সোমবার, মার্চ ১, ২০২১

Daily Archives: ৮ জানুয়ারি, ২০২১

অধিক লাভের জন্য জেনে নিন কোন শেয়ারে বিনিয়োগ করবেন

নতুন বিনিয়োগকারীরা প্রায়ই প্রশ্ন করেন যে, কোন শেয়ার দিয়ে বিনিয়োগ শুরু করবেন। অনেকেই বিনিয়োগের তেমন কোন ধারনা না থাকায় অথবা শেয়ারবাজার সম্পর্কে ভালভাবে না...

করোনায় নতুন মৃত্যু ও শনাক্ত কমেছে

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের তাণ্ডব যেন থামছেই না। যদিও স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বাভাবিক জীবন-যাত্রায় ফিরছে মানুষ। এরমধ্যে আবার করোনার নতুন প্রজাতি সারাবিশ্বে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। আজ...

সুকুক কি? সুকুক নিয়ে কিছু কথা!

বর্তমান সময়ে বিশ্বময় সবচেয়ে আলোচিত ইসলামিক প্রডাক্টগুলোর একটি হলো ‘সুকুক’। বিশেষত বাংলাদেশে এর আলোচনা এখন তুঙ্গে। বছর দুয়েক আগেও এর তেমন আলোচনা ছিল না। সর্বপ্রথম ২০১৯ সালের ২৯ মে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি সুকুক বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করে। এরপর গত ৮ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে সরকার কর্তৃক সুকুক ইস্যু ও ব্যবস্থাপনা সম্পৃক্ত গাইডলাইন প্রকাশিত হয়। সব শেষে গত ২৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে প্রকাশিত হয় প্রত্যাশিত বাংলাদেশ সরকারের ইনভেস্টমেন্ট সুকুকের প্রসপেক্টাস। ওই প্রসপেক্টাস অনুযায়ী গত ২৮ ডিসেম্বর দেশে প্রথম সুকুক অকশন অনুষ্ঠিত হয়। কনভেনশনাল ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংকসহ ৩৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এতে অংশগ্রহণ করে। অকশনের প্রথম ধাপে ৪ হাজার কোটি টাকার সুকুকের জন্য আবেদন পড়েছে ১৫ হাজার ১৫৩ কোটি ১০ লাখ টাকার। অর্থাৎ প্রায় চার গুণ বেশি আবেদন। এ থেকে বাংলাদেশে এর তুমুল জনপ্রিয়তা অনুমান করা যায়। জানা গেছে, সুকুকের মাধ্যমে অর্থায়নের জন্য সরকার মোট ৬৮টি প্রকল্পের তালিকা করেছে। এসব প্রকল্পের টাকার পরিমাণও নির্ধারণ করা হয়েছে। সুতরাং আশা করা যাচ্ছে ভবিষ্যতে আরো সুকুক ইস্যু হবে। সরকার কেন এই সুকুকে আগ্রহী হলো, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ‘দেশের ব্যাংকিং খাতের অতিরিক্ত তারল্যের প্রায় ৪৫ শতাংশের বেশি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে রয়েছে। কনভেনশনাল ব্যাংকগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন ধরনের ইনস্ট্রুমেন্টে বিনিয়োগের সুযোগ থাকলেও শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য তেমন কোনো বিনিয়োগের সুযোগ ছিল না। এতে তাদের অধিকাংশ তারল্যই অব্যবহূত থেকে যাচ্ছে। সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে এই ধারার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তারল্য একদিকে যেমন সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ব্যয় করা যাবে, তেমনি শরিয়াহভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের বিকল্প সুযোগ তৈরির পাশাপাশি আলোচ্য সুকুক তারা এসএলআর হিসাবেও ব্যবহার করতে পারবে।’ ১. গণমাধ্যমে প্রকাশিত অর্থ বিভাগের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থায় শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর অংশীদারিত্ব প্রায় ২৫ শতাংশ। অথচ সরকারের ঘাটতি অর্থায়নে এদের ভূমিকা নেই (প্রথম আলো, ৩০ আগস্ট, ২০২০)। মোট কথা, সরকার অর্থ সংগ্রহের জন্য নতুন করে সুকুক ইনস্ট্রুমেন্ট ব্যবহার করছে। সামনেও হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, সুকুক প্রকারান্তরে সরকারের দায় বাড়িয়ে দেবে। দেশের চলমান অর্থনীতিতে সরকারের দায় বৃদ্ধি কতটা উপকারী, সেটি একটি আলোচনা হতে পারে। প্রবন্ধের শেষে এ বিষয়ে কিঞ্চিৎ আলোকপাত করা হবে। সুকুক কী? সুকুক আমাদের দেশে একেবারেই নতুন একটি ইসলামী বিনিয়োগ প্রডাক্ট। শব্দ যেমন নতুন, পাবলিক প্রডাক্ট হিসেবেও নতুন। সুকুক শব্দটি মূলত বহুবচন। এর একবচন ‘ছক্ক’। মূল শব্দটি ফার্সি। সেখান থেকে আরবি ‘ছাক্কুন’। এরপর এর বহুবচন ‘সুকুক’। এর শাব্দিক অর্থ সার্টিফিকেট। দলিল-দস্তাবেজ, যা কোনো সম্পদের প্রতিনিধিত্ব করে। যেমন জমির দলিল (আল-মিসবাহুল মুনীর, পৃ. ১৮০)। সুকুকের প্রায়োগিক ব্যবহার প্রায়োগিক দৃষ্টিকোণ থেকে ঐতিহাসিকভাবে সুকুকের তিনটি অর্থ ও প্রয়োগ দেখা যায়। যথা: ক. কোনো সম্পদের ডুকুমেন্টস/সার্টিফিকেট। যেমন ওয়াকফ সম্পদের দলিল। হিজরি পঞ্চম শতাব্দীতে এর ব্যবহার পাওয়া যায় (রদ্দুল মুহতার, ১৩/৫৯২)। খ. রাষ্ট্রীয় ভাতা প্রাপ্তির সার্টিফিকেট। এই ব্যবহারটি ৬৫ হিজরিতে উমাইয়্যাহ শাসনামলে পাওয়া যায়। মদিনার গভর্নর তখন মারওয়ান ইবনে হাকাম (২-৬৫হি./৬২৩-৬৮ঈ.)। ওই সময়ে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভাতা প্রদান করা হতো। সেই ভাতা প্রাপ্তির জন্য বিশেষ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছিল, যা ‘সুকুক’ নামে পরিচিত ছিল। এই সুকুক দিয়ে নির্ধারিত স্থান থেকে রাষ্ট্রীয় ভাতা হিসেবে খাদ্যলাভ করা যেত। এই সুকুক আবার সেকেন্ডারি মার্কেটে লেনদেন হতো। যিনি এই সুকুক লাভ করতেন, তিনি সেটি দিয়ে ভাতা উত্তোলন না করে অন্যত্র বিক্রয় করে দিতেন। এতে যে সমস্যা হতো তা হলো, পণ্য হস্তগত করার আগেই তা বিক্রয় করা হয়। হাদিসে তা স্পষ্ট নিষিদ্ধ। তাই তত্কালীন সাহাবায়ে কেরাম এর বিরোধিতা করেছেন। ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে হাদিসের কিতাবগুলোয় উল্লেখ হয়েছে (সহিহ মুসলিম, ৩৭৩৯)। গ. সুদি বন্ডের বিকল্প হিসেবে ‘বিশেষ সার্টিফিকেট’ এ অর্থেই বর্তমানে ব্যবহূত হয়। লক্ষ করুন, পূর্বোক্ত দুটি প্রয়োগ ও বর্তমান প্রয়োগে একটি বিশেষ মিল হলো, সুকুক সবসময় সম্পদের প্রতিনিধিত্ব করে। এর আন্ডারলায়িং অ্যাসেট থাকে। এটিই সুকুকের মূলকথা। ২. প্রচলিত বন্ড যেখানে হয় সুদভিত্তিক, সুকুক সেখানে সুদমুক্ত প্রডাক্ট। বন্ড একটি সুদভিত্তিক ফান্ড সংগ্রহের মাধ্যম। অন্যদিকে সুকুক সুদমুক্ত ফান্ড সংগ্রহের ইসলামী মাধ্যম। প্রকৃত অর্থে সুকুক সুনির্দিষ্ট কোনো আর্থিক চুক্তির নাম নয়। এর প্রকৃতি নির্ণীত হয় এর স্ট্রাকচারিংয়ের মাধ্যমে। কখনো এর অবকাঠামো তৈরি হয় মুরাবাহা ভিত্তিতে। কখনো ইস্তেসনা। কখনো ইজারা ভিত্তিতে। এসব অবকাঠামো প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত। যথা—অ্যাসেট বেজড ও অ্যাসেট ব্যাকড। সাধারণত ইজারা বা লিজভিত্তিক সুকুক হলো অ্যাসেট বেজড। আর বাকিগুলো অ্যাসেট ব্যাকড। সুকুকের বৈশিষ্ট্য সুকুকের মূল বৈশিষ্ট্য তিনটি। যথা—(১) এটি বিশেষ প্রজেক্টে হয়ে থাকে; (২) এর বিপরীতে সুনির্দিষ্ট অ্যাসেট থাকে। পরিভাষায় একে ‘আন্ডারলায়িং অ্যাসেট’ বলা হয়। সুকুক হোল্ডারদের মূলত সেই অ্যাসেট থেকে প্রফিট জেনারেট হয়। দেখুন সাধারণ ব্যাংক লোনের বিপরীতেও বন্ধকি হিসেবে অ্যাসেট রাখতে হয়। তবে সেটি ব্যবহূত হয় না। সেখান থেকে প্রফিট আসে না; (৩) এর অবকাঠামো গঠন হয় শরিয়াহর সুনির্দিষ্ট কোনো কন্ট্রাক্টের অধীনে। প্রচলিত সুকুকের সূচনা প্রচলিত সুকুকের সূচনা হয় ১৯৭৮ সালে জর্ডানে ‘সকুকুল মুকারাযা’/মুদারাবা’ দিয়ে। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৪ সালে তুরস্কে ‘মুশারাকা সুকুক’ প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ‘তার্কিশ রেভিনিউ শেয়ারিং সার্টিফিকেট’ নামে পরিচিতি ছিল। এটি ছিল সে দেশের প্রথম সরকারি সুদমুক্ত বন্ড। এরপর ১৯৯০-এ মালয়েশিয়ায় সর্বপ্রথম করপোরেট সুকুক ইস্যু করে (সুকুক প্রিন্সিপল অ্যান্ড প্র্যাকটিস, ইসরা, পৃ. ৬১)। এরপর বিভিন্ন দেশে সুকুক ইস্যু হয়। আমাদের দেশের সরকারি সুকুক অবকাঠামো সম্প্রতি প্রকাশিত সুকুক প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, বাংলাদেশ গভর্মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট সুকুকের অবকাঠামো হলো ইজারা (প্রকৃত অর্থে ইজারা অ্যান্ড লিজ ব্যাক)। অবকাঠামোর পক্ষগুলো প্রসপেক্টাস অনুযায়ী ওই সুকুকের পক্ষগুলো হলো—ক. অবলিগর (Obligor): এর অর্থ, শরিয়াহ নীতি অনুযায়ী সুকুক ইস্যুর প্রস্তাবকারী। এখানে সেই পক্ষ হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। এর পক্ষে কাজ করবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। একই সঙ্গে তারা ভাড়াগ্রহীতা (Lessee) ও সার্ভিসিং এজেন্ট। ৩. খ. ইস্যুয়ার: এর অর্থ, সম্পদের বিপরীতে সুকুক ইস্যু করার জন্য নিযুক্ত পক্ষ। এখানে সেই পক্ষ হলো ঋণ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। মূলত এ বিভাগে একটি স্বতন্ত্র সেকশন থাকবে, যার নাম হবে ইসলামিক সিকিউরিটি সেকশন। এর সদস্য সংখ্যা থাকবে পাঁচজন। প্রধান থাকবেন ঋণ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ডিজিএম। বাকি সদস্যরাও এ বিভাগেরই বিভিন্ন কর্মকর্তা। তাই অন্যভাবে বলা যায়, ‘ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট’ই ইস্যুয়ার। এ বিভাগ একই সঙ্গে ভাড়াদাতা ও এসপিভি (স্পেশাল পারপাস ভেহিকল) হিসেবেও কাজ করবে। গ. ট্রাস্টি: এর অর্থ, এমন পক্ষ, যারা সুকুক ধারকদের স্বার্থ সংরক্ষণ, এসপিভির কার্যক্রম তত্ত্বাবধান কাজে নিয়োজিত থাকে। পাশাপাশি অবলিগর/অরিজিনেটরের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি অনুসারে প্রসপেক্টাসে বর্ণিত দলিলাদি ও গ্যারান্টির নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্বও পালন করে। এখানে সেই পক্ষ বাংলাদেশ ব্যাংকেরই বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা। এর প্রধান ও চেয়ারম্যান হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ডেপুটি গভর্নর। প্রসপেক্টাস অনুযায়ী এর সদস্য সংখ্যা ছয়জন। এর মধ্যে তিনজনই ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা। ঘ. শরিয়াহ বোর্ড: এর অর্থ, যারা সুকুক ইস্যুর ক্ষেত্রে শরিয়াহ-বিষয়ক যেকোনো মতামত ও পরামর্শ প্রদান করবেন। সুকুক গাইডলাইন অনুযায়ী সরকারি সুকুকের ক্ষেত্রে এটি গঠন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রসপেক্টাস অনুযায়ী এর সদস্য সংখ্যা ১১ জন। এর চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট। ১১ জনের মাঝে মাওলানা আছেন মাত্র দুজন। মুফতি