০৫:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
বিনিয়োগ শুণ্যে নামলেও থামছে না ঋণ চক্র

সাবসিডিয়ারির আড়ালে শাশা ডেনিমসের শত কোটি টাকা উধাও! (পর্ব-২)

বিশেষ প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৪:৪৪:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১০২৭২ বার দেখা হয়েছে

পুঁজিবাজারে পঞ্জি স্কিমের নামে প্রতারণা নতুন কিছু নয়। ইতিহাস বলছে, এক প্রতিষ্ঠানের অর্থ দিয়ে আরেক প্রতিষ্ঠানের দায় মেটানো, কাগুজে মুনাফা দেখানো, আর ভেতরে ভেতরে বিনিয়োগকারীদের অর্থ অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়া- এমন অসাধু পদ্ধতি বহুবার বাজারকে বিপর্যস্ত করেছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানির আড়ালে সাবসিডিয়ারি ও অ্যাসোসিয়েট প্রতিষ্ঠানের নামে বিনিয়োগ, লোকসান সমন্বয়, শেয়ার হস্তান্তর এবং পরবর্তীতে ধারাবাহিক ঋণ প্রদানের মাধ্যমে কি একই ধরনের অর্থচক্র গড়ে তোলা হচ্ছে? তালিকাভুক্ত শাশা ডেনিমস পিএলসির সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে অন্তত সেই আশঙ্কাকেই জোরালো করছে।

আরও পড়ুন: শাশা ডেনিমসের পাহাড়সম ঋণ: সুদের যাঁতাকলে তলানীতে মুনাফা!

এর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষন শুরু করে ‘বিজনেস জার্নাল’-এর অনুসন্ধানী দল। কোম্পানিটির ২০২৫ সমাপ্ত বছরের আর্থিক প্রতিবেদনের চুল-চেড়া বিশ্লেষনে বেরিয়ে আসে কিছু অসঙ্গতিসহ বেশ কয়েকটি প্রশ্ন। এরই ধারাবাহিকতায় শাশা ডেনিমস নিয়ে বিজনেস জার্নালের করা আট পর্বের বিশেষ প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্ব আজ প্রকাশিত হলো।

কোম্পানিটির গত পাঁচ বছরের আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষনে দেখা গেছে, ২০২১ সালে এনার্জিস পাওয়ার করপোরেশনে শাশা ডেনিমসের বিনিয়োগ ছিলো ১৩২ কোটি ২৫ লাখ ২০ হাজার ৩৮০ টাকা। ৩০ জুন ২০২২ সাল শেষে যার পরিমাণ নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৬ কোটি ৮৪ লাখ ৭১ হাজার ৬৩৭ টাকায়। সে হিসেবে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এনার্জিস পাওয়ারে শাশা ডেনিমসের বিনিয়োগ কমেছে বা লোকসান হয়েছে ১০৫ কোটি ৪০ লাখ ৪৮ হাজার ৭৪৩ টাকা বা ৭৯.৭০ শতাংশ।

একই আর্থিক প্রতিবেদনে এর কারণ হিসেবে কোম্পানিটি জানিয়েছে, শাশা ডেনিমস ১০ টাকা ফেসভ্যালুতে এনার্জিস পাওয়ার করপোরেশনের ১৩ কোটি ২২ লাখ ৫২ হাজার ৬৮টি শেয়ারে ১৩২ কোটি ২৫ লাখ ২০ হাজার ৩৮০ টাকা বিনিয়োগ করে। কিন্তু নীরিক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী এনার্জিস পাওয়ারের শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য ২.০৩ টাকায় নেমে আসায় বিশাল এই লোকসানে পড়ে কোম্পানিটি। তবে ঠিক কি কারণে মাত্র এক বছরে এনএভি ১১.১১ টাকা থেকে কমে ২.০৩ টাকায় নেমে আসলো- তার সুনির্দিষ্ট কোন ব্যাখ্যা দেয়নি কোম্পানিটি।

