০৩:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ডিভিডেন্ড দেবে না ৩৮ কোম্পানি

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০১:০২:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ নভেম্বর ২০২১
  • / ১০৩৬৭ বার দেখা হয়েছে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কঠোর অবস্থানের মধ্যেই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৮ কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ২০২০-২১ অর্থবছরের ব্যবসায় শেয়ারহোল্ডারদের কোন ডিভিডেন্ড না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরমধ্যে মুনাফা করা ৭ কোম্পানিও রয়েছে। সম্প্রতি পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হওয়া (২০ নভেম্বর পর্যন্ত) কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩৮টির পর্ষদ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউট

অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বাধীন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর ‘নো’ ডিভিডেন্ড দেওয়া কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থা নেওয়া শুরু করে। এরইমধ্যে অনেক কোম্পানির কর্তৃপক্ষকে ডিভিডেন্ড না দেওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে তলবও করেছে।

ডিভিডেন্ড ঘোষণা না করা ৩৮টি কোম্পানির মধ্যে ৭টির মুনাফা হয়েছে। তবে ৩৮ কোম্পানির নিট ১ হাজার ৩৬১ কোটি ৬৭ লাখ টাকার লোকসান হয়েছে। যে কোম্পানিগুলোর বিগত বছরে লোকসানের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৪১৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এর পেছনে অবশ্য ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের অস্বাভাবিক ২ হাজার ৮০২ কোটি ৬৮ লাখ টাকার লোকসান প্রধান কারন হিসেবে ছিল। যে কোম্পানিটির এবার লোকসান ৬৯৪ কোটি ২৭ লাখ টাকায় নেমে এসেছে।

ডিভিডেন্ড ঘোষণা না করা কোম্পানিগুলোর বিষয়ে বিএসইসির কমিশনার ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ বিজনেস আওয়ারকে বলেন, আমরা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এ বিষয়ে কঠোর। এজন্য ব্যাখ্যা চেয়ে ‘নো’ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা কোম্পানিগুলোকে তলব করা হচ্ছে। যারা সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারবে না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

করোনা মহামারিতে ব্যবসায় ধসের কারনে কিছু কোম্পানি গত বছর প্রথমবারের মতো ডিভিডেন্ড না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। যাতে করে গত বছর জুন ক্লোজিং ৩৩ কোম্পানির পর্ষদ কোন ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে না। তবে এ বছর সংখ্যাটি বেড়ে ৩৮এ দাড়িঁয়েছে।

বিনিয়োগকারীরা পর্ষদের ‘নো’ ডিভিডেন্ডকে মানতে পারছেন না। তাদের মতে, এর আগে নিয়মিত মুনাফার একাংশ দিয়ে রিজার্ভ বাড়ানো হয়েছে, তাহলে এখন বিনিয়োগকারীদের দূরাবস্থার সময় রিজার্ভ থেকে ডিভিডেন্ড দিতে পারবে না কেনো। করোনায় শুধু কোম্পানির ব্যবসা নয়, বিনিয়োগকারীদের অবস্থাও শোচনীয়। এই দিকটাও কোম্পানিগুলোর পর্ষদের ভাবা দরকার ছিল।

মুনাফা করেও ডিভিডেন্ড না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া ৭ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- একমি পেস্টিসাইডস, আরামিট সিমেন্ট, প্রাইম ফাইন্যান্স, ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোড, মুন্নু ফেব্রিক্স, ফু-ওয়াং ফুডস ও জেনারেশন নেক্সট। এরমধ্যে একমি পেস্টিসাইডসের সদ্য শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয়েছে।

এই ৭ কোম্পানির মধ্যে একমি পেস্টিসাইডসের ‘নো’ ডিভিডেন্ড বিনিয়োগকারীদেরকে অবাক করেছে। নতুন কোম্পানি হিসেবে ১ম বছরেই ‘নো’ ডিভিডেন্ডের নজিড় গড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অথচ নতুন কোম্পানির কাছে ডিভিডেন্ড প্রাপ্তি বেশি থাকে।

দীর্ঘদিন ধরে ডিভিডেন্ড দেয় না এমন সব কোম্পানিও এ বছর কোন পরিবর্তন আসেনি। এবছরও বড় লোকসান করেছে শ্যামপুর সুগার মিলস, জিল বাংলা সুগার মিলস ও জুট স্পিনার্স। একইভাবে ‘নো’ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। তবে এ বছর অস্বাভাবিক হারে লোকসান হয়েছে আরএসআরএম স্টিলের। এ কোম্পানিটির আগের বছর শেয়ারপ্রতি ১.০৫ টাকা মুনাফা হলেও ২০২০-২১ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ৩.৭৫ টাকা লোকসান হয়েছে। অথচ একই খাতের অন্যসব কোম্পানির মুনাফা ও ডিভিডেন্ড বেড়েছে।

৩৮ কোম্পানি গড় (১১.৫৭) মোট (১৩৬১.৬৭) কোটি টাকা মোট (৩৪১৩.৬১) কোটি টাকা

ঢাকা/এমটি 

শেয়ার করুন

error: Content is protected ! Please Don't Try!

