০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

কাজা রোজার নিয়ত করবেন যেভাবে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ১১:৫৭:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
  • / ১০২১৮ বার দেখা হয়েছে

রমজানের রোজা ফরজ। শরীয়ত সমর্থিত অপারগতা ছাড়া কেউ ইচ্ছা করে রোজা ভাঙলে তিনি মৌলিক ফরজ লংঘনকারী ও ইসলামের ভিত্তি নষ্টকারী হিসেবে গণ্য হবেন। কোনো ব্যক্তি কারণ ছাড়া রোজা ভাঙলে পরবর্তীতে কাফফারাসহ রোজার কাজা রাখতে হবে।

মহানবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো ওজর বা অসুস্থতা ছাড়া রমজানের একটি রোজা পরিত্যাগ করবে, সে যদি ওই রোজার পরিবর্তে আজীবন রোজা রাখে তবু ওই এক রোজার ক্ষতিপূরণ হবে না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৭২৩)

তবে অসুস্থতা ও সফরকালীন অবস্থায় রোজা না রাখার অনুমতি আছে এবং মেয়েদের ঋতুস্রাব ও সন্তান প্রসব-পরবর্তী স্রাবের সময় রোজা রাখা নিষেধ। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেগুলো কাজা করে দেওয়া আবশ্যক।

পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘নির্দিষ্ট কয়েক দিন (অর্থাৎ রমজান মাসে) রোজা রাখতেই হবে। (তবে সে সময়ে) যদি তোমাদের কেউ অসুস্থ থাকে অথবা সফরে থাকে, সে অন্য সময়ে (ছুটে যাওয়া) দিনগুলো পূর্ণ করে নেবে (অর্থাৎ, যে কয়টা রোজা ছুটে গেছে, সেগুলো অন্য সময়ে কাজা করে দিতে হবে)।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৪)

আয়েশা রা. বলেন, ‘রাসুল (সা.) বেঁচে থাকা অবস্থায় আমাদের যখন ঋতুস্রাব হতো (এবং এ কারণে আমাদের নামাজ ও রোজা ছুটে যেত), তখন তিনি আমাদের ছুটে যাওয়া রোজাগুলো কাজা করে দেওয়ার নির্দেশ দিতেন, কিন্তু নামাজ কাজা করার নির্দেশ দিতেন না।’ (বুখারি ও মুসলিম)

কোনো কারণে রমজানের রোজা কাজা হয়ে গেলে যথাসম্ভব দ্রুত কাজা করে নেওয়া উত্তম। ছুটে যাওয়া রোজাগুলো একনাগাড়ে রাখতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সময় ও সুযোগ অনুসারে একটা, দুইটা করে কাজা করা যাবে।

কাজা রোজা আদায়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রোজার নিয়ত। কাজা রোজা রাখার জন্য রাতেই, সুবহে সাদিক তথা ফজরের ওয়াক্ত হওয়ার আগে  নিয়ত করা জরুরি। সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার পর কাজা রোজার নিয়ত করা সহিহ নয়।

কাজা রোজা আদায়ের ক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয় হলো— যদি একাধিক রমজানের রোজা কাজা হয়ে যায় তাহলে কাজা আদায় করার সময় কোন রমজানের রোজার কাজা আদায় করছেন তা নির্দিষ্ট করা জরুরি। তবে যদি কাজা রোজার সংখ্যা অনেক বেশি হয় এবং তা নির্দিষ্ট করা কঠিন হয় তাহলে জীবনের সর্বপ্রথম কাজা রোজা রাখলাম—এভাবেও নিয়ত করতে পারবে।

ঢাকা/এসএইচ

শেয়ার করুন

কাজা রোজার নিয়ত করবেন যেভাবে

আপডেট: ১১:৫৭:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

রমজানের রোজা ফরজ। শরীয়ত সমর্থিত অপারগতা ছাড়া কেউ ইচ্ছা করে রোজা ভাঙলে তিনি মৌলিক ফরজ লংঘনকারী ও ইসলামের ভিত্তি নষ্টকারী হিসেবে গণ্য হবেন। কোনো ব্যক্তি কারণ ছাড়া রোজা ভাঙলে পরবর্তীতে কাফফারাসহ রোজার কাজা রাখতে হবে।

মহানবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো ওজর বা অসুস্থতা ছাড়া রমজানের একটি রোজা পরিত্যাগ করবে, সে যদি ওই রোজার পরিবর্তে আজীবন রোজা রাখে তবু ওই এক রোজার ক্ষতিপূরণ হবে না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৭২৩)

তবে অসুস্থতা ও সফরকালীন অবস্থায় রোজা না রাখার অনুমতি আছে এবং মেয়েদের ঋতুস্রাব ও সন্তান প্রসব-পরবর্তী স্রাবের সময় রোজা রাখা নিষেধ। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেগুলো কাজা করে দেওয়া আবশ্যক।

পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘নির্দিষ্ট কয়েক দিন (অর্থাৎ রমজান মাসে) রোজা রাখতেই হবে। (তবে সে সময়ে) যদি তোমাদের কেউ অসুস্থ থাকে অথবা সফরে থাকে, সে অন্য সময়ে (ছুটে যাওয়া) দিনগুলো পূর্ণ করে নেবে (অর্থাৎ, যে কয়টা রোজা ছুটে গেছে, সেগুলো অন্য সময়ে কাজা করে দিতে হবে)।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৪)

আয়েশা রা. বলেন, ‘রাসুল (সা.) বেঁচে থাকা অবস্থায় আমাদের যখন ঋতুস্রাব হতো (এবং এ কারণে আমাদের নামাজ ও রোজা ছুটে যেত), তখন তিনি আমাদের ছুটে যাওয়া রোজাগুলো কাজা করে দেওয়ার নির্দেশ দিতেন, কিন্তু নামাজ কাজা করার নির্দেশ দিতেন না।’ (বুখারি ও মুসলিম)

কোনো কারণে রমজানের রোজা কাজা হয়ে গেলে যথাসম্ভব দ্রুত কাজা করে নেওয়া উত্তম। ছুটে যাওয়া রোজাগুলো একনাগাড়ে রাখতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সময় ও সুযোগ অনুসারে একটা, দুইটা করে কাজা করা যাবে।

কাজা রোজা আদায়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রোজার নিয়ত। কাজা রোজা রাখার জন্য রাতেই, সুবহে সাদিক তথা ফজরের ওয়াক্ত হওয়ার আগে  নিয়ত করা জরুরি। সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার পর কাজা রোজার নিয়ত করা সহিহ নয়।

কাজা রোজা আদায়ের ক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয় হলো— যদি একাধিক রমজানের রোজা কাজা হয়ে যায় তাহলে কাজা আদায় করার সময় কোন রমজানের রোজার কাজা আদায় করছেন তা নির্দিষ্ট করা জরুরি। তবে যদি কাজা রোজার সংখ্যা অনেক বেশি হয় এবং তা নির্দিষ্ট করা কঠিন হয় তাহলে জীবনের সর্বপ্রথম কাজা রোজা রাখলাম—এভাবেও নিয়ত করতে পারবে।

ঢাকা/এসএইচ