মাত্র একজন! শরিয়াহ ইস্যুতে বিজ্ঞ আলেম ও মুফতিদের মেজরিটি অনুপস্থিতি এর আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। শুধু তাই নয়, একে বাংলাদেশ ব্যাংকের (যারা ইস্যুয়ার) অধীনে রাখায় এর স্বাধীনতাও ক্ষুণ্ন হবে বলে মনে করছেন তারা। তাছাড়া শরিয়াহ বোর্ডকে বলা হয়েছে ‘অ্যাডভাইজরি কমিটি’। অথচ আন্তর্জাতিক শরিয়াহ গভর্ন্যান্স অনুযায়ী ‘সুপারভাইজরি কমিটি’ হওয়া জরুরি। পাঠকদের জ্ঞাতার্থে এটিও উল্লেখ করা উচিত মনে করছি, ২০০৯-এ প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি ইসলামিক ব্যাংকিং গাইডলাইন, বিএসইসি কর্তৃক প্রকাশিত সুকুক গেজেট ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি ইসলামিক ব্যাংকিং গাইড লাইনের প্রস্তাবিত সংশোধিত কপি (২০২০) এসবে শরিয়াহ বোর্ড গঠনের যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, সেটি এখানে প্রতিফলিত হয়নি (এখানে দীর্ঘ আলোচনার সুযোগ নেই)। স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ! এখানে আরো একটি বিষয় লক্ষণীয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপনা বিভাগই সবকিছুর মূলে নিহিত। এ বিভাগের কর্মকর্তারা একই সঙ্গে ইস্যুয়ার ও ট্রাস্টি। ট্রাস্টির মতো একটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ পদের ৫০ শতাংশই ইস্যুয়ার পক্ষের দখলে। ৪. শুধু তাই নয়, শরিয়াহ বোর্ডের মতো আরো গুরুত্বপূর্ণ পদের চেয়ারম্যানও এ বিভাগের কর্মকর্তাই। এটি স্পষ্ট ‘স্বার্থের দ্বন্দ্ব’ তৈরি করতে পারে। প্রসপেক্টাসে ট্রাস্টি ও শরিয়াহ বোর্ডের ব্যাপারে স্বাধীনভাবে কাজ করার যে কথা বলা হয়েছে, সেটি কতদূর সম্ভব হবে তা সহসাই প্রশ্নবিদ্ধ। তদ্রূপ ইস্যুয়ার ও এসপিভিও অভিন্ন। এটিও আন্তর্জাতিক সুকুক অবকাঠামোর সঙ্গে যায় না। সুকুক রূপরেখা সুকুক অবকাঠামো বা সুকুক চুক্তির পক্ষগুলো আলোচনার পর সুকুক রূপরেখা সামনে আসে। সুকুক অবকাঠামো অনুযায়ী এর রূপরেখা যেভাবে আলোচিত হওয়া দরকার ছিল, প্রসপেক্টাসে সেভাবে তা হয়নি। প্রসপেক্টাসটি বেশ সংক্ষিপ্ত। এতে বিস্তারিত রূপরেখা আসেনি। কিছুটা এসেছে। প্রসপেক্টাস ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বক্তব্য থেকে এর যে রূপরেখা ফুটে ওঠে তা হলো, ‘সারা দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ করা’ সরকারের একটি প্রজেক্ট। এ প্রজেক্ট বাস্তবায়নের জন্য মোটা অংকের ফান্ড দরকার। টাকার অংকে যার পরিমাণ ৮ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। এ টাকা সংগ্রহের জন্য সরকার সুকুক ইস্যু করতে আগ্রহী। ওই প্রজেক্টের অধীনে সৃষ্ট সম্পদই আলোচিত সরকারি সুকুকের অ্যাসেট বলে বিবেচিত হবে। ওই ফান্ড সংগ্রহের জন্য সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মাঝে একটি সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষর হয়েছে। এটি অনুযায়ী অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক ফান্ড সংগ্রহ করবে। এর প্রক্রিয়া হলো, বাংলাদেশ ব্যাংক ইস্যুয়ার হিসেবে সুকুক ইস্যু করবে। এরপর সুকুক ইনভেস্টরদের টাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রজেক্টের সম্পদ ক্রয় করা হবে। অতঃপর সেটি ইনভেস্টরদের পক্ষে অর্থ বিভাগের কাছে ভাড়ায় প্রদান করা হবে। অর্থ বিভাগ এর ভাড়া প্রদান করবে। মেয়াদ শেষে সম্পদটি অর্থ বিভাগ ক্রয় করে নেবে। সব শেষে ইনভেস্টররা তাদের