পরের বছর পরিস্থিতি আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে। ২০২৩ সালের আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালে এনার্জিস পাওয়ার করপোরেশনে শাশা ডেনিমসের বিনিয়োগ ২৬ কোটি ৮৪ লাখ ৭১ হাজার ৬৩৭ টাকা থাকলেও ৩০ জুন ২০২৩ সাল শেষে আরও কমে ১১ কোটি ১২ লাখ ৬৮ হাজার ১৩৮ টাকায় নেমে আসে। কারণ হিসেবে কোম্পানিটি বলছে, ওই সময়ে গ্রুপভুক্ত শাশা গার্মেন্টসের কাছে ২.০৩ টাকা মূল্যে ৬ কোটি শেয়ার ১২ কোটি ১৮ লাখ টাকায় বিক্রি করে বিনিয়োগ তুলে নেওয়া হয়েছে। যদিও এই ৬ কোটি শেয়ারে শাশা ডেনিমসের বিনিয়োগ ছিলো ৬০ কোটি টাকা।

সহজ ভাষায় বললে এই ৬ কোটি শেয়ারে ৬০ কোটি টাকার প্রকৃত বিনিয়োগ থাকলেও শাশা ডেনিমস তা মাত্র ১২ কোটি ১৮ লাখ টাকায় শাশা গার্মেন্টসের কাছে বিক্রি করে ৪৭ কোটি ৮২ লাখ টাকার লোকসান সমন্বয় করেছে। এর বাইরেও শাশা ডেনিমস ২০২৩ সালের জুন শেষে এনার্জিস পাওয়ারে লোকসান গুণেছে ৩ কোটি ৫৪ লাখ ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা।

আলোচ্য সময়ে এনার্জিস পাওয়ারের শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) ২.০৩ টাকা থেকে কমে ০.৯৮ টাকায় নেমে আসে। সবমিলিয়ে শাশা ডেনিমস এ সময়ে মোট ৫১ কোটি ৩৬ লাখ ৩ হাজার ৪৯৯ টাকার লোকসান সমন্বয় করেছে।

সব মিলিয়ে কয়েক বছরের ব্যবধানে বিনিয়োগ কনসোলিডেটেড হিসাব অনুযায়ী কার্যত শূন্যে পরিণত হয় এবং সাবসিডিয়ারি হিসেবে নিয়ন্ত্রণও হারানো হয়। কিন্তু বিস্ময়করভাবে, বিনিয়োগ শূন্য হওয়ার পরও অর্থপ্রবাহ বন্ধ হয়নি। বরং এনার্জিস পাওয়ারকে ২০২৪ সালে প্রায় ১৭.৩২ কোটি এবং ২০২৫ সালে আরও ৩.৬৪ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। অর্থ্যাৎ, যে প্রতিষ্ঠানে শতকোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ ডুবে গেছে, সেই প্রতিষ্ঠানে আবার নতুন করে প্রায় ২১ কোটি টাকা ঢালা হয়েছে ঋণের নামে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এটি নিছক ব্যবসায়িক সহায়তা নয়; বরং গ্রুপভিত্তিক ফান্ড রাউটিংয়ের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত।

এখানেই শেষ নয়। গ্রুপের আরেক প্রতিষ্ঠান ফ্লাই ঢাকা এয়ারলাইন্সসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক ঋণ লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে। এক প্রতিষ্ঠানের ব্যালান্সশিট থেকে অর্থ বেরিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে, সেখান থেকে আবার আরেক প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর হচ্ছে- এই চক্র যদি প্রকৃত উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে ব্যবহার না হয়ে দায় লুকানো বা লোকসান ঢাকার কাজে লাগে, তবে সেটি কার্যত পঞ্জি স্কিমের মতো কাঠামো তৈরি করে। অর্থ্যাৎ নতুন অর্থ ঢুকিয়ে পুরোনো গর্ত ভরাট করা, কিন্তু সামগ্রিকভাবে গ্রুপের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়া। (পরবর্তী পর্বে সেসব কোম্পানির বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে)

আরও পড়ুন: ইউসিবি’র প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার সুদ আয় অনিশ্চিত!

