০৫:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

জীবন বীমায় এক বছরে অতিরিক্ত ব্যয় ১২৩ কোটি টাকা

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৭:০১:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • / ১০২০১ বার দেখা হয়েছে

২০২৫ সালে দেশের জীবন বীমা খাতের ৩৬ কোম্পানির মধ্যে ৩২ টি কোম্পানি ব্যবস্থাপনা ব্যয় বাবদ খরচ করেছে ৩৭১১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এরমধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করে অনুমোদিত ব্যয়ের চেয়ে ১২৩ কোটি ৬ লাখ টাকা অতিরিক্ত খরচ করেছে ১৭ টি কোম্পানি। ব্যবস্থাপনা ব্যয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে রেখেছে ১৫ টি কোম্পানি।

খাতের ৩৬ টি কোম্পানির মধ্যে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে ৩২ টি কোম্পানির পাঠানো অনিরীক্ষিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। বছরটিতে ৩২ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা ছিল ৩৭৫৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। ২০২৪ সালে এ খাতের ৩৬ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ব্যয় ছিল ৩৮৩৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

আইডিআরএ’র তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্যবস্থাপনা ব্যয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে রেখেছে ১৫ টি কোম্পানি। এরমধ্যে মেটলাইফ বাংলাদেশ ৯০১ কোটি ৬১ লাখ টাকা, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৬২৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২৮৪ কোটি ২১ লাখ টাকা, গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স ১৯২ কোটি ৩১ লাখ,পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২১২ কোটি ৯৬ লাখ , প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২০৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, প্রাইম ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ১০৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৬৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৬৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, আলফা ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ১২০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, আকিজ তাকাফুল লাইফ ইন্স্যুরেন্স ১৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা,মার্কেন্টাইল ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২১ কোটি ৩২ লাখ টাকা, বেঙ্গল ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৬৩ কোটি ৪ লাখ টাকা, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৭৪ কোটি ৩৫ লাখ এবং আস্থা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ১৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যবস্থাপনা ব্যয় বাবদ খরচ করেছে।

২০২৫ সালে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করে অনুমোদিত ব্যয়ের চেয়ে ১২০ কোটি ৫৪ লাখ টাকা অতিরিক্ত খরচ করেছে ১৭ টি কোম্পানি। এরমধ্যে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত খরচ করেছে ৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত খরচ করেছে ২৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা, প্রোগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত খরচ করেছে ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত খরচ করেছে ৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত খরচ করেছে ৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, প্রোটেক্টিভ ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত খরচ করেছে ৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা, সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত খরচ করেছে ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত খরচ করেছে ৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা , জেনিথ ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত খরচ করেছে ৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা, এলআইসি বাংলাদেশ অতিরিক্ত খরচ করেছে ২ কোটি ৪১ লাখ টাকা, বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত খরচ করেছে ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ডায়মন্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত ব্যয় করেছে ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা, গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত ব্যয় করেছে ৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, শান্তা লাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত খরচ করেছে ১৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, এনআরবি ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত খরচ করেছে ৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত খরচ করেছে ৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা এবং বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত খরচ করেছে ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

নির্ধারিত সময়ে আইডিআরএ’র কাছে ব্যবস্থাপনা ব্যয় সংক্রান্ত তথ্য দেয়নি জীবন বীমা কর্পোরেশন, ট্রাস্ট ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, স্বদেশ ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি।

অনুমোদিত ব্যবস্থাপনা ব্যয় বলতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বীমা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যে ব্যয় করার অনুমোদন দিয়ে থাকে তাকে বোঝায়। বিশেষ করে এজেন্ট কমিশন ও পরিচালন ব্যয়। মূলত এক বছরে মোট প্রিমিয়াম আয়ের ভিত্তিতে এই সীমা নির্ধারণ করা হয়। সংম্লিষ্টরা বলছেন, কোনো কোম্পানি নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি ব্যয় করলে সময়মতো বীমা দাবি নিষ্পত্তিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

তবে বীমা কোম্পানিগুলোর শীর্ষ নির্বাহীরা বলছেন, সন্তোষজনক প্রিমিয়াম আয়ের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা ব্যয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন তারা।

