০২:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

ফিলিস্তিনে কি সত্যিই কোকা–কোলার ফ্যাক্টরি আছে?

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৮:০৮:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ জুন ২০২৪
  • / ৪২৪৯ বার দেখা হয়েছে

ট্রেন্ডিং দুনিয়ার বাসিন্দাদের কাছে এখন প্রধান ট্রেন্ডি বিষয়—‘কোকা–কোলা’। একটি বিজ্ঞাপনকে ঘিরে বাংলার তাবৎ ফেসবুকবাসী গত দু–তিনদিন ধরে বুঁদ হয়ে আছেন ‘ফিলিস্তিন’, ‘কোকা–কোলা’, ‘ফ্যাক্টরি’, ‘ইসরায়েল’ ইত্যাদি শব্দগুলোর মধ্যে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

কী আছে সেই আলোচিত–সমালোচিত বিজ্ঞাপনে? বিজ্ঞাপনটিকে দেখা যায়, একজন কোক বিক্রেতা এলাকার যুবকদের বোঝাচ্ছেন যে, কোকা–কোলার সঙ্গে ইসরায়েলের কোনও সম্পর্ক নেই; বরং ফিলিস্তিনের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। ফিলিস্তিনে কোকা–কোলার ফ্যাক্টরিও রয়েছে বলে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন তিনি। এরপর সেই দোকানি কোক বর্জনকারী যুবকদের বলেন, তারা যেন ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে সত্যটা খুঁজে নেয়।

সত্যিই কি ফিলিস্তিনে কোকা–কোলার ফ্যাক্টরি আছে

গুগলে খুঁজে জানা গেল, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ফিলিস্তিনের গাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে কারখানা চালুর ঘোষণা দেয় কোকা–কোলা। তারও কয়েক মাস আগে থেকে অবশ্য কোম্পানিটি আংশিকভাবে কোকের বোতল তৈরির কারখানা চালু রেখেছিল সেখানে। কোকা–কোলার দাবি, গাজায় কোকা–কোলার ফ্যাক্টরি তৈরি হলে সেখানকার বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

এরপর ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে স্থানীয় ন্যাশনাল বেভারেজ কোম্পানির (এনবিসি) সঙ্গে যৌথভাবে পশ্চিম তীরের কাছে রামাল্লায় কারখানা চালু করে কোকা–কোলা। উদ্বোধনী দিনে এনবিসির চেয়ারম্যান ও ফিলিস্তিন অঞ্চলে কোকা–কোলার প্রধান জাহি খৌরি বলেন, ‘আজ এক ঐতিহাসিক দিন। কোকা–কোলার ও ফিলিস্তিনের জন্য এই দিনটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।’

কোকা-কোলার তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহতার কেন্ট বলেন, ‘সারা বিশ্বের সম্প্রদায়গুলোকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবে আমরা গাজায় নতুন কারখানা চালু করেছি। যদিও ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে এনবিসির তিনটি বোতলজাতকরণ কারখানা রয়েছে, তারপরও নতুন এই কারখানা গাজার অর্থনীতিকে সুদৃঢ় করতে নিঃসন্দেহে অবদান রাখবে।’

কোকা–কোলার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটেও গাজায় কোকা–কোলার কারখানা পরিচালনার বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে। ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এনবিসি একটি স্বাধীন কোম্পানি। তবে কোকা–কোলার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধভাবে এটি পরিচালিত হয়। এনবিসির সঙ্গে যৌথভাবে কোকা–কোলা গাজায় স্কুল পরিচালনা, রোজায় ইফতার বিতরণ থেকে শুরু করে নানা ধরনের সমাজসেবামূলক কাজ করে বলেও ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইসলামে ঋণখেলাপির ভয়াবহ শাস্তি

কোকা–কোলা যেভাবে গাজায় সাম্রাজ্য বিস্তার করল

১৯৯৭ সালে গাজায় কোকা–কোলার ফ্র্যাঞ্চাইজি চালু করেন এনবিসির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জাহি খৌরি। এরপর গত ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি গাজায় কোকা–কোলার সঙ্গে তাঁর ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।

