০৯:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬
তিন মাসে সংকট দ্বিগুণ

মূলধন ঘাটতিতে টালমাটাল ব্যাংকিং খাত

বিশেষ প্রতিবেদক
  • আপডেট: ০৫:৪৯:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১০২২৯ বার দেখা হয়েছে

দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে এক গভীর ও বহুমাত্রিক সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে, যার কেন্দ্রে রয়েছে ভয়াবহ মূলধন ঘাটতি। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে এই ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৮২ লাখ কোটি টাকায়, যা আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক-এর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তথ্যভিত্তিক সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ২৩টি সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। অথচ এর ঠিক আগের প্রান্তিকে, অর্থাৎ জুন শেষে ২৪টি ব্যাংকের মোট ঘাটতি ছিল ১.৫৫ লাখ কোটি টাকা। এই অস্বাভাবিক দ্রুত অবনতি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ব্যাংকিং খাতের সমস্যা এখন আর সাময়িক নয়, বরং এটি একটি গভীর কাঠামোগত সংকটে রূপ নিয়েছে।

এই সংকটের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতার প্রধান সূচক—মূলধন ঝুঁকিজনিত সম্পদের অনুপাত (CRAR)—এর ভয়াবহ পতন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে এই অনুপাত নেমে দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ২.৯০ শতাংশে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নির্ধারিত ন্যূনতম ১২.৫ শতাংশের তুলনায় অনেক নিচে। জুন শেষে যেখানে এই হার ছিল ৪.৪৭ শতাংশ, সেখানে মাত্র তিন মাসে এমন পতন ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি বহনের সক্ষমতা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ারই ইঙ্গিত দেয়। ফলে ব্যাংকগুলো এখন নতুন করে ঋণ বিতরণে সতর্ক হয়ে পড়ছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষক ও ব্যাংকিং সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ভয়াবহ পরিস্থিতির পেছনে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, সুশাসনের অভাব এবং লাগামহীন ঋণ বিতরণই মূলত দায়ী। বিশেষ করে “অ্যাগ্রেসিভ লেন্ডিং” এবং পরিচালনা পর্ষদের প্রভাবিত ঋণ অনুমোদন ব্যাংকগুলোর আর্থিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গোপন রাখা খেলাপি ঋণ এখন ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬.৪৪ লাখ কোটি টাকা, যা মূলধন ঘাটতির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে এবং ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার সক্ষমতাকে সীমিত করে ফেলছে।

ব্যাংকভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই সংকট কোনো একটি নির্দিষ্ট খাতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রায় সব ধরনের ব্যাংকই এর প্রভাবের মধ্যে পড়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংকের সম্মিলিত মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা, যেখানে জনতা ব্যাংকের ঘাটতি সর্বোচ্চ ১৯ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা। বেসরকারি খাতের নয়টি ব্যাংকের মোট ঘাটতি ৩৬ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা, যার মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংক এককভাবে ১০ হাজার ৬৫১ কোটি টাকার ঘাটতিতে রয়েছে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক অবস্থা ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোর, যেখানে মোট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১.৭৫ লাখ কোটি টাকা। এই খাতের মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ঘাটতি একাই ৬৫ হাজার ৯০ কোটি টাকা, যা পুরো খাতের দুর্বলতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। এছাড়া ইউনিয়ন ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে বড় অঙ্কের ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একইভাবে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মধ্যেও বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ঘাটতি একাই ২৯ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা।

ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, এই সংকট মূলত একটি “কাঠামোগত সমস্যা”, যা দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হয়েছে। মূলধন দুর্বল হয়ে পড়লে একটি ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা ব্যাহত হয়, বড় অঙ্কের ঋণ প্রদান সীমিত হয়ে যায় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি হয়। বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত অংশীদার ব্যাংকের মূলধন সক্ষমতা যাচাই করেই বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে।

এছাড়া এই সংকট এখন একটি বৃহত্তর “সিস্টেমিক রিস্ক”-এ পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ব্যাংকগুলো ঝুঁকি নিতে অনাগ্রহী হয়ে পড়ায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে যাচ্ছে, যা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক ব্যাংক এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে টিকে আছে, যা দীর্ঘমেয়াদে আরও বড় ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের ক্রেডিট রিস্ক বেড়ে যাওয়ায় বিদেশি ব্যাংকগুলোর আগ্রহ কমে যাচ্ছে, ফলে দেশের অর্থায়ন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংকট থেকে উত্তরণের জন্য দ্রুত ও কঠোর সংস্কার প্রয়োজন। ব্যাংকগুলোকে নতুন করে মূলধন সংগ্রহ করতে হবে, তা মুনাফা সংরক্ষণ বা নতুন শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে হোক। পাশাপাশি দুর্বল ও তথাকথিত “জম্বি” ব্যাংকগুলোর আইনি নিষ্পত্তি, কার্যকর ব্যাংক রেজোল্যুশন কাঠামো গড়ে তোলা এবং ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি জোরদার করা জরুরি। খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের তালিকা প্রকাশ এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেও বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

সব মিলিয়ে, ব্যাংকিং খাতের এই বিশাল মূলধন ঘাটতি এখন শুধু একটি খাতভিত্তিক সমস্যা নয়; এটি পুরো অর্থনীতির জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। সুশাসন প্রতিষ্ঠা, নীতিগত সংস্কার এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা গেলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বিনিয়োগ, প্রবৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর।

