দেশ গড়ার পরিকল্পনা শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
- আপডেট: ০৫:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১০২৪২ বার দেখা হয়েছে
দেশ গড়ার পরিকল্পনা শীর্ষক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা–৩ আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী, দেশবরেণ্য কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন।
কর্মশালায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ভাবনা, দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং রাষ্ট্রগঠনে তরুণদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন বলেন, একটি শক্তিশালী ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ এবং সচেতন নাগরিক ভূমিকার কোনো বিকল্প নেই। তিনি দেশ ও মানুষের কল্যাণে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার জন্য অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আহ্বান জানান। কর্মশালায় বিভিন্ন পর্যায়ের ছাত্রদলের নেতাকর্মী, সংগঠক ও প্রশিক্ষণার্থীরা অংশ নেন।
আলোচনায় কৃষি কার্ড নিয়ে বক্তব্য রাখেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো তানভীর আনজুম খান। তিনি বলেন ,

৩১ দফা বাস্তবায়নে দরকার দূরদৃষ্টি, সাহস ও ত্যাগ— যা ছাত্রদলের রক্তে-মজ্জায় রয়েছে। তাই এই দায়িত্ব দেওয়া মানে আস্থা নয়, ইতিহাসের স্বীকৃতি। এই কর্মশালা শুধু পরিকল্পনা নয়, এটি আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রস্তুতি— আর সেই যাত্রার অগ্রভাগে ছাত্রদল।
তিনি আরও বলেন যে কৃষক ভোরের আলো ফোটার আগেই মাঠে নামেন, যে কৃষক রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে আমাদের জন্য খাদ্য উৎপাদন করেন, যে কৃষকের ঘামে ভিজে ওঠে সোনালি ধান— সেই কৃষক যদি অবহেলিত থাকেন, তাহলে কোনো উন্নয়নই টেকসই হতে পারে না।
আজ আমাদের দেশের কৃষক নানা সংকটে জর্জরিত— সারের দাম বেশি, বীজ ভেজাল, সেচ ব্যয়বহুল, ফসলের ন্যায্য দাম নেই, দুর্যোগ এলে সর্বস্ব হারানোর ভয়।
এই বাস্তবতা বদলাতেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিয়ে এসেছে একটি সুস্পষ্ট, বাস্তবভিত্তিক ও কৃষকবান্ধব পরিকল্পনা—
— “কৃষকের ভাগ্য উন্নয়ন”। এই পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু হলো— নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য কৃষক কার্ড। এই কৃষক কার্ড কোনো কাগজের টুকরো নয়, এটি হলো কৃষকের পরিচয়, অধিকার ও মর্যাদার দলিল।
এই কার্ডের মাধ্যমে— • কৃষক সরাসরি ন্যায্য মূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক পাবেন • সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা আর দালালের হাতে যাবে না • প্রকৃত কৃষকই পাবে প্রকৃত সুবিধা
এটাই বিএনপি’র সাথে অন্যান্য দলের রাজনীতির পার্থক্য— যেখানে বিএনপির লক্ষ্য মানুষের হাতে অধিকার তুলে দেওয়া।
বিএনপি বিশ্বাস করে— কৃষককে শক্তিশালী করতে না পারলে দেশ শক্তিশালী হয় না। তাই বিএনপি নিশ্চিত করতে চায়— • স্বল্পমূল্যে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি • কম ব্যয়ে ও সহজলভ্য সেচ সুবিধা • উৎপাদন খরচ কমিয়ে কৃষকের লাভ বৃদ্ধি
যাতে কৃষক আর ঋণের বোঝায় জর্জরিত না হন, যাতে কৃষক মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারেন। আর এই কৃষি কার্ডের মাধ্যমে যখন কৃষক ঋণ নেবেন— তখন তা হবে সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, সাথে থাকবে কৃষি বীমা সুবিধা, যাতে বন্যা, খরা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষকের জীবন ধ্বংস না করতে পারে। বিএনপি চায়— কৃষকের ফসল যেন মাঠে পচে না যায়, কৃষকের ঘাম যেন পানির দামে বিক্রি না হয়। তাই নিশ্চিত করা হবে— • কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য • ন্যায্য দামে কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ • বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আজকের যুগে তথ্যই শক্তি। এই শক্তি কৃষকের হাতে তুলে দিতেই— • মোবাইলে আবহাওয়ার আগাম তথ্য •বাজারদরের আপডেট • ফসলের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা এবং সেই সাথে— • কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ • আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার কারণ বিএনপি বিশ্বাস করে— জ্ঞানসম্পন্ন কৃষকই গড়বে আগামীর বাংলাদেশ। এই পরিকল্পনা শুধু ধান-গম চাষিদের জন্য নয়— মাছ চাষি প্রাণিসম্পদ খামারি গ্রামীণ উৎপাদনের সাথে যুক্ত সবাই সবাই কৃষক কার্ডের আওতায় আসবেন। বন্ধুগণ, এটি কোনো ফাঁকা প্রতিশ্রুতি নয়। এটি একটি দর্শন— যেখানে গ্রাম হবে শক্তিশালী, কৃষক হবে সম্মানিত, বাংলাদেশ হবে স্বনির্ভর। আজ আমাদের সামনে একটি সিদ্ধান্ত— ভোট দেবো কাকে , যারা কিনা কৃষককে শুধু ভোটের সময় মনে রাখে? নাকি ভোট দেবো এমন শক্তিকে, যারা কৃষককে উন্নয়নের কেন্দ্রে রাখে? কৃষকের পাশে দাঁড়ানোর প্রতীক, গ্রামের উন্নয়নের প্রতীক, বাংলাদেশের আত্মমর্যাদার প্রতীক হলো— ধানের শীষ তাই আসুন— কৃষকের জন্য, দেশের জন্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য— একসাথে, ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষে ভোট দিই।
ঢাকা/এসএইচ







































