১২:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বড় ঋণ দেওয়ার পরিমাণ কমিয়ে আনার পরিকল্পনা হচ্ছে: গভর্নর

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৭:৪৪:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১০২১০ বার দেখা হয়েছে

খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরাসহ বন্ড মার্কেটের উন্নয়নে ব্যাংক থেকে করপোরেট কোম্পানির বড় ঋণ দেওয়ার পরিমাণ কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জনাব আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, করপোরেট থেকে ব্যাংক আলাদা করে নেওয়া হবে, যাতে বড়দের একক গ্রাহক ঋণ সীমা অতিক্রম না করে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেলে ‘বন্ড মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড রেকমেন্ডেশনস’ শীর্ষক সেমিনারে গভর্নর এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বন্ডের বাজার উন্নয়নে একটি গবেষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসি। সেই গবেষণার আলোকে উপাত্ত সেমিনারে তুলে ধরেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা জনাব এজাজুল ইসলাম।

একক গ্রাহক ঋণ সীমা হলো ব্যাংকের মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ। গভর্নর বলেন, মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি কাউকে এককভাবে ঋণ দিতে পারবে না ব্যাংক। এর মধ্যে ফান্ডেড ঋণ হবে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ, আর নন-ফান্ডেড ঋণ সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহ সবুজ অর্থায়ন ক্ষেত্রে এই সীমা শিথিল থাকবে।

একক ঋণসীমা অতিক্রম না করতে দেওয়ার এই পদ্ধতিকে পুশ ফ্যাক্টর হিসেবে বর্ণনা করে আহসান মনসুর বলেন, করপোরেট প্রতিষ্ঠান যেন বন্ড মার্কেটে আসে, সেজন্য তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বন্ড ইস্যুতে সময় কমানো, খরচ কমানো ও বিনিয়োগকারীর জন্য আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান জনাব খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, ব্যাংক থেকে সহজে ঋণ পেলে করপোরেটরা পুঁজিবাজারে আসবে না। খেলাপি ঋণের বড় হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদী ব্যাংক ঋণ একটি মূল কারণ।

গভর্নর জানান, বন্ড মার্কেটের উন্নয়নে এখন ব্যাংকের নেতৃত্বে কাজ শুরু হলেও ভবিষ্যতে পুরো নিয়ন্ত্রণ পুঁজিবাজারের অধীনে চলে যাবে। অর্থনীতিকে ব্যাংক নির্ভরতা থেকে পুঁজিবাজার নির্ভর করা হবে।

সেমিনারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর জনাব হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন অর্থ বিভাগের সচিব জনাব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি জনাব মাহবুবুর রহমান, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান জনাব মমিনুল ইসলাম, বিএসইসি কমিশনার জনাব মো. সাইফুদ্দিন, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক জনাব উজমা চৌধুরী ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মাশরুর আরেফিন।

ঢাকা/এসএইচ

শেয়ার করুন

error: Content is protected ! Please Don't Try!

বড় ঋণ দেওয়ার পরিমাণ কমিয়ে আনার পরিকল্পনা হচ্ছে: গভর্নর

আপডেট: ০৭:৪৪:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরাসহ বন্ড মার্কেটের উন্নয়নে ব্যাংক থেকে করপোরেট কোম্পানির বড় ঋণ দেওয়ার পরিমাণ কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জনাব আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, করপোরেট থেকে ব্যাংক আলাদা করে নেওয়া হবে, যাতে বড়দের একক গ্রাহক ঋণ সীমা অতিক্রম না করে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেলে ‘বন্ড মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড রেকমেন্ডেশনস’ শীর্ষক সেমিনারে গভর্নর এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বন্ডের বাজার উন্নয়নে একটি গবেষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসি। সেই গবেষণার আলোকে উপাত্ত সেমিনারে তুলে ধরেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা জনাব এজাজুল ইসলাম।

একক গ্রাহক ঋণ সীমা হলো ব্যাংকের মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ। গভর্নর বলেন, মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি কাউকে এককভাবে ঋণ দিতে পারবে না ব্যাংক। এর মধ্যে ফান্ডেড ঋণ হবে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ, আর নন-ফান্ডেড ঋণ সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহ সবুজ অর্থায়ন ক্ষেত্রে এই সীমা শিথিল থাকবে।

একক ঋণসীমা অতিক্রম না করতে দেওয়ার এই পদ্ধতিকে পুশ ফ্যাক্টর হিসেবে বর্ণনা করে আহসান মনসুর বলেন, করপোরেট প্রতিষ্ঠান যেন বন্ড মার্কেটে আসে, সেজন্য তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বন্ড ইস্যুতে সময় কমানো, খরচ কমানো ও বিনিয়োগকারীর জন্য আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান জনাব খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, ব্যাংক থেকে সহজে ঋণ পেলে করপোরেটরা পুঁজিবাজারে আসবে না। খেলাপি ঋণের বড় হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদী ব্যাংক ঋণ একটি মূল কারণ।

গভর্নর জানান, বন্ড মার্কেটের উন্নয়নে এখন ব্যাংকের নেতৃত্বে কাজ শুরু হলেও ভবিষ্যতে পুরো নিয়ন্ত্রণ পুঁজিবাজারের অধীনে চলে যাবে। অর্থনীতিকে ব্যাংক নির্ভরতা থেকে পুঁজিবাজার নির্ভর করা হবে।

সেমিনারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর জনাব হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন অর্থ বিভাগের সচিব জনাব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি জনাব মাহবুবুর রহমান, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান জনাব মমিনুল ইসলাম, বিএসইসি কমিশনার জনাব মো. সাইফুদ্দিন, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক জনাব উজমা চৌধুরী ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মাশরুর আরেফিন।

ঢাকা/এসএইচ