তবে তাঁর এই ব্যবসায়িক যাত্রা মোটেও কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে দীর্ঘ সময়ের চলমান সংঘাতের মধ্যে তাঁকে ব্যবসা চালিয়ে যেতে হয়েছে।

নানা প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে জাহি খৌরি ধীরে ধীরে কোকা–কোলার সঙ্গে তাঁর ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন এবং চারটি বোতলজাতকরণ কারখানা প্রতিষ্ঠাতা করেন। পাশাপাশি কোকা–কোলার তিনটি সরবরাহ কেন্দ্রও প্রতিষ্ঠা করেন।

কূটনীতিক সংস্থা মিডল ইস্ট কোয়ার্টেটের প্রধান কিটো ডি বোয়ের বলেন, ‘গাজায় তাঁর প্রভাব বর্ণনা করা কঠিন। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত জনপদে কারখানা চালু রাখা ও ব্যবসা পরিচালনা করা সহজ নয়।’

কোকা–কোলার মতো একটি বৈশ্বিক কোম্পানির করপোরেট অংশীদার জাহি খৌরি এবং এটিই এখন তাঁর প্রধান পরিচয় হয়ে উঠেছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, তাঁর হাত ধরে কোকা–কোলা যেমন ফিলিস্তিন অঞ্চলে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে, তেমনি গাজায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনীতিতেও অবদান রাখতে পেরেছে।

ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক সংস্থা স্কল ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যালি ওসবার্গ বলেন, ‘কোকা–কোলা এই অঞ্চলে দারুণভাবে সফল হয়েছে। এ কথা স্বীকার করতেই হবে যে, যার হাত ধরে ফিলিস্তিন অঞ্চলে কোক তার সাম্রাজ্য বিস্তার করেছে, তিনি জাহি খৌরি।’

তথ্যসূত্র: আরব নিউজ, দ্য নিউ আরব, বিবিসি ও কোকা–কোলার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট

ঢাকা/এসএইচ

শেয়ার করুন

x

ফিলিস্তিনে কি সত্যিই কোকা–কোলার ফ্যাক্টরি আছে?

আপডেট: ০৮:০৮:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ জুন ২০২৪

ট্রেন্ডিং দুনিয়ার বাসিন্দাদের কাছে এখন প্রধান ট্রেন্ডি বিষয়—‘কোকা–কোলা’। একটি বিজ্ঞাপনকে ঘিরে বাংলার তাবৎ ফেসবুকবাসী গত দু–তিনদিন ধরে বুঁদ হয়ে আছেন ‘ফিলিস্তিন’, ‘কোকা–কোলা’, ‘ফ্যাক্টরি’, ‘ইসরায়েল’ ইত্যাদি শব্দগুলোর মধ্যে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

কী আছে সেই আলোচিত–সমালোচিত বিজ্ঞাপনে? বিজ্ঞাপনটিকে দেখা যায়, একজন কোক বিক্রেতা এলাকার যুবকদের বোঝাচ্ছেন যে, কোকা–কোলার সঙ্গে ইসরায়েলের কোনও সম্পর্ক নেই; বরং ফিলিস্তিনের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। ফিলিস্তিনে কোকা–কোলার ফ্যাক্টরিও রয়েছে বলে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন তিনি। এরপর সেই দোকানি কোক বর্জনকারী যুবকদের বলেন, তারা যেন ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে সত্যটা খুঁজে নেয়।

সত্যিই কি ফিলিস্তিনে কোকা–কোলার ফ্যাক্টরি আছে

গুগলে খুঁজে জানা গেল, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ফিলিস্তিনের গাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে কারখানা চালুর ঘোষণা দেয় কোকা–কোলা। তারও কয়েক মাস আগে থেকে অবশ্য কোম্পানিটি আংশিকভাবে কোকের বোতল তৈরির কারখানা চালু রেখেছিল সেখানে। কোকা–কোলার দাবি, গাজায় কোকা–কোলার ফ্যাক্টরি তৈরি হলে সেখানকার বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