ডিভিডেন্ড দেবে না ৩৮ কোম্পানি

আপডেট: ০১:০২:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ নভেম্বর ২০২১

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কঠোর অবস্থানের মধ্যেই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৮ কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ২০২০-২১ অর্থবছরের ব্যবসায় শেয়ারহোল্ডারদের কোন ডিভিডেন্ড না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরমধ্যে মুনাফা করা ৭ কোম্পানিও রয়েছে। সম্প্রতি পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হওয়া (২০ নভেম্বর পর্যন্ত) কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩৮টির পর্ষদ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউট

অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বাধীন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর ‘নো’ ডিভিডেন্ড দেওয়া কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থা নেওয়া শুরু করে। এরইমধ্যে অনেক কোম্পানির কর্তৃপক্ষকে ডিভিডেন্ড না দেওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে তলবও করেছে।

ডিভিডেন্ড ঘোষণা না করা ৩৮টি কোম্পানির মধ্যে ৭টির মুনাফা হয়েছে। তবে ৩৮ কোম্পানির নিট ১ হাজার ৩৬১ কোটি ৬৭ লাখ টাকার লোকসান হয়েছে। যে কোম্পানিগুলোর বিগত বছরে লোকসানের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৪১৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এর পেছনে অবশ্য ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের অস্বাভাবিক ২ হাজার ৮০২ কোটি ৬৮ লাখ টাকার লোকসান প্রধান কারন হিসেবে ছিল। যে কোম্পানিটির এবার লোকসান ৬৯৪ কোটি ২৭ লাখ টাকায় নেমে এসেছে।

ডিভিডেন্ড ঘোষণা না করা কোম্পানিগুলোর বিষয়ে বিএসইসির কমিশনার ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ বিজনেস আওয়ারকে বলেন, আমরা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এ বিষয়ে কঠোর। এজন্য ব্যাখ্যা চেয়ে ‘নো’ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা কোম্পানিগুলোকে তলব করা হচ্ছে। যারা সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারবে না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

করোনা মহামারিতে ব্যবসায় ধসের কারনে কিছু কোম্পানি গত বছর প্রথমবারের মতো ডিভিডেন্ড না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। যাতে করে গত বছর জুন ক্লোজিং ৩৩ কোম্পানির পর্ষদ কোন ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে না। তবে এ বছর সংখ্যাটি বেড়ে ৩৮এ দাড়িঁয়েছে।

বিনিয়োগকারীরা পর্ষদের ‘নো’ ডিভিডেন্ডকে মানতে পারছেন না। তাদের মতে, এর আগে নিয়মিত মুনাফার একাংশ দিয়ে রিজার্ভ বাড়ানো হয়েছে, তাহলে এখন বিনিয়োগকারীদের দূরাবস্থার সময় রিজার্ভ থেকে ডিভিডেন্ড দিতে পারবে না কেনো। করোনায় শুধু কোম্পানির ব্যবসা নয়, বিনিয়োগকারীদের অবস্থাও শোচনীয়। এই দিকটাও কোম্পানিগুলোর পর্ষদের ভাবা দরকার ছিল।

মুনাফা করেও ডিভিডেন্ড না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া ৭ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- একমি পেস্টিসাইডস, আরামিট সিমেন্ট, প্রাইম ফাইন্যান্স, ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোড, মুন্নু ফেব্রিক্স, ফু-ওয়াং ফুডস ও জেনারেশন নেক্সট। এরমধ্যে একমি পেস্টিসাইডসের সদ্য শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয়েছে।

এই ৭ কোম্পানির মধ্যে একমি পেস্টিসাইডসের ‘নো’ ডিভিডেন্ড বিনিয়োগকারীদেরকে অবাক করেছে। নতুন কোম্পানি হিসেবে ১ম বছরেই ‘নো’ ডিভিডেন্ডের নজিড় গড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অথচ নতুন কোম্পানির কাছে ডিভিডেন্ড প্রাপ্তি বেশি থাকে।

দীর্ঘদিন ধরে ডিভিডেন্ড দেয় না এমন সব কোম্পানিও এ বছর কোন পরিবর্তন আসেনি। এবছরও বড় লোকসান করেছে শ্যামপুর সুগার মিলস, জিল বাংলা সুগার মিলস ও জুট স্পিনার্স। একইভাবে ‘নো’ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। তবে এ বছর অস্বাভাবিক হারে লোকসান হয়েছে আরএসআরএম স্টিলের। এ কোম্পানিটির আগের বছর শেয়ারপ্রতি ১.০৫ টাকা মুনাফা হলেও ২০২০-২১ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ৩.৭৫ টাকা লোকসান হয়েছে। অথচ একই খাতের অন্যসব কোম্পানির মুনাফা ও ডিভিডেন্ড বেড়েছে।

৩৮ কোম্পানি গড় (১১.৫৭) মোট (১৩৬১.৬৭) কোটি টাকা মোট (৩৪১৩.৬১) কোটি টাকা

ঢাকা/এমটি