১১:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬

রমজানের শেষ দশক কেন এত মহিমান্বিত?

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ১২:৩৯:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
  • / ১০২৬১ বার দেখা হয়েছে

অনন্য মর্যাদার মাস মাহে রমজান। এই মাস আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মুমিনদের জন্য বিশেষ তুহফা। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে এই মাস প্রতি বছর আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়। পুরো রমজান মাসই অত্যন্ত মর্যাদা ও গুরুত্বের অধিকারী। তবে এর শেষ দশক অধিক মহিমান্বিত, অত্যধিক মর্যাদাপূর্ণ।

এই দশকের মধ্যেই রয়েছে মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর। যে রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। আল্লাহ বলেন, “তোমরা কি জানো, লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। (সুরা কদর, আয়াত নং ২-৩)

প্রিয়নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মহিমান্বিত মাস উপস্থিত। তাতে একটি রজনী রয়েছে, যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। যে ব্যক্তি এর কল্যাণ ও বরকত থেকে বঞ্চিত হল, সে যেন সকল কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হল। আর কেবল অভাগাই এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত থাকে।” (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৬৪৪; সুনানে নাসায়ি: ২১০৬)

প্রিয়নবী আরো বলেন, তোমরা এই রাতটি রমজানের শেষ দশকে খোঁজ, শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে অনুসন্ধান করো। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ২০২৭)

মহিমান্বিত এই রাতের ফজিলত লাভের জন্য নবীজি যারপরনাই মুজাহাদা-পরিশ্রম করতেন। শুধু নিজে নয়, পরিবারকেও এ মহান ফযীলতে শামিল করার চেষ্টা করতেন। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন– كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ، أَحْيَا اللَّيْلَ، وَأَيْقَظَ أَهْلَهٗ، وَجَدَّ وَشَدَّ الْمِئْزَرَ অর্থ: রমযানের শেষ দশক শুরু হলে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারা রাত জেগে ইবাদত করতেন। পরিবারকে জাগিয়ে দিতেন এবং নিজে কোমর বেঁধে ইবাদতে মগ্ন হতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ২০২৪)

এছাড়া নবীজী শেষ দশকে আরেকটি বিশেষ আমল করতেন। তা হলো দশ দিনের সুন্নত ইতিকাফ। ইতিকাফের মাধ্যমে মানুষ দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে নিজেকে দূরে রেখে সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর দিকে মনোযোগী হওয়ার সুযোগ পায়। এটি আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অনন্য মাধ্যম। পাশাপাশি এটি কদরের রজনী লাভ করার সর্বোত্তম পন্থা।

তাই আসুন, আমরা এই মহিমান্বিত সময়ের যথাযথ মূল্যায়ন করি এবং ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে নিজেদের জীবনকে কল্যাণময় করে তুলি।

ঢাকা/এসএইচ

শেয়ার করুন

রমজানের শেষ দশক কেন এত মহিমান্বিত?

আপডেট: ১২:৩৯:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

অনন্য মর্যাদার মাস মাহে রমজান। এই মাস আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মুমিনদের জন্য বিশেষ তুহফা। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে এই মাস প্রতি বছর আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়। পুরো রমজান মাসই অত্যন্ত মর্যাদা ও গুরুত্বের অধিকারী। তবে এর শেষ দশক অধিক মহিমান্বিত, অত্যধিক মর্যাদাপূর্ণ।

এই দশকের মধ্যেই রয়েছে মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর। যে রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। আল্লাহ বলেন, “তোমরা কি জানো, লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। (সুরা কদর, আয়াত নং ২-৩)

প্রিয়নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মহিমান্বিত মাস উপস্থিত। তাতে একটি রজনী রয়েছে, যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। যে ব্যক্তি এর কল্যাণ ও বরকত থেকে বঞ্চিত হল, সে যেন সকল কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হল। আর কেবল অভাগাই এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত থাকে।” (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৬৪৪; সুনানে নাসায়ি: ২১০৬)

প্রিয়নবী আরো বলেন, তোমরা এই রাতটি রমজানের শেষ দশকে খোঁজ, শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে অনুসন্ধান করো। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ২০২৭)

মহিমান্বিত এই রাতের ফজিলত লাভের জন্য নবীজি যারপরনাই মুজাহাদা-পরিশ্রম করতেন। শুধু নিজে নয়, পরিবারকেও এ মহান ফযীলতে শামিল করার চেষ্টা করতেন। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন– كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ، أَحْيَا اللَّيْلَ، وَأَيْقَظَ أَهْلَهٗ، وَجَدَّ وَشَدَّ الْمِئْزَرَ অর্থ: রমযানের শেষ দশক শুরু হলে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারা রাত জেগে ইবাদত করতেন। পরিবারকে জাগিয়ে দিতেন এবং নিজে কোমর বেঁধে ইবাদতে মগ্ন হতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ২০২৪)

এছাড়া নবীজী শেষ দশকে আরেকটি বিশেষ আমল করতেন। তা হলো দশ দিনের সুন্নত ইতিকাফ। ইতিকাফের মাধ্যমে মানুষ দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে নিজেকে দূরে রেখে সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর দিকে মনোযোগী হওয়ার সুযোগ পায়। এটি আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অনন্য মাধ্যম। পাশাপাশি এটি কদরের রজনী লাভ করার সর্বোত্তম পন্থা।

তাই আসুন, আমরা এই মহিমান্বিত সময়ের যথাযথ মূল্যায়ন করি এবং ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে নিজেদের জীবনকে কল্যাণময় করে তুলি।

ঢাকা/এসএইচ