ঢাকা/এসএইচ

শেয়ার করুন

জীবন বীমায় এক বছরে অতিরিক্ত ব্যয় ১২৩ কোটি টাকা

আপডেট: ০৭:০১:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

২০২৫ সালে দেশের জীবন বীমা খাতের ৩৬ কোম্পানির মধ্যে ৩২ টি কোম্পানি ব্যবস্থাপনা ব্যয় বাবদ খরচ করেছে ৩৭১১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এরমধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করে অনুমোদিত ব্যয়ের চেয়ে ১২৩ কোটি ৬ লাখ টাকা অতিরিক্ত খরচ করেছে ১৭ টি কোম্পানি। ব্যবস্থাপনা ব্যয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে রেখেছে ১৫ টি কোম্পানি।

খাতের ৩৬ টি কোম্পানির মধ্যে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে ৩২ টি কোম্পানির পাঠানো অনিরীক্ষিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। বছরটিতে ৩২ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা ছিল ৩৭৫৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। ২০২৪ সালে এ খাতের ৩৬ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ব্যয় ছিল ৩৮৩৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

আইডিআরএ’র তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্যবস্থাপনা ব্যয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে রেখেছে ১৫ টি কোম্পানি। এরমধ্যে মেটলাইফ বাংলাদেশ ৯০১ কোটি ৬১ লাখ টাকা, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৬২৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২৮৪ কোটি ২১ লাখ টাকা, গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স ১৯২ কোটি ৩১ লাখ,পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২১২ কোটি ৯৬ লাখ , প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২০৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, প্রাইম ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ১০৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৬৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৬৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, আলফা ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ১২০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, আকিজ তাকাফুল লাইফ ইন্স্যুরেন্স ১৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা,মার্কেন্টাইল ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২১ কোটি ৩২ লাখ টাকা, বেঙ্গল ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৬৩ কোটি ৪ লাখ টাকা, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৭৪ কোটি ৩৫ লাখ এবং আস্থা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ১৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যবস্থাপনা ব্যয় বাবদ খরচ করেছে।

২০২৫ সালে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করে অনুমোদিত ব্যয়ের চেয়ে ১২০ কোটি ৫৪ লাখ টাকা অতিরিক্ত খরচ করেছে ১৭ টি কোম্পানি। এরমধ্যে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত খরচ করেছে ৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত খরচ করেছে ২৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা, প্রোগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত খরচ করেছে ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত খরচ করেছে ৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত খরচ করেছে ৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, প্রোটেক্টিভ ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত খরচ করেছে ৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা, সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত খরচ করেছে ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত খরচ করেছে ৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা , জেনিথ ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত খরচ করেছে ৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা, এলআইসি বাংলাদেশ অতিরিক্ত খরচ করেছে ২ কোটি ৪১ লাখ টাকা, বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত খরচ করেছে ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ডায়মন্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত ব্যয় করেছে ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা, গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত ব্যয় করেছে ৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, শান্তা লাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত খরচ করেছে ১৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, এনআরবি ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত খরচ করেছে ৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত খরচ করেছে ৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা এবং বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত খরচ করেছে ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

নির্ধারিত সময়ে আইডিআরএ’র কাছে ব্যবস্থাপনা ব্যয় সংক্রান্ত তথ্য দেয়নি জীবন বীমা কর্পোরেশন, ট্রাস্ট ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, স্বদেশ ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি।

অনুমোদিত ব্যবস্থাপনা ব্যয় বলতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বীমা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যে ব্যয় করার অনুমোদন দিয়ে থাকে তাকে বোঝায়। বিশেষ করে এজেন্ট কমিশন ও পরিচালন ব্যয়। মূলত এক বছরে মোট প্রিমিয়াম আয়ের ভিত্তিতে এই সীমা নির্ধারণ করা হয়। সংম্লিষ্টরা বলছেন, কোনো কোম্পানি নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি ব্যয় করলে সময়মতো বীমা দাবি নিষ্পত্তিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

তবে বীমা কোম্পানিগুলোর শীর্ষ নির্বাহীরা বলছেন, সন্তোষজনক প্রিমিয়াম আয়ের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা ব্যয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন তারা।

ঢাকা/এসএইচ