ভ্যানগার্ডের আপিল খারিজ: জরিমানা বহাল
- আপডেট: ০৩:১৫:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
- / ১০২০৪ বার দেখা হয়েছে
মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড-এর বিরুদ্ধে আরোপিত ১০ কোটি টাকার অর্থদণ্ড বহাল রেখেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে কোম্পানিটির করা আপিল আবেদনও অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করেছে সংস্থাটি।
সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে এএফসি হেলথ লিমিটেড-এ ভ্যানগার্ড পরিচালিত একটি মিউচ্যুয়াল ফান্ড থেকে অবৈধভাবে বিনিয়োগ করা হয়। এর মধ্যে চার কোটি টাকাসহ মোট ৯ কোটি টাকা নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে ফেরত না আনায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় বিএসইসি। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০০১ অনুযায়ী ১০ কোটি টাকার জরিমানা আরোপ করা হয়, যা ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে।
তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও ওই বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত আনতে ব্যর্থ হয় ভ্যানগার্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটি আপিল দায়ের করলেও আইন অনুযায়ী জরিমানার কমপক্ষে ১৫ শতাংশ জমা না দেওয়ায় সেই আপিল গ্রহণযোগ্য হয়নি বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বিএসইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালার একাধিক ধারা—৩৩(১), ৩৩(৮), ৫৬, ৫৮ ও ৫৯—লঙ্ঘন করেছে। একই সঙ্গে ফান্ডের অর্থ যথাসময়ে ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ভ্যানগার্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করার নানা অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের অর্থ বিধিবহির্ভূতভাবে বিনিয়োগ, আত্মসাৎ এবং বিদেশে পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ খতিয়ে দেখছে বিএসইসি। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বর্তমান পর্যন্ত ফান্ড পরিচালনায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার এ ধরনের কঠোর অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে এবং অন্যান্য সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
ঢাকা/এসএইচ

































