০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ মে ২০২৪

‘বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারকে বেশি ঋণ দিলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে’

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০১:৫৭:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জুন ২০২৩
  • / ৪২১১ বার দেখা হয়েছে

আসন্ন ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে দুই লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে অধিকাংশ ঘাটতি ব্যাংক খাত থেকে পূরণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারকে বেশি ঋণ দিলে মূল্যস্ফীতি ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে বলে জানিয়েছেন রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (আরএপিআইড) চেয়ারম্যান ড. আব্দুর রাজ্জাক।

বুধবার (৭ জুন) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত বাজেট পরবর্তী এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বর্তমানে আমাদের বড় সমস্যা মূল্যস্ফীতি। এটির চাপ গত বছর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু থেকেই বাড়ে। মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। যা গত ১১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি আমাদের বর্তমানে পাওয়ার ক্রাইসিস রয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে আসন্ন বাজেটে উচ্চ প্রবৃদ্ধি (৭.৫%) ধরা হয়েছে। যা বাস্তবায়ন করতে গেলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক যদি সরকারকে বেশি পরিমাণে ঋণ দেয় তাহলে মূল্যস্ফীতি ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে।

তিনি বলেন, এই বাজেটের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই সাধারণ মানুষকে কিছু সুবিধা দেওয়া উচিত। প্রতিবছরই বাজেটের পুরোটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। চলতি বছরেও একটা ঘাটতি থাকবে। ডলার সংকটে আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এতে আমদানি কমলেও অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে। আসন্ন বাজেটে প্রধান চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা, কারেন্ট একাউন্ট ব্যালেন্সের উন্নতি করা এবং ফরেন এক্সচেঞ্জ রেট স্থিতিশীল করতে হবে। এছাড়া সুদের হার বাজারের ওপর ছেড়ে দিতে হবে। যেসব দেশ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারাই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে। তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়াটা জরুরি।

আরও পড়ুন: রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি কমেছে ৭৫ শতাংশ

তিনি আরও বলেন, মুদ্রাস্ফীতির সময় সরকারের উচিত ভেবে-চিন্তে খরচ করা। এ সময় প্রবৃদ্ধি অর্জন করার কথা ভাবলে চলবে না। মুদ্রাস্ফীতির সময় প্রবৃদ্ধি অর্জনের কথা ভাবা আগুনে ঘি ঢালার মতো। বাজেট আমদেরকে পরবর্তী বছরের খরচের একটা ভিশন দেয়। আর এই মুহূর্তে বৈষম্য বেড়েছে দেশে। তাই এই মুহূর্তে প্রত্যক্ষ কর বাড়ানো উচিত। আর এবারের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী প্রত্যক্ষ কর বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা প্রশংসনীয়।

ঢাকা/এসএ

শেয়ার করুন

x

‘বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারকে বেশি ঋণ দিলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে’

আপডেট: ০১:৫৭:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জুন ২০২৩

আসন্ন ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে দুই লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে অধিকাংশ ঘাটতি ব্যাংক খাত থেকে পূরণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারকে বেশি ঋণ দিলে মূল্যস্ফীতি ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে বলে জানিয়েছেন রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (আরএপিআইড) চেয়ারম্যান ড. আব্দুর রাজ্জাক।

বুধবার (৭ জুন) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত বাজেট পরবর্তী এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বর্তমানে আমাদের বড় সমস্যা মূল্যস্ফীতি। এটির চাপ গত বছর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু থেকেই বাড়ে। মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। যা গত ১১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি আমাদের বর্তমানে পাওয়ার ক্রাইসিস রয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে আসন্ন বাজেটে উচ্চ প্রবৃদ্ধি (৭.৫%) ধরা হয়েছে। যা বাস্তবায়ন করতে গেলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক যদি সরকারকে বেশি পরিমাণে ঋণ দেয় তাহলে মূল্যস্ফীতি ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে।

তিনি বলেন, এই বাজেটের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই সাধারণ মানুষকে কিছু সুবিধা দেওয়া উচিত। প্রতিবছরই বাজেটের পুরোটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। চলতি বছরেও একটা ঘাটতি থাকবে। ডলার সংকটে আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এতে আমদানি কমলেও অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে। আসন্ন বাজেটে প্রধান চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা, কারেন্ট একাউন্ট ব্যালেন্সের উন্নতি করা এবং ফরেন এক্সচেঞ্জ রেট স্থিতিশীল করতে হবে। এছাড়া সুদের হার বাজারের ওপর ছেড়ে দিতে হবে। যেসব দেশ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারাই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে। তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়াটা জরুরি।

আরও পড়ুন: রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি কমেছে ৭৫ শতাংশ

তিনি আরও বলেন, মুদ্রাস্ফীতির সময় সরকারের উচিত ভেবে-চিন্তে খরচ করা। এ সময় প্রবৃদ্ধি অর্জন করার কথা ভাবলে চলবে না। মুদ্রাস্ফীতির সময় প্রবৃদ্ধি অর্জনের কথা ভাবা আগুনে ঘি ঢালার মতো। বাজেট আমদেরকে পরবর্তী বছরের খরচের একটা ভিশন দেয়। আর এই মুহূর্তে বৈষম্য বেড়েছে দেশে। তাই এই মুহূর্তে প্রত্যক্ষ কর বাড়ানো উচিত। আর এবারের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী প্রত্যক্ষ কর বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা প্রশংসনীয়।

ঢাকা/এসএ