১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আল-আরাফাহ্ ব্যাংকের সাবেক এমডি ও ডিএমডির বিরুদ্ধে দুর্নীতির ৪ মামলা

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৫:৩৯:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১০২৪০ বার দেখা হয়েছে

জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সোর্স ট্যাক্স, ব্যাংক হিসাবে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় ৩৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরমান আর চৌধুরী এবং উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নাদিমসহ চারজনের বিরুদ্ধে চার মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (৩০ নভেম্বর) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক আজিজুল হক বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন। দুদকের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বিষয়টি জানিয়েছেন।

প্রথম মামলায় আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এমডি ও ডিএমডির বিরুদ্ধে এক কোটি ৪৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন- আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরমান আর চৌধুরী এবং উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও সিএফও মোহাম্মদ নাদিম।

এজাহার অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে আসামিরা নিয়োগপত্রের শর্ত ভঙ্গ করে মূল বেতনের অতিরিক্ত সাতটি পর্যায়ে মোট ১ কোটি ৪৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা ক্ষমতার অপব্যবহার করে আত্মসাৎ করেন।

দ্বিতীয় মামলায় আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির জেনারেল লেজার (জিএল) হিসাব থেকে ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ফরমান আর চৌধুরী এবং মোহাম্মদ নাদিমকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, দুই আসামি পরস্পর যোগসাজশে ব্যাংকের জিএল হিসাব থেকে বিভিন্ন ভাউচারের মাধ্যমে মোট ৮৫ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।

তৃতীয় মামলায় এজেন্ট ব্যাংকিং কমিশনের উপর আরোপিত সোর্স ট্যাক্স সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে ৩৬ কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি করার অভিযোগ।

মামলার আসামিরা হলেন- সাবেক এমডি ফরমান আর চৌধুরী, সাবেক ডিএমডি মোহাম্মদ নাদিম, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফজলুর রহমান চৌধুরী ও সাবেক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদ আহাম্মদ খান।

এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পারস্পরিক যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৩৬১ কোটি ১০ লাখ ৬২ হাজার ৩৩২ টাকা কমিশনের উপর ১০ শতাংশ হারে সোর্স ট্যাক্স বাবদ ৩৬ কোটি ১১ লাখ ৬ হাজার ২৩৩ টাকা কর্তন করলেও তা সরকারি কোষাগারে জমা দেননি। ফলে সরকারের ৩৬ কোটি ১১ লাখ টাকারও বেশি রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।

চতুর্থ মামলায় বোনাস বাবদ নিজ প্রাপ্যতার অতিরিক্ত ৫৩ লাখ ৮০ হাজার ৪০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই মামলায়ও ফরমান আর চৌধুরী ও মোহাম্মদ নাদিমকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাংক থেকে বোনাস বাবদ নিজ প্রাপ্যতার অতিরিক্ত ওই টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ এবং ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে।

ঢাকা/এসএইচ

শেয়ার করুন

error: Content is protected ! Please Don't Try!

আল-আরাফাহ্ ব্যাংকের সাবেক এমডি ও ডিএমডির বিরুদ্ধে দুর্নীতির ৪ মামলা

আপডেট: ০৫:৩৯:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সোর্স ট্যাক্স, ব্যাংক হিসাবে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় ৩৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরমান আর চৌধুরী এবং উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নাদিমসহ চারজনের বিরুদ্ধে চার মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (৩০ নভেম্বর) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক আজিজুল হক বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন। দুদকের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বিষয়টি জানিয়েছেন।

প্রথম মামলায় আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এমডি ও ডিএমডির বিরুদ্ধে এক কোটি ৪৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন- আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরমান আর চৌধুরী এবং উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও সিএফও মোহাম্মদ নাদিম।

এজাহার অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে আসামিরা নিয়োগপত্রের শর্ত ভঙ্গ করে মূল বেতনের অতিরিক্ত সাতটি পর্যায়ে মোট ১ কোটি ৪৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা ক্ষমতার অপব্যবহার করে আত্মসাৎ করেন।

দ্বিতীয় মামলায় আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির জেনারেল লেজার (জিএল) হিসাব থেকে ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ফরমান আর চৌধুরী এবং মোহাম্মদ নাদিমকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, দুই আসামি পরস্পর যোগসাজশে ব্যাংকের জিএল হিসাব থেকে বিভিন্ন ভাউচারের মাধ্যমে মোট ৮৫ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।

তৃতীয় মামলায় এজেন্ট ব্যাংকিং কমিশনের উপর আরোপিত সোর্স ট্যাক্স সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে ৩৬ কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি করার অভিযোগ।

মামলার আসামিরা হলেন- সাবেক এমডি ফরমান আর চৌধুরী, সাবেক ডিএমডি মোহাম্মদ নাদিম, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফজলুর রহমান চৌধুরী ও সাবেক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদ আহাম্মদ খান।

এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পারস্পরিক যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৩৬১ কোটি ১০ লাখ ৬২ হাজার ৩৩২ টাকা কমিশনের উপর ১০ শতাংশ হারে সোর্স ট্যাক্স বাবদ ৩৬ কোটি ১১ লাখ ৬ হাজার ২৩৩ টাকা কর্তন করলেও তা সরকারি কোষাগারে জমা দেননি। ফলে সরকারের ৩৬ কোটি ১১ লাখ টাকারও বেশি রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।

চতুর্থ মামলায় বোনাস বাবদ নিজ প্রাপ্যতার অতিরিক্ত ৫৩ লাখ ৮০ হাজার ৪০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই মামলায়ও ফরমান আর চৌধুরী ও মোহাম্মদ নাদিমকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাংক থেকে বোনাস বাবদ নিজ প্রাপ্যতার অতিরিক্ত ওই টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ এবং ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে।

ঢাকা/এসএইচ