এসব বিষয়ে শাশা ডেনিমসের কোম্পানির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) ও কোম্পানি সচিবসহ একাধিক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে লিখিত বক্তব্যে শাশা ডেনিমস জানায়, ‘এনার্জিস পাওয়ার শাশা ডেনিমসের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান। এই কোম্পানির ঋণের বিপরীতে শাশা ডেনিমসের করপোরেট গ্যারান্টি দেয়া আছে- যা আর্থিক বিবরণীর ৪৩ নং নোটে বিস্তারিত বলা আছে। এনার্জিস পাওয়ার কদাচিৎ ঋণের কিস্তি সুদ করার জন্য শাশা ডেনিমস থেকে ঋণ নিয়ে থাকে। ইপিসিএল পিডিবির কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পাওনা রয়েছে এবং উক্ত পাওনা আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে এনার্জিস পাওয়ার করপোরেশন থেকে শাশা ডেনিমস তার পাওনা অর্থ আদায় করবে। উল্লেখ্য, যাবতীয় পাওনা/দেনার বিপরীতে যথাযথ সুদ শাশা ডেনিমস ও অন্যান্য কোম্পানিতে হিসাবায়ন করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন: যমুনা ব্যাংকের মূলধনের ৮২ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড: নগদ বঞ্চিত বিনিয়োগকারীরা

তবে লিখিত বক্তব্যে শাশা ডেনিমস এনার্জিস পাওয়ার করপোরেশনকে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি হিসেবে দাবি করলেও বর্তমানে তা অ্যাসোসিয়েট কোম্পানি হিসেবে রয়েছে। এছাড়া ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে কি কি শর্ত কিংবা সুদহার কতো- তার কোন বিস্তারিত কোন তথ্য জানায়নি কোম্পানিটি।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানির অর্থ মূলত জনসাধারণের বিনিয়োগ। সেই অর্থ যদি সাবসিডিয়ারি বা অ্যাসোসিয়েট কোম্পানির নামে বিনিয়োগ করে পরে কম দামে নিজেদের আরেক প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং একই সঙ্গে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে অর্থ ঘুরিয়ে নেওয়া হয়, তবে সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের মতে, এটি কাগজে-কলমে বৈধ লেনদেন হলেও নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। বিনিয়োগকারীদের অর্থ গ্রুপের ভেতরে ঘুরপাক খাচ্ছে, কিন্তু তার প্রকৃত সুফল তারা পাচ্ছেন না।

আরও পড়ুন: ইউসিবি: মুনাফার আড়ালে ঘাটতি প্রায় চার হাজার কোটি টাকা!

তারা আরও বলছেন, এ ধরনের লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বাধীন নিরীক্ষা, শক্তিশালী অডিট কমিটি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর নজরদারি অপরিহার্য। নইলে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ব্যালান্সশিট ব্যবহার করে গ্রুপভুক্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে অর্থ স্থানান্তরের ঝুঁকি থেকেই যাবে। বিশেষ করে যখন ধারাবাহিক লোকসানের পরও ঋণ দেওয়া অব্যাহত থাকে, তখন সেটি কৌশলগত ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের চেয়ে আর্থিক পঞ্জি কৌশলের দিকেই ইঙ্গিত করে।

ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, কোম্পানি প্রথমে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ দেখিয়ে প্রবৃদ্ধির বার্তা দেয়, পরে এনএভি পতনের অজুহাতে লোকসান দেখায়, তারপর কম দামে শেয়ার গ্রুপের আরেক প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করে দায় ঝেড়ে ফেলে এবং শেষ পর্যন্ত ঋণের নামে নতুন করে অর্থ সরিয়ে নেয়। এতে বাজারে আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে।

আরও পড়ুন: এবি ব্যাংক: সুদ আয়ের তুলনায় ব্যয় বেড়েছে ২০৮ শতাংশ!

সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি প্রশ্নই ঘনীভূত হচ্ছে- এটি কি স্বাভাবিক ব্যবসায়িক পুনর্গঠন, নাকি পঞ্জি স্কিমের আদলে বিনিয়োগকারীদের অর্থ লুটপাটের এক আধুনিক করপোরেট সংস্করণ? যতোদিন না কোম্পানি স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দিচ্ছে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করছে, ততোদিন এই অর্থচক্র নিয়ে সন্দেহ ও ক্ষোভ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন তারা।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান এ.বি.এম মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘যদি কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানি সাবসিডিয়ারি বা অ্যাসোসিয়েট প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ দেখিয়ে পরে ধারাবাহিকভাবে সেই বিনিয়োগের মূল্য কমিয়ে ফেলে, কম দামে রিলেটেড পার্টির কাছে শেয়ার হস্তান্তর করে এবং একই সঙ্গে ঋণের মাধ্যমে অর্থপ্রবাহ চালু রাখে, তাহলে সেটি অবশ্যই গভীর পর্যালোচনার বিষয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত রিলেটেড পার্টি ট্রানজ্যাকশন, শেয়ার ভ্যালুয়েশন, এনএভি পতনের কারণ এবং ঋণ প্রদানের যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখা। সেইসাথে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থবিরোধী কোনো কার্যকলাপ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কারণ পুঁজিবাজার কারও ব্যক্তিগত তহবিল নয় বলে মনে করেন তিনি।

আরও পড়ুন: আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের ৬১ কোটি টাকার পাওনা আদায়ে অনিশ্চয়তা!