মূল্য পুঁজিসহ মুনাফা লাভ করবেন। নিচের চিত্রটি লক্ষ করি—  > _ অর্থ বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মাঝে এমওইউ > _  ঋণ বিভাগ সুকুক ইস্যুকারী/বিক্রেতা/এসপিভি > _  ঋণ বিভাগ কর্তৃক ভাড়া প্রদান > _  অর্থ বিভাগ কর্তৃক ভাড়া গ্রহণ > _  অর্থ বিভাগ কর্তৃক ক্রয়= সুকুক নিষ্পত্তি। এক নজরে সরকারি সুকুক-সংক্রান্ত তথ্যাবলি সুকুকের নাম: ইজারা সুকুক। তবে ভাড়াগ্রহীতা (অর্থ মন্ত্রণালয়) যেহেতু সেটি পুনরায় ক্রয় করে নেয়ার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তাই বাস্তব অর্থে এটি ‘ইজরা অ্যান্ড লিজ ব্যাক’ হবে। ৫. আন্ডারলায়িং অ্যাসেট: নিরাপদ পানি প্রজেক্টের অধীনে বিদ্যমান সম্পদ ও ভবিষ্যৎ সম্পদের ভোগ ব্যবহার। সার্ভিসিং এজেন্ট: স্বয়ং ভাড়াগ্রহীতা তথা অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভাগ। ভাড়া চুক্তি/প্রজেক্ট ডিউরেশন: ১১ জানুয়ারি, ২০২০-৩০ জুন, ২০২৫। মোট পাঁচ বছর। অ্যাসেট ব্যয়: ৮ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা, যা মোটে ৮ হাজার কোটি টাকা। ভাড়া বা রেন্ট হার: বিজিআইইবির সঙ্গে ১ শতাংশ যুক্ত হয়ে মোট ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এটি সুনির্ধারিত। প্রতি বছরে তা শোধ করা হবে। সুকুক গ্রাহকদের মাঝে রেন্ট বণ্টন করা হবে: প্রতি ছয় মাস পর। সুকুক মূল্য: ন্যূনতম মূল্য প্রতি সুকুক ১০০ টাকা। তবে মিনিমাম লট ১০ হাজার টাকা। কিস্তি: মোট দুটি কিস্তি বা ধাপে ৪ হাজার কোটি টাকা করে ওই ৪ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করা হবে। প্রথম নিলাম অনুষ্ঠিত হবে: ২৮ ডিসেম্বর, ২০২০। দ্বিতীয় ধাপের নিলাম হবে ২৮ জুন, ২০২১। শরিয়াহ বিশ্লেষণ সুকুক প্রসপেক্টাসের নিয়ম হলো, তাতে রেফারেন্সসহ বিস্তারিত শরিয়াহ বিশ্লেষণ উল্লেখ করা। শেষে তাতে শরিয়াহ কমিটির দস্তখত থাকা। (অ্যাওফি, সুকুক-বিষয়ক রেজুলেশন, ২০০৮, ধারা: ৬) কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, আমাদের আলোচিত প্রসপেক্টাসে এগুলো নেই। সার্বিক বিশ্লেষণে যা দেখা যাচ্ছে, এখানে মূলত তিনটি চুক্তি হচ্ছে। যথা: ক. ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি; খ. ইজারা বা লিজ চুক্তি; গ. পুনরায় বিক্রয় চুক্তি। নিম্নে এসব চুক্তি-সংক্রান্ত কিছু শরিয়াহ আপত্তি তুলে ধরা হলো: শরিয়াহ ইস্যু ১: পণ্য অজ্ঞাত/অনির্দিষ্ট ইনভেস্টররা টাকা দিয়ে প্রথমে এসপিভির মাধ্যমে সুকুক আন্ডারলায়িং অ্যাসেট ক্রয় করবেন। এখানে সেই অ্যাসেট কী, সেটি স্পষ্ট নয়। প্রসপেক্টাসে শুধু এতটুকু উল্লেখ আছে—Sukuk Asset: Ownership of the existing and future asset including usufruct under the project ‘Safe Water Supply to the Whole Country’. এখানে Existing Asset কী, তা প্রসপেক্টাসে উল্লেখ নেই। অথচ যেকোনো ক্রয়-বিক্রয় সঠিক হওয়ার জন্য কী বিক্রয় হবে বা ক্রয় হবে, সেটি স্পষ্ট হওয়া একান্ত জরুরি। এ ব্যাপারে কারো কোনো দ্বিমত নেই, আলোচিত ইজারা সুকুকের জন্য সুকুক অ্যাসেটে ইনভেস্টরদের মালিকানা নিশ্চিত করা জরুরি। আর না হয় সেটি কেবল রেন্ট (প্রাপ্ত মুনাফা) বিক্রয় হবে। যা বৈধ নয় (মিলকিয়্যাতু হামালাতি সুকুক, ড. হামিদ হাসান মিরাহ, পৃ.৮৮, আস-সুকুক, ড. ফাহান বিনবাদী, পৃ. ৮২)। ৬. প্রকাশ থাকে যে আন্তর্জাতিকভাবে ইজারা সুকুক মৌলিকভাবে তিন প্রকার হয়ে থাকে। যথা— Certificate of...

