ভোগ নির্ভর অর্থনীতি কখনো টেকসই হতে পারেনা: রাশেদ আল মাহমুদ
- আপডেট: ০৫:১৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
- / ১০২৩২ বার দেখা হয়েছে
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, বিনিয়োগের উপর নির্ভরতা কমিয়ে ভোগ নির্ভর কিংবা ঋণ নির্ভর অর্থনীতি কখনো টেকশই হতে পারেনা। বিনিয়োগ নির্ভর না হলে অর্থনীতি টেকশই হয়না।
রবিবার (০৮ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম আয়োজিত, ‘পুঁজিবাজারে নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পথ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ আল মাহমুদ বলেন, আমরা একটি ঋণ নির্ভর সমাজ থেকে মালিকানা নির্ভর সমাজে রূপান্তরিত হতে চাই। যেখানে সকল জনগন মালিক হিসেবে রোল করবে। জনগণের এবং দেশের সকল সেবা সুবিধার মালিক জনগণেনর নিজের থাকবে। অর্থনৈতিক গণতন্ত্রী করণের একমাত্র পথ হচ্ছে পুঁজিবাজার।
তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের অসুখগুলো চিন্হিত। বাজার ভিত্তিক অভ্যন্তরীণ রেগুলেটরি ব্যবস্থা খুব খারাপ। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজারের মাঝে থাকা অডিট, ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি, এডভেকেসির মতো রেগুলেটরগুলো।তাই বাজার ঠিক করতে হলে এসব প্রতিষ্ঠান যদি ঠিকমতো দায়িত্ব পালন না করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে পারলে বাজারে মানুষের আস্থা ফিরে আসবে। বাংলাদেশে ইসলামিক স্টক এক্সচেঞ্জ হোক। মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়ার মতো করে কিছু চিন্তা করা।
সবশেষে তিনি দেশে ইসলামি স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে কথা বলেন।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, আমরা খুব অল্প সময়ের মাঝে অনেকগুলো রুলসের সংশোধন এনেছি। ২০০ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। ১৫০০ কোটি টাকা জরিমানা করেছি। যার মাঝে ৫ কোটি ২০ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। এর মাঝে দুদকে অভিযোগ পাঠানো হয়েছে ১৬ টি এবং ৪ টি মামলা চলমান।
তিনি বলেন, বড় কোম্পানিগুলোকে বাজারে আনার জন্য আমরা একটি ল’ ড্রাফট করেছি। যা প্রয়োগ করতে সরকার এবং অন্যান্য সহোযোগি সংগঠনগুলোর সহযোগিতা আমাদের লাগবে। বাজার সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রধান উপাদান ভালো কোম্পানি বাজারে আনা। বাংলাদেশে অনেক ভালো কোম্পানি আছে কিন্তু আমাদের বাজারে তালিকাভুক্ত নেই৷
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান বলেন, পুঁজিবাজারে ইনসেনটিভের কথা যদি বলি আমরা এটা অতীতে অনেক দিয়েছি। কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের সর্বস্তরের জনগণের কথা চিন্তা করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের মতো বিষয়গুলো হাতে নিয়েছে। এসবের জন্য এনবিআরকে রেভিনিউ জেনারেট করতে হবে। এই মুহুর্তে এনবিআরের কাছে বড় বড় ইনসেনটিভ গুলো চাওয়ার আগে আপনারা চিন্তাভাবনা করবেন।
আব্দুর রহমান খান বলেন, পৃথিবীর কোন দেশ পুজিবাজারকে শক্তিশালী না করে শিল্প বিপ্লব ঘটাতে পারেনি। তাই পুঁজিবাজার নিয়ে দেশের মানুষ এবং কিছু পলিসি মেকারের নেতিবাচক ধারণা পরিবর্তন করার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। বিএসইসি ইতিমধ্যে অনেকগুলো সংস্কার এনেছে যা কার্যকরী। রেভিনিউ লিকেজ তৈরি না করে বাজার এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আপনাদের পাশে যতোট থাকা যায় এনবিআর থাকবে।
ঢাকা/এসএইচ


