এসব বিষয়ে আলাপকালে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএসইসির এক সাবেক নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘এ ধরনের কাঠামো সাধারণত দুইভাবে ব্যবহৃত হয়- এক, লোকসান লুকাতে; দুই, অর্থ স্থানান্তর করতে। একটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির অর্থ যদি গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঘুরপাক খায় এবং প্রকৃত উৎপাদনশীল খাতে তার প্রতিফলন না দেখা যায়, তাহলে সেটি কার্যত ‘ফান্ড রাউটিং’। ইতিহাসে আমরা দেখেছি, এভাবেই অনেক সময় আর্থিক পঞ্জি স্কিমের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, নতুন অর্থ এনে পুরনো দায় সামলানো হয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত অবিলম্বে ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে পুরো অর্থপ্রবাহ ট্র্যাক করা।’

আরও পড়ুন: বেষ্ট হোল্ডিংসের আর্থিক প্রতিবেদনে অস্পষ্টতা: বিভ্রান্তিতে বিনিয়োগকারীরা!

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাবেক সভাপতি মিজানুর রশীদ চৌধুরী বলেন, ‘১৩২ কোটি টাকার বিনিয়োগ শূন্যে নামার পরও যদি আবার সেই প্রতিষ্ঠানে কোটি কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়, তাহলে এটি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নির্মম প্রহসন। আমাদের টাকায় কোম্পানি সাবসিডিয়ারি গড়ে, পরে লোকসান দেখিয়ে শেয়ার নিজেদের আরেক প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করে দেয়, আবার ঋণের নামে অর্থ সরিয়ে নেয়- এটা সরাসরি সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থবিরোধী কাজ। আমরা অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার দাবি জানাচ্ছি।’ (চলবে…)

শেয়ার করুন

বিনিয়োগ শুণ্যে নামলেও থামছে না ঋণ চক্র

সাবসিডিয়ারির আড়ালে শাশা ডেনিমসের শত কোটি টাকা উধাও! (পর্ব-২)

আপডেট: ০৪:৪৪:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পুঁজিবাজারে পঞ্জি স্কিমের নামে প্রতারণা নতুন কিছু নয়। ইতিহাস বলছে, এক প্রতিষ্ঠানের অর্থ দিয়ে আরেক প্রতিষ্ঠানের দায় মেটানো, কাগুজে মুনাফা দেখানো, আর ভেতরে ভেতরে বিনিয়োগকারীদের অর্থ অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়া- এমন অসাধু পদ্ধতি বহুবার বাজারকে বিপর্যস্ত করেছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানির আড়ালে সাবসিডিয়ারি ও অ্যাসোসিয়েট প্রতিষ্ঠানের নামে বিনিয়োগ, লোকসান সমন্বয়, শেয়ার হস্তান্তর এবং পরবর্তীতে ধারাবাহিক ঋণ প্রদানের মাধ্যমে কি একই ধরনের অর্থচক্র গড়ে তোলা হচ্ছে? তালিকাভুক্ত শাশা ডেনিমস পিএলসির সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে অন্তত সেই আশঙ্কাকেই জোরালো করছে।

আরও পড়ুন: শাশা ডেনিমসের পাহাড়সম ঋণ: সুদের যাঁতাকলে তলানীতে মুনাফা!

