বিকন ফার্মার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ: তদন্ত কমিটি গঠন
- আপডেট: ১০:৪৬:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১০৩৮৯ বার দেখা হয়েছে
পুঁজিবাজারে ওষুধ ও রসায়ন খাতে তালিকাভুক্ত বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির বিরুদ্ধে ঋণ অনিয়ম, অর্থ পাচার এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এই অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিশন জানিয়েছে, আগামী ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে এই কমিটিকে তাদের অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পন্ন করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউ-এর একটি গোপন প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে বিএসইসি এই কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস এবং বিকন গ্রুপের অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিয়মবহির্ভূত আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও কোম্পানিটি বড় ধরনের অনিয়ম করেছে বলে সূত্রে জানা গেছে।
বিএসইসির তদন্ত আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, বিকন ফার্মা তাদের উৎপাদিত পণ্য ‘বিকন মেডিকেয়ার’-এর ব্যানারে বিক্রি করে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের মুনাফা থেকে বঞ্চিত করেছে এবং তাদের সাথে প্রতারণা করেছে। এছাড়া তালিকাভুক্ত এই কোম্পানিটি থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে গ্রুপের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে ঋণ প্রদান এবং নিজেদের ঋণের অর্থ অন্য প্রতিষ্ঠানের দায় মেটাতে ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি এই আর্থিক অসঙ্গতিগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে দেখবে।
তদন্তের আরেকটি বড় ক্ষেত্র হলো ঋণের অর্থের অবৈধ ব্যবহার। অভিযোগ উঠেছে যে, বিকন মেডিকেয়ার লিমিটেডের নামে নেওয়া ঋণের অর্থ ব্যক্তিগত হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তা নিয়ম ভেঙে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা হয়েছে। এমনকি ব্যাংকের ওভারড্রাফট সুবিধার অর্থও বাজারে কারসাজির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তদন্ত কমিটি সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখবে।
বিএসইসির পরিচালক শেখ মাহবুব উর রহমান, উপ-পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম এবং সহকারী পরিচালক বিনয় দাসের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি ইতিমধ্যে তাদের কাজ শুরু করেছে। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ ১৯৬৯ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ক্ষমতাবলে এই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই অনুসন্ধান জরুরি হয়ে পড়েছে।
ঢাকা/এসএইচ

































