বিডি সার্ভিসেসের সম্পদ পুনর্মূল্যায়নে বিএসইসির নির্দেশ
- আপডেট: ০১:৪৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ এপ্রিল ২০২২
- / ১০৩৮৪ বার দেখা হয়েছে
বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি বাংলাদেশ (বিডি) সার্ভিসেসের সম্পদের দায় বেড়েই চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় কোম্পানিটিকে সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। চলতি বছরে এপ্রিলের মধ্যে পুনর্মূল্যায়ন সংক্রান্ত প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করতে বলো হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।
অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক–টুইটার–লিংকডইন–ইন্সটাগ্রাম–ইউটিউব
সম্প্রতি বাংলাদেশ (বিডি) সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে বিএসইসি।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মার্চে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা প্রতিনিধিদের সঙ্গে আর্থিকসহ সার্বিক অবস্থা নিয়ে বৈঠক করে বিএসইসির। বৈঠকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। বৈঠকে বিএসইসির পক্ষ থেকে তিনিটি সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিএসইসির সিদ্ধান্তগুলো হলো- বাংলাদেশ সার্ভিসেস চলতি বছরেরর এপ্রিলের মধ্যে তার সম্পদের দায় পুনর্মূল্যায়ন প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেবে। একই সঙ্গে পুনর্মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলেও কোম্পানিটি কমিশনের সঙ্গে যৌথভাবে একটি আর্থিক ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। আর ওই প্রণয়নকৃত পরিকল্পনা কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ মন্ত্রণালয়ের সামনে উপস্থাপন করবে।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মার্চে বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সার্ভিসেসের পরিচালনা পর্ষদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল কাইয়ুমসহ অন্যান্য উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বর্তমান আর্থিক অবস্থার বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে। এর কারণ হিসেবে বিএসইসি জানায়, কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২১ সালের ৩০ জুন থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণাত্মক শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ২৫.২৪ টাকা থেকে বেড়ে ৩১ টাকা দাঁড়িয়েছে। এছাড়া কোম্পানিটির আর্থিক সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি সমস্যা বড় দীর্ঘমেয়াদী ঋণ। যার কারণে কোম্পানিকে একটি বড় সুদ বহন করতে হচ্ছে।
বৈঠকে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সর্বশেষ এনএভি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো কোভিড মহামারির তৃতীয় ধাক্কা। এছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কোম্পানিটির সম্পূর্ণ ক্ষমতার মাত্র ১২ শতাংশ কার্যকর ছিল। ফলে কোম্পানির নির্দিষ্ট খরচ বহন করে পারেনি বলে জানানো হয়।
এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠার বিষয়ে বাংলাদেশ সার্ভিসেস জানায়, কোম্পানির পক্ষ থেকে রাইট শেয়ার ইস্যু করা যেতে পারে। কোম্পানিতে নতুন নগদ অর্থ প্রবেশ করানো সম্ভব হলে এ সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সার্ভিসেস পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ১৯৮৪ সালে। ‘জেড’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৯৭ কোটি ৭৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা। সেই হিসেবে কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ৯ কোটি ৭৭ লাখ ৮৮ ৯১৩টি। এর মধ্যে সরকারের হাতে ৯৯.৬৮ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে ০.১৯ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ০.১৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। কোম্পানিটির ২০১৪ সালের পর থেকে শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ প্রদান করেনি। রোববার (৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ সার্ভিসেসের শেয়ার সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ৫.২০ টাকায়।
ঢাকা/এসআর





































