক সামাজিক অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নিয়েছেন। এরপর তাঁর নামসহ খসড়া এজাহার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়। বন্ধু-সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে টাকা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

খসড়া এজাহারে নাম উঠিয়ে টাকা চাওয়া এবং টাকা দিয়ে নাম কাটানো ১২ জন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তাঁদের বেশির ভাগই ব্যবসায়ী, প্রবাসী ও পেশাজীবী। বাণিজ্যের ধরনটা অনেকটা এ রকম—কাউকে লক্ষ্যবস্তু করার পর ফেসবুকে আওয়ামী লীগের কোনো স্থানীয় নেতার সঙ্গে ওই ব্যক্তির কোনো ছবি বা ভিডিও থাকলে তা সামনে আনা হতো। এর মাধ্যমে মামলায় নাম আসছে—এমন ইঙ্গিত দেওয়া হতো। এরপর ওই ব্যক্তি কিংবা তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের কাছে খসড়া এজাহার পাঠানো হতো।

এমনই একজন ভুক্তভোগী চিকিৎসক জানান, গত বছরের নভেম্বরের দিকে হোয়াটসঅ্যাপে তাঁর কাছে একটি খসড়া এজাহার আসে। তাতে আসামির ঘরে তাঁর নাম দেখতে পান। যোগাযোগ করে নাম কাটাতে ৪০ হাজার টাকা দেন। পরে থানায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, প্রথম খসড়ায় তাঁর নাম ছিল, পরে বাদ দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র বলছে, মামলার এজাহারে কারও নাম তোলা, বাদ দেওয়া নিয়ে একধরনের বাণিজ্য হচ্ছে। এর বাইরে কেউ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় কারাফটকে পুনরায় আটক এড়াতেও মোটা অঙ্কের টাকা গুনতে হয় আসামিকে। এ ক্ষেত্রে মামলার পেছনে থাকা রাজনীতিকেরা পুলিশকে কারাফটকে উপস্থিত থাকার বিষয়ে আগাম তথ্য দেন। এ ক্ষেত্রে পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার যুক্ততার অভিযোগও রয়েছে।

কেউ জামিন পেলে কারাফটকে গ্রেপ্তার বা নতুন মামলায় জড়ানো বা না জড়ানোকে কেন্দ্র করে কারাগারের কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তা, বড় একটি রাজনৈতিক দল এবং একটি ইসলামিক দলের নেতা, আদালতের আইনজীবী ও তাঁদের সহকারীদের একটি চক্র কাজ করছে। এর সঙ্গে একটি বড় রাজনৈতিক দলের যুব শাখার জেলা পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান দুই নেতার যোগসাজশেরও অভিযোগ রয়েছে।

এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হিসেবে ফেনী সদর সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নাম বিশেষভাবে আলোচিত। তাঁর সহযোগী হিসেবে ছাগলনাইয়া থানা ও সোনাগাজী থানার সদ্য বদলি হওয়া দুই ওসি এবং জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীকে গত ২৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া সার্কেলে বদলি করা হয়েছে।

বিজনেস জার্নাল/ঢাকা