০৫:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬

শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতায় সিএসই’র একগুচ্ছ প্রস্তাবনা

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৭:২০:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১০১৯২ বার দেখা হয়েছে

ফাইল ফটো

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে নবনির্বাচিত সরকার আর্থিক খাতের সংস্কার এবং পুঁজিবাজারের উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছে। সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকারের মধ্যে একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও আধুনিক পুঁজিবাজার গড়ে তোলা অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যাতে দেশের শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য একটি কার্যকর অর্থায়ন প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশের আর্থিক খাত এখনও অনেকাংশে ব্যাংকনির্ভর হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এ বাস্তবতায় অর্থবাজার ও পুঁজিবাজারের মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সমন্বিত আর্থিক কাঠামো গড়ে তোলা সময়ের দাবি। সরকারের ঘোষিত সংস্কার কর্মসূচি, বাজার উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুঁজিবাজারকে আরও গভীর, গতিশীল ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তোলা প্রয়োজন।

এই প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে আসন্ন জাতীয় বাজেট ২০২৬–২০২৭ এ পুঁজিবাজারের উন্নয়ন, বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগকারীদের আস্থা শক্তিশালীকরণ এবং বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কিছু নীতিগত সংস্কার ও কর-সংক্রান্ত প্রণোদনা বিবেচনার জন্য নিম্নলিখিত সুপারিশ করা হয়েছে-

পুঁজিবাজার উন্নয়ন কৌশল পত্রে প্রস্তাব করা হয়েছে

১. তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হার ধাপে ধাপে হ্রাস করা এবং তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হারের ব্যবধান বৃদ্ধি করা, যাতে অধিক সংখ্যক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত হয়।

২. পুঁজিবাজারকে বিকশিত করার লক্ষ্যে অন্যান্য দেশের ন্যায় বিভিন্ন শ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের প্রোডাক্ট সংযোজন অপরিহার্য । আমাদের বর্তমান ইক্যুইটি নির্ভর পুঁজিবাজারের সাথে অন্যান্য সমসাময়িক প্রোডাক্ট বিশেষ করে কমোডিটি ডেরিভেটিভস, ইনডেক্স ডেরিভটিভস, ইক্যুইটি ডেরিভেটিভস ইত্যাদি সংযোজন করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যে এই সমস্ত নতুন সেগমেন্ট শুরু করার জন্য প্রাথমিকভাবে কর ছাড় দেয়া যেতে পারে।

৩. লভ্যাংশ আয়ের উপর কর হার যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করা, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার লক্ষ্যে মূলধনী লাভের কর কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দ্বৈত কর পরিহার চুক্তির কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

৪. কর্পোরেট বন্ড বাজার সক্রিয় করার লক্ষ্যে বন্ডের সুদের উপর আরোপিত কর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হ্রাস বা অব্যাহতি প্রদান, বন্ড ইস্যু প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা।

৫. বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমসাময়িক Peer দেশসমূহের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে মার্কেট ক্যাপ–জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী ৫ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা। এতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা বৃদ্ধি, বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণ এবং নতুন আর্থিক পণ্যের প্রবর্তন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ঢাকা/এসএইচ

শেয়ার করুন

শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতায় সিএসই’র একগুচ্ছ প্রস্তাবনা

আপডেট: ০৭:২০:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে নবনির্বাচিত সরকার আর্থিক খাতের সংস্কার এবং পুঁজিবাজারের উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছে। সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকারের মধ্যে একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও আধুনিক পুঁজিবাজার গড়ে তোলা অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যাতে দেশের শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য একটি কার্যকর অর্থায়ন প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশের আর্থিক খাত এখনও অনেকাংশে ব্যাংকনির্ভর হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এ বাস্তবতায় অর্থবাজার ও পুঁজিবাজারের মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সমন্বিত আর্থিক কাঠামো গড়ে তোলা সময়ের দাবি। সরকারের ঘোষিত সংস্কার কর্মসূচি, বাজার উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুঁজিবাজারকে আরও গভীর, গতিশীল ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তোলা প্রয়োজন।

এই প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে আসন্ন জাতীয় বাজেট ২০২৬–২০২৭ এ পুঁজিবাজারের উন্নয়ন, বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগকারীদের আস্থা শক্তিশালীকরণ এবং বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কিছু নীতিগত সংস্কার ও কর-সংক্রান্ত প্রণোদনা বিবেচনার জন্য নিম্নলিখিত সুপারিশ করা হয়েছে-

পুঁজিবাজার উন্নয়ন কৌশল পত্রে প্রস্তাব করা হয়েছে

১. তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হার ধাপে ধাপে হ্রাস করা এবং তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হারের ব্যবধান বৃদ্ধি করা, যাতে অধিক সংখ্যক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত হয়।

২. পুঁজিবাজারকে বিকশিত করার লক্ষ্যে অন্যান্য দেশের ন্যায় বিভিন্ন শ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের প্রোডাক্ট সংযোজন অপরিহার্য । আমাদের বর্তমান ইক্যুইটি নির্ভর পুঁজিবাজারের সাথে অন্যান্য সমসাময়িক প্রোডাক্ট বিশেষ করে কমোডিটি ডেরিভেটিভস, ইনডেক্স ডেরিভটিভস, ইক্যুইটি ডেরিভেটিভস ইত্যাদি সংযোজন করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যে এই সমস্ত নতুন সেগমেন্ট শুরু করার জন্য প্রাথমিকভাবে কর ছাড় দেয়া যেতে পারে।

৩. লভ্যাংশ আয়ের উপর কর হার যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করা, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার লক্ষ্যে মূলধনী লাভের কর কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দ্বৈত কর পরিহার চুক্তির কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

৪. কর্পোরেট বন্ড বাজার সক্রিয় করার লক্ষ্যে বন্ডের সুদের উপর আরোপিত কর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হ্রাস বা অব্যাহতি প্রদান, বন্ড ইস্যু প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা।

৫. বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমসাময়িক Peer দেশসমূহের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে মার্কেট ক্যাপ–জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী ৫ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা। এতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা বৃদ্ধি, বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণ এবং নতুন আর্থিক পণ্যের প্রবর্তন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ঢাকা/এসএইচ