এর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষন শুরু করে ‘বিজনেস জার্নাল’-এর অনুসন্ধানী দল। কোম্পানিটির ২০২৫ সমাপ্ত বছরের আর্থিক প্রতিবেদনের চুল-চেড়া বিশ্লেষনে বেরিয়ে আসে কিছু অসঙ্গতিসহ বেশ কয়েকটি প্রশ্ন। এরই ধারাবাহিকতায় শাশা ডেনিমস নিয়ে বিজনেস জার্নালের করা আট পর্বের বিশেষ প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্ব আজ প্রকাশিত হলো।

কোম্পানিটির গত পাঁচ বছরের আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষনে দেখা গেছে, ২০২১ সালে এনার্জিস পাওয়ার করপোরেশনে শাশা ডেনিমসের বিনিয়োগ ছিলো ১৩২ কোটি ২৫ লাখ ২০ হাজার ৩৮০ টাকা। ৩০ জুন ২০২২ সাল শেষে যার পরিমাণ নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৬ কোটি ৮৪ লাখ ৭১ হাজার ৬৩৭ টাকায়। সে হিসেবে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এনার্জিস পাওয়ারে শাশা ডেনিমসের বিনিয়োগ কমেছে বা লোকসান হয়েছে ১০৫ কোটি ৪০ লাখ ৪৮ হাজার ৭৪৩ টাকা বা ৭৯.৭০ শতাংশ।

একই আর্থিক প্রতিবেদনে এর কারণ হিসেবে কোম্পানিটি জানিয়েছে, শাশা ডেনিমস ১০ টাকা ফেসভ্যালুতে এনার্জিস পাওয়ার করপোরেশনের ১৩ কোটি ২২ লাখ ৫২ হাজার ৬৮টি শেয়ারে ১৩২ কোটি ২৫ লাখ ২০ হাজার ৩৮০ টাকা বিনিয়োগ করে। কিন্তু নীরিক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী এনার্জিস পাওয়ারের শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য ২.০৩ টাকায় নেমে আসায় বিশাল এই লোকসানে পড়ে কোম্পানিটি। তবে ঠিক কি কারণে মাত্র এক বছরে এনএভি ১১.১১ টাকা থেকে কমে ২.০৩ টাকায় নেমে আসলো- তার সুনির্দিষ্ট কোন ব্যাখ্যা দেয়নি কোম্পানিটি।

পরের বছর পরিস্থিতি আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে। ২০২৩ সালের আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালে এনার্জিস পাওয়ার করপোরেশনে শাশা ডেনিমসের বিনিয়োগ ২৬ কোটি ৮৪ লাখ ৭১ হাজার ৬৩৭ টাকা থাকলেও ৩০ জুন ২০২৩ সাল শেষে আরও কমে ১১ কোটি ১২ লাখ ৬৮ হাজার ১৩৮ টাকায় নেমে আসে। কারণ হিসেবে কোম্পানিটি বলছে, ওই সময়ে গ্রুপভুক্ত শাশা গার্মেন্টসের কাছে ২.০৩ টাকা মূল্যে ৬ কোটি শেয়ার ১২ কোটি ১৮ লাখ টাকায় বিক্রি করে বিনিয়োগ তুলে নেওয়া হয়েছে। যদিও এই ৬ কোটি শেয়ারে শাশা ডেনিমসের বিনিয়োগ ছিলো ৬০ কোটি টাকা।

সহজ ভাষায় বললে এই ৬ কোটি শেয়ারে ৬০ কোটি টাকার প্রকৃত বিনিয়োগ থাকলেও শাশা ডেনিমস তা মাত্র ১২ কোটি ১৮ লাখ টাকায় শাশা গার্মেন্টসের কাছে বিক্রি করে ৪৭ কোটি ৮২ লাখ টাকার লোকসান সমন্বয় করেছে। এর বাইরেও শাশা ডেনিমস ২০২৩ সালের জুন শেষে এনার্জিস পাওয়ারে লোকসান গুণেছে ৩ কোটি ৫৪ লাখ ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা।

আলোচ্য সময়ে এনার্জিস পাওয়ারের শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) ২.০৩ টাকা থেকে কমে ০.৯৮ টাকায় নেমে আসে। সবমিলিয়ে শাশা ডেনিমস এ সময়ে মোট ৫১ কোটি ৩৬ লাখ ৩ হাজার ৪৯৯ টাকার লোকসান সমন্বয় করেছে।

সব মিলিয়ে কয়েক বছরের ব্যবধানে বিনিয়োগ কনসোলিডেটেড হিসাব অনুযায়ী কার্যত শূন্যে পরিণত হয় এবং সাবসিডিয়ারি হিসেবে নিয়ন্ত্রণও হারানো হয়। কিন্তু বিস্ময়করভাবে, বিনিয়োগ শূন্য হওয়ার পরও অর্থপ্রবাহ বন্ধ হয়নি। বরং এনার্জিস পাওয়ারকে ২০২৪ সালে প্রায় ১৭.৩২ কোটি এবং ২০২৫ সালে আরও ৩.৬৪ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। অর্থ্যাৎ, যে প্রতিষ্ঠানে শতকোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ ডুবে গেছে, সেই প্রতিষ্ঠানে আবার নতুন করে প্রায় ২১ কোটি টাকা ঢালা হয়েছে ঋণের নামে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এটি নিছক ব্যবসায়িক সহায়তা নয়; বরং গ্রুপভিত্তিক ফান্ড রাউটিংয়ের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত।

