নতুন বছরে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে অর্থনীতি
- আপডেট: ০৬:২৫:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১০২৩৫ বার দেখা হয়েছে
অর্থনীতিতে নানা অভিজ্ঞতা এবং ঘটনার মধ্যে শেষ হলো ২০২৫। বিদায়ী বছরে পিছু ছাড়েনি মূল্যস্ফীতি। পণ্য কিংবা সেবা, দুই ক্ষেত্রেই মূল্যস্ফীতির চাপ ছিল। বছরের অধিকাংশ সময় ধরেই ৮ শতাংশের উপরে ছিল গড় মূল্যস্ফীতি।
বিনিয়োগে ছিল না চাঞ্চল্য। বেড়েছে দারিদ্র্য এবং আয় বৈষম্যে। রফতানি আয়ে ছিল অস্বস্তি। অভ্যন্তরীণ আয়ে ছিল না সুখবর। তবে, ব্যাংক খাতের সংস্কার ও রেমিটেন্স আয়ে আসে গতি। মুদ্রাবাজারে ছিল স্থিতিশীলতা। ঠেকানো গেছে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের পতন।
এবার এলো নতুন বছর ২০২৬। প্রত্যাশা, রাজনৈতিক সরকারের অধীনে মিলবে স্বস্তি।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বললেন, যখন বিনিময় হার স্থিতিশীল হবে, তখন সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আসবে কিছুটা। তারপরও বাজার ব্যবস্থাপনার যে দিকটা, সংশ্লিষ্ট যেসব প্রতিষ্ঠান আছে, তাদের সক্ষমতা-নজরদারি-খবরদারির তথ্য-উপাত্ত সঠিকভাবে জানার প্রয়োজনীয়তা কিন্তু থেকেই যাবে।
নানা অনিশ্চয়তায় থমকে গেছে বিনিয়োগ। কমেছে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি)। উৎপাদন থমকে যাওয়ায় কমেছে কর্মসংস্থান। প্রশ্ন হচ্ছে নতুন বছরে কি কাটবে বিনিয়োগ খড়া?
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেছেন, একদিকে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, ব্যাংকিং খাতের চরম সংকট, নানা অজুহাতে আবার আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ করে দিচ্ছে যখন-তখন। তারপরে আবার এক্সপোর্ট করতেছি, ক্রেতারা পণ্য নিয়ে পেমেন্ট দিচ্ছে না। পেমেন্ট না আসার কারণে ব্যাংক আমার পরবর্তী কার্যক্রমে এলসি খুলতে দিচ্ছে না।
এদিকে, ব্যাংক খাতে হয়েছে নানা ধরনের সংস্কার। একাধিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ব্যাংক ভেঙে করা হয়েছে একীভূতকরণ। তবে, নতুন উচ্চতায় উঠেছে খেলাপি ঋণ।
অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, ব্যাংক খাতে কিন্তু এখনও সুশাসনের অভাব রয়ে গেছে এবং যতদিন এই সুশাসন আনা যাবে না ততদিন ব্যাংকগুলো ঘুঁরে দাঁড়াতে পারবে না। এখনও তো খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে।
দেশে বেড়েছে দারিদ্র্য ও বৈষম্য। মানুষের আয় কমায় তৈরি হয়েছে সংকট। অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক নানা সংকটে কমেছে রফতানি আয়। অর্থনৈতিক শ্বেতপত্রে উঠে এসেছে নানা অসঙ্গতি। কিন্তু সংস্কার উদ্যোগ শুরু করেনি সরকার।
ড. মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ না হলে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে না। সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, দারিদ্র এখন বাড়ছে। এর জন্য দায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে না পারা, উৎপাদন বাড়াতে না পারা।
গেলো বছর জুড়েই কৃষি উৎপাদনে ছিল সাফল্য। ২০২৫ সালে অর্থনীতির জন্য স্বস্তি এনেছে রেমিটেন্স ও স্থিতিশীল মুদ্রাবাজার।
ঢাকা/এসএইচ




