বেড়েই চলেছে ভোজ্য তেল আর চালের দাম!

বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছেই। খুচরা পর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম যেমন কিছুটা বেড়েছে, তেমনি বাড়তি খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম। তেলের সঙ্গে চিনির দাম...

বন্ড ছাড়তে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ লাগবে ন্যূণতম ২০০ কোটি টাকা

শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়াতে ও পণ্য বৈচিত্র্য আনতে নতুন কৌশল নিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ জন্য বিভিন্ন ব্যাংকের...

অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমতি দিল সরকার

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনার ভ্যাকসিন জরুরি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে সরকার। দেশে টিকা অনুমোদনকারি টেকনিক্যাল কমিটি বৈঠক প্রয়োজনীয় সব তথ্য উপাত্ত পর্যালোচনার পর আজ (৭ জানুয়ারি)...

চাহিদায় এগিয়ে আর্থিক ও বস্ত্র খাতের শেয়ার!

বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকায় প্রতিনিয়তই পোর্টফলিওতে নতুন ধরনের শেয়ার যুক্ত করছেন বিনিয়োগকারীরা। সম্প্রতি বিনিয়োগকারীরা তাদের পোর্টফলিও ভারী করছেন কম দরের শেয়ার দিয়ে, যে কারণে এ...

পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে দুবাইতে রোড শো করবে বিএসইসি

পুঁজিবাজারে বিদেশি ও প্রবাসীদের বিনিয়োগ বাড়াতে চায় সরকার। এই জন্য বিদেশে রোড শো করবে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।  প্রথম...

করোনা বিশ্ব অর্থনীতিতে ধাক্কা দিলেও বাংলাদেশ পরিস্থিতি সামলাতে পেরেছেঃ প্রধানমন্ত্রী

করোনা বিশ্ব অর্থনীতিতে ধাক্কা দিলেও বাংলাদেশ পরিস্থিতি সামলাতে পেরেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনা ভাইরাস মহামারি ইতোমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতিতে এক গভীর ক্ষতের সৃষ্টি...

যা না জানলেই নয়, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে করনীয় এবং বর্জনীয়!

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অন্যান্যের মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে জেনে-বুঝে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।​ মৌল ভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানী যাচাইয়ের জন্য...
English Version