এরপর ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে স্থানীয় ন্যাশনাল বেভারেজ কোম্পানির (এনবিসি) সঙ্গে যৌথভাবে পশ্চিম তীরের কাছে রামাল্লায় কারখানা চালু করে কোকা–কোলা। উদ্বোধনী দিনে এনবিসির চেয়ারম্যান ও ফিলিস্তিন অঞ্চলে কোকা–কোলার প্রধান জাহি খৌরি বলেন, ‘আজ এক ঐতিহাসিক দিন। কোকা–কোলার ও ফিলিস্তিনের জন্য এই দিনটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।’

কোকা-কোলার তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহতার কেন্ট বলেন, ‘সারা বিশ্বের সম্প্রদায়গুলোকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবে আমরা গাজায় নতুন কারখানা চালু করেছি। যদিও ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে এনবিসির তিনটি বোতলজাতকরণ কারখানা রয়েছে, তারপরও নতুন এই কারখানা গাজার অর্থনীতিকে সুদৃঢ় করতে নিঃসন্দেহে অবদান রাখবে।’

কোকা–কোলার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটেও গাজায় কোকা–কোলার কারখানা পরিচালনার বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে। ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এনবিসি একটি স্বাধীন কোম্পানি। তবে কোকা–কোলার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধভাবে এটি পরিচালিত হয়। এনবিসির সঙ্গে যৌথভাবে কোকা–কোলা গাজায় স্কুল পরিচালনা, রোজায় ইফতার বিতরণ থেকে শুরু করে নানা ধরনের সমাজসেবামূলক কাজ করে বলেও ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইসলামে ঋণখেলাপির ভয়াবহ শাস্তি

কোকা–কোলা যেভাবে গাজায় সাম্রাজ্য বিস্তার করল

১৯৯৭ সালে গাজায় কোকা–কোলার ফ্র্যাঞ্চাইজি চালু করেন এনবিসির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জাহি খৌরি। এরপর গত ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি গাজায় কোকা–কোলার সঙ্গে তাঁর ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।

তবে তাঁর এই ব্যবসায়িক যাত্রা মোটেও কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে দীর্ঘ সময়ের চলমান সংঘাতের মধ্যে তাঁকে ব্যবসা চালিয়ে যেতে হয়েছে।

নানা প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে জাহি খৌরি ধীরে ধীরে কোকা–কোলার সঙ্গে তাঁর ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন এবং চারটি বোতলজাতকরণ কারখানা প্রতিষ্ঠাতা করেন। পাশাপাশি কোকা–কোলার তিনটি সরবরাহ কেন্দ্রও প্রতিষ্ঠা করেন।

কূটনীতিক সংস্থা মিডল ইস্ট কোয়ার্টেটের প্রধান কিটো ডি বোয়ের বলেন, ‘গাজায় তাঁর প্রভাব বর্ণনা করা কঠিন। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত জনপদে কারখানা চালু রাখা ও ব্যবসা পরিচালনা করা সহজ নয়।’

কোকা–কোলার মতো একটি বৈশ্বিক কোম্পানির করপোরেট অংশীদার জাহি খৌরি এবং এটিই এখন তাঁর প্রধান পরিচয় হয়ে উঠেছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, তাঁর হাত ধরে কোকা–কোলা যেমন ফিলিস্তিন অঞ্চলে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে, তেমনি গাজায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনীতিতেও অবদান রাখতে পেরেছে।

ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক সংস্থা স্কল ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যালি ওসবার্গ বলেন, ‘কোকা–কোলা এই অঞ্চলে দারুণভাবে সফল হয়েছে। এ কথা স্বীকার করতেই হবে যে, যার হাত ধরে ফিলিস্তিন অঞ্চলে কোক তার সাম্রাজ্য বিস্তার করেছে, তিনি জাহি খৌরি।’

তথ্যসূত্র: আরব নিউজ, দ্য নিউ আরব, বিবিসি ও কোকা–কোলার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট

ঢাকা/এসএইচ