এখানেই শেষ নয়। গ্রুপের আরেক প্রতিষ্ঠান ফ্লাই ঢাকা এয়ারলাইন্সসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক ঋণ লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে। এক প্রতিষ্ঠানের ব্যালান্সশিট থেকে অর্থ বেরিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে, সেখান থেকে আবার আরেক প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর হচ্ছে- এই চক্র যদি প্রকৃত উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে ব্যবহার না হয়ে দায় লুকানো বা লোকসান ঢাকার কাজে লাগে, তবে সেটি কার্যত পঞ্জি স্কিমের মতো কাঠামো তৈরি করে। অর্থ্যাৎ নতুন অর্থ ঢুকিয়ে পুরোনো গর্ত ভরাট করা, কিন্তু সামগ্রিকভাবে গ্রুপের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়া। (পরবর্তী পর্বে সেসব কোম্পানির বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে)

আরও পড়ুন: ইউসিবি’র প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার সুদ আয় অনিশ্চিত!

এসব বিষয়ে শাশা ডেনিমসের কোম্পানির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) ও কোম্পানি সচিবসহ একাধিক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে লিখিত বক্তব্যে শাশা ডেনিমস জানায়, ‘এনার্জিস পাওয়ার শাশা ডেনিমসের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান। এই কোম্পানির ঋণের বিপরীতে শাশা ডেনিমসের করপোরেট গ্যারান্টি দেয়া আছে- যা আর্থিক বিবরণীর ৪৩ নং নোটে বিস্তারিত বলা আছে। এনার্জিস পাওয়ার কদাচিৎ ঋণের কিস্তি সুদ করার জন্য শাশা ডেনিমস থেকে ঋণ নিয়ে থাকে। ইপিসিএল পিডিবির কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পাওনা রয়েছে এবং উক্ত পাওনা আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে এনার্জিস পাওয়ার করপোরেশন থেকে শাশা ডেনিমস তার পাওনা অর্থ আদায় করবে। উল্লেখ্য, যাবতীয় পাওনা/দেনার বিপরীতে যথাযথ সুদ শাশা ডেনিমস ও অন্যান্য কোম্পানিতে হিসাবায়ন করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন: যমুনা ব্যাংকের মূলধনের ৮২ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড: নগদ বঞ্চিত বিনিয়োগকারীরা

তবে লিখিত বক্তব্যে শাশা ডেনিমস এনার্জিস পাওয়ার করপোরেশনকে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি হিসেবে দাবি করলেও বর্তমানে তা অ্যাসোসিয়েট কোম্পানি হিসেবে রয়েছে। এছাড়া ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে কি কি শর্ত কিংবা সুদহার কতো- তার কোন বিস্তারিত কোন তথ্য জানায়নি কোম্পানিটি।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানির অর্থ মূলত জনসাধারণের বিনিয়োগ। সেই অর্থ যদি সাবসিডিয়ারি বা অ্যাসোসিয়েট কোম্পানির নামে বিনিয়োগ করে পরে কম দামে নিজেদের আরেক প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং একই সঙ্গে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে অর্থ ঘুরিয়ে নেওয়া হয়, তবে সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের মতে, এটি কাগজে-কলমে বৈধ লেনদেন হলেও নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। বিনিয়োগকারীদের অর্থ গ্রুপের ভেতরে ঘুরপাক খাচ্ছে, কিন্তু তার প্রকৃত সুফল তারা পাচ্ছেন না।

আরও পড়ুন: ইউসিবি: মুনাফার আড়ালে ঘাটতি প্রায় চার হাজার কোটি টাকা!

