করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও দুই লাখ খামারিকে প্রণোদনা হিসেবে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের আর্থিক প্রণোদনা প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই খামারিদের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। নানাভাবে সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে দেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের খামারিদের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে দেশের খামারিদেরকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা হচ্ছে।

প্রণোদনা দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের তালিকা তৈরিতে কোনো রাজনৈতিক দল বা ইস্যু বিবেচনায় আনা হয়নি। করোনায় যারা প্রকৃতভাবে ক্ষতির শিকার হয়েছেন, আমরা তাদের এ প্রণোদনা সহায়তা দিচ্ছি। কে বিএনপি, কে অমুক দল করেন, সেসব বিবেচনায় আনা হয়নি। ক্ষতিগ্রস্তদের নির্বাচন করেই এ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতির হার কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। অতীতের প্রাকৃতিক দুর্যোগের তথ্য বিশ্লেষণ করলেই এর সঠিক পরিসংখ্যান বের হয়ে আসবে। এক শ্রেণীর মানুষ রয়েছে, দেশে ভালো কিছু হলেও যাদের মন ভরে না। দেশের বিরুদ্ধে কাজ করতে এবং কথা বলতে তারা সবসময়ই এগিয়ে থাকে। এ শ্রেণির মানুষদের কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে।  

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ১৫ ক্যাটাগরিতে দেশের ৪৬৬টি উপজেলা থেকে যাচাই করে প্রাণিসম্পদ খাতের ৪ লাখ ৭ হাজার ৪০২ জন খামারিকে (ডেইরি ও পোলট্রি) ৪৬৮ কোটি ৮৬ লাখ ৪১ হাজার ২৫০ টাকা এবং ৭৫ উপজেলার মৎস্যখাতের ৭৮ হাজার ৭৪ জন খামারিকে ৭ ক্যাটাগরিতে ১০০ কোটি টাকা প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া শুরু হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিসারিজ প্রকল্পের অধীনে এ প্রণোদনা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ। তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে মোট ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৪৭৬ জন খামরিকে ৫৬৮ কোটি ৮৬ লাখ ৪১ হাজার ২৫০ টাকা দেওয়া হচ্ছে।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে খামারি ও জেলা প্রশাসকেরা অনুষ্ঠানে তাদের মত তুলে ধরেন। সহজেই  সহায়তা পাওয়ায় খামারিরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। বিকাশ, নগদ ও অগ্রণী ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে খামারিদের কাছে প্রণোদনার অর্থ পৌঁছে যাবে। এরইমধ্যে অনেকেই এ অর্থ পেয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here