বিজনেস জার্নাল/ঢাকা

ট্যাগঃ

শেয়ার করুন

তিন মাসে সংকট দ্বিগুণ

মূলধন ঘাটতিতে টালমাটাল ব্যাংকিং খাত

আপডেট: ০৫:৪৯:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে এক গভীর ও বহুমাত্রিক সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে, যার কেন্দ্রে রয়েছে ভয়াবহ মূলধন ঘাটতি। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে এই ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৮২ লাখ কোটি টাকায়, যা আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক-এর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তথ্যভিত্তিক সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ২৩টি সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। অথচ এর ঠিক আগের প্রান্তিকে, অর্থাৎ জুন শেষে ২৪টি ব্যাংকের মোট ঘাটতি ছিল ১.৫৫ লাখ কোটি টাকা। এই অস্বাভাবিক দ্রুত অবনতি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ব্যাংকিং খাতের সমস্যা এখন আর সাময়িক নয়, বরং এটি একটি গভীর কাঠামোগত সংকটে রূপ নিয়েছে।

এই সংকটের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতার প্রধান সূচক—মূলধন ঝুঁকিজনিত সম্পদের অনুপাত (CRAR)—এর ভয়াবহ পতন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে এই অনুপাত নেমে দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ২.৯০ শতাংশে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নির্ধারিত ন্যূনতম ১২.৫ শতাংশের তুলনায় অনেক নিচে। জুন শেষে যেখানে এই হার ছিল ৪.৪৭ শতাংশ, সেখানে মাত্র তিন মাসে এমন পতন ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি বহনের সক্ষমতা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ারই ইঙ্গিত দেয়। ফলে ব্যাংকগুলো এখন নতুন করে ঋণ বিতরণে সতর্ক হয়ে পড়ছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষক ও ব্যাংকিং সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ভয়াবহ পরিস্থিতির পেছনে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, সুশাসনের অভাব এবং লাগামহীন ঋণ বিতরণই মূলত দায়ী। বিশেষ করে “অ্যাগ্রেসিভ লেন্ডিং” এবং পরিচালনা পর্ষদের প্রভাবিত ঋণ অনুমোদন ব্যাংকগুলোর আর্থিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গোপন রাখা খেলাপি ঋণ এখন ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬.৪৪ লাখ কোটি টাকা, যা মূলধন ঘাটতির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে এবং ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার সক্ষমতাকে সীমিত করে ফেলছে।

ব্যাংকভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই সংকট কোনো একটি নির্দিষ্ট খাতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রায় সব ধরনের ব্যাংকই এর প্রভাবের মধ্যে পড়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংকের সম্মিলিত মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা, যেখানে জনতা ব্যাংকের ঘাটতি সর্বোচ্চ ১৯ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা। বেসরকারি খাতের নয়টি ব্যাংকের মোট ঘাটতি ৩৬ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা, যার মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংক এককভাবে ১০ হাজার ৬৫১ কোটি টাকার ঘাটতিতে রয়েছে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক অবস্থা ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোর, যেখানে মোট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১.৭৫ লাখ কোটি টাকা। এই খাতের মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ঘাটতি একাই ৬৫ হাজার ৯০ কোটি টাকা, যা পুরো খাতের দুর্বলতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। এছাড়া ইউনিয়ন ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে বড় অঙ্কের ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একইভাবে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মধ্যেও বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ঘাটতি একাই ২৯ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা।

ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, এই সংকট মূলত একটি “কাঠামোগত সমস্যা”, যা দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হয়েছে। মূলধন দুর্বল হয়ে পড়লে একটি ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা ব্যাহত হয়, বড় অঙ্কের ঋণ প্রদান সীমিত হয়ে যায় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি হয়। বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত অংশীদার ব্যাংকের মূলধন সক্ষমতা যাচাই করেই বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে।

এছাড়া এই সংকট এখন একটি বৃহত্তর “সিস্টেমিক রিস্ক”-এ পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ব্যাংকগুলো ঝুঁকি নিতে অনাগ্রহী হয়ে পড়ায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে যাচ্ছে, যা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক ব্যাংক এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে টিকে আছে, যা দীর্ঘমেয়াদে আরও বড় ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের ক্রেডিট রিস্ক বেড়ে যাওয়ায় বিদেশি ব্যাংকগুলোর আগ্রহ কমে যাচ্ছে, ফলে দেশের অর্থায়ন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংকট থেকে উত্তরণের জন্য দ্রুত ও কঠোর সংস্কার প্রয়োজন। ব্যাংকগুলোকে নতুন করে মূলধন সংগ্রহ করতে হবে, তা মুনাফা সংরক্ষণ বা নতুন শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে হোক। পাশাপাশি দুর্বল ও তথাকথিত “জম্বি” ব্যাংকগুলোর আইনি নিষ্পত্তি, কার্যকর ব্যাংক রেজোল্যুশন কাঠামো গড়ে তোলা এবং ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি জোরদার করা জরুরি। খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের তালিকা প্রকাশ এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেও বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

সব মিলিয়ে, ব্যাংকিং খাতের এই বিশাল মূলধন ঘাটতি এখন শুধু একটি খাতভিত্তিক সমস্যা নয়; এটি পুরো অর্থনীতির জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। সুশাসন প্রতিষ্ঠা, নীতিগত সংস্কার এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা গেলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বিনিয়োগ, প্রবৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর।

বিজনেস জার্নাল/ঢাকা