তারা আরও বলছেন, এ ধরনের লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বাধীন নিরীক্ষা, শক্তিশালী অডিট কমিটি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর নজরদারি অপরিহার্য। নইলে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ব্যালান্সশিট ব্যবহার করে গ্রুপভুক্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে অর্থ স্থানান্তরের ঝুঁকি থেকেই যাবে। বিশেষ করে যখন ধারাবাহিক লোকসানের পরও ঋণ দেওয়া অব্যাহত থাকে, তখন সেটি কৌশলগত ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের চেয়ে আর্থিক পঞ্জি কৌশলের দিকেই ইঙ্গিত করে।

ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, কোম্পানি প্রথমে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ দেখিয়ে প্রবৃদ্ধির বার্তা দেয়, পরে এনএভি পতনের অজুহাতে লোকসান দেখায়, তারপর কম দামে শেয়ার গ্রুপের আরেক প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করে দায় ঝেড়ে ফেলে এবং শেষ পর্যন্ত ঋণের নামে নতুন করে অর্থ সরিয়ে নেয়। এতে বাজারে আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে।

আরও পড়ুন: এবি ব্যাংক: সুদ আয়ের তুলনায় ব্যয় বেড়েছে ২০৮ শতাংশ!

সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি প্রশ্নই ঘনীভূত হচ্ছে- এটি কি স্বাভাবিক ব্যবসায়িক পুনর্গঠন, নাকি পঞ্জি স্কিমের আদলে বিনিয়োগকারীদের অর্থ লুটপাটের এক আধুনিক করপোরেট সংস্করণ? যতোদিন না কোম্পানি স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দিচ্ছে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করছে, ততোদিন এই অর্থচক্র নিয়ে সন্দেহ ও ক্ষোভ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন তারা।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান এ.বি.এম মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘যদি কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানি সাবসিডিয়ারি বা অ্যাসোসিয়েট প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ দেখিয়ে পরে ধারাবাহিকভাবে সেই বিনিয়োগের মূল্য কমিয়ে ফেলে, কম দামে রিলেটেড পার্টির কাছে শেয়ার হস্তান্তর করে এবং একই সঙ্গে ঋণের মাধ্যমে অর্থপ্রবাহ চালু রাখে, তাহলে সেটি অবশ্যই গভীর পর্যালোচনার বিষয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত রিলেটেড পার্টি ট্রানজ্যাকশন, শেয়ার ভ্যালুয়েশন, এনএভি পতনের কারণ এবং ঋণ প্রদানের যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখা। সেইসাথে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থবিরোধী কোনো কার্যকলাপ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কারণ পুঁজিবাজার কারও ব্যক্তিগত তহবিল নয় বলে মনে করেন তিনি।

আরও পড়ুন: আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের ৬১ কোটি টাকার পাওনা আদায়ে অনিশ্চয়তা!

এসব বিষয়ে আলাপকালে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএসইসির এক সাবেক নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘এ ধরনের কাঠামো সাধারণত দুইভাবে ব্যবহৃত হয়- এক, লোকসান লুকাতে; দুই, অর্থ স্থানান্তর করতে। একটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির অর্থ যদি গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঘুরপাক খায় এবং প্রকৃত উৎপাদনশীল খাতে তার প্রতিফলন না দেখা যায়, তাহলে সেটি কার্যত ‘ফান্ড রাউটিং’। ইতিহাসে আমরা দেখেছি, এভাবেই অনেক সময় আর্থিক পঞ্জি স্কিমের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, নতুন অর্থ এনে পুরনো দায় সামলানো হয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত অবিলম্বে ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে পুরো অর্থপ্রবাহ ট্র্যাক করা।’

আরও পড়ুন: বেষ্ট হোল্ডিংসের আর্থিক প্রতিবেদনে অস্পষ্টতা: বিভ্রান্তিতে বিনিয়োগকারীরা!

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাবেক সভাপতি মিজানুর রশীদ চৌধুরী বলেন, ‘১৩২ কোটি টাকার বিনিয়োগ শূন্যে নামার পরও যদি আবার সেই প্রতিষ্ঠানে কোটি কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়, তাহলে এটি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নির্মম প্রহসন। আমাদের টাকায় কোম্পানি সাবসিডিয়ারি গড়ে, পরে লোকসান দেখিয়ে শেয়ার নিজেদের আরেক প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করে দেয়, আবার ঋণের নামে অর্থ সরিয়ে নেয়- এটা সরাসরি সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থবিরোধী কাজ। আমরা অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার দাবি জানাচ্ছি।’ (চলবে…)