০৯:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬

পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে কোনো চাপ মানা হবে না: গভর্নর

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ১০:৪১:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • / ১০২২৩ বার দেখা হয়েছে

রাজনৈতিক চাপে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়া বন্ধ হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন মোস্তাকুর রহমান। এ নিয়ে কোনো চাপ এলে তা বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে বলেছেন তিনি। গভর্নর বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক সেটা মোকাবিলা করবে। পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। জনগণের টাকা চুরি হয়েছে। এর দায় সবার আছে। পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে এমডিদের সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।’

ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে গতকাল মঙ্গলবার এক বৈঠকে এ কথা বলেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। পাচার হওয়া অর্থ ফেরতের অগ্রগতি ও করণীয় বিষয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে ৩৭টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অংশ নেন। বৈঠকে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের বিষয়ে গভর্নরের উপদেষ্টা ফরহান চৌধুরী ও বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)–এর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, বর্তমানে ৩৭টি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৪ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকা। এসব খেলাপি ঋণের বড় অংশ পাচার হয়ে গেছে। তাই সব এমডিদের পাচার হওয়া অর্থ ফেরতে উদ্যোগ জোরদার করতে হবে।

সভায় জানানো হয়, পাচার হওয়া অর্থ ফেরতে ব্যাংকগুলোকে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অপ্রকাশযোগ্য চুক্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ৬০ শতাংশ ব্যাংক এটি নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করেছে। বাকি ব্যাংকগুলোকে দ্রুত এই চুক্তি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর টাকা ফেরতে বাণিজ্যিক চুক্তি করতে হবে। টাকা ফেরত আনতে পারলে তার ভিত্তিতে মাশুল পাবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো।

কেন্দ্রীয় জানায়, অনেক ব্যাংক নির্বাচনের কারণে এই উদ্যোগের গতি কমিয়ে এনেছিল। নতুন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনা। তাই এই উদ্যোগে কোনোরকম শৈথিল্য দেখা গেলে এমডিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। অর্থ পাচারের পেছনে সবার দায় আছে।

ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশ থেকে বিপুলে পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে। পাচারের অর্থ ফেরত আনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নানা উদ্যোগ নেয়। সেই উদ্যোগ চলমান থাকবে বলে সভায় জানানো হয়।

জানতে চাইলে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)–এর চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংক–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘বিদেশে পাচার হওয়া টাকা দেশে ফেরত আনার প্রচেষ্টা অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। আজকে বুঝলাম, কাজ এগিয়েছে কিছুটা। বিশেষ করে ইউসিবিএল ব্যাংক এগিয়েছে। কিন্তু দেশে একই প্রতিষ্ঠানকে নীতিসহায়তা দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে টিকিয়ে রাখলে ও বিদেশের আদালতে তারই সম্পদ জব্দ করার জন্য মামলা লড়লে এই বিষয়টাকে উন্নত দেশের বিচারিক কর্তৃপক্ষ কীভাবে দেখবে, তা নিয়ে আমার সংশয় আছে।’

মাসরুর আরেফিন আরও বলেন, ‘একটা ব্যাংক কতটুকু তথ্য বিদেশি আইনজীবীকে দিচ্ছে, কী দেওয়া উচিত আর কী উচিত নয়, কতটুকু দিলে সেই ব্যাংকের কর্তৃপক্ষই আইনি প্যাঁচে জড়িয়ে যেতে পারে, এসব বুঝে স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। আমি সভায় বিষয়টা জানিয়েছি।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, প্রতারণা, জালিয়াতি, মুদ্রা পাচার, কর ও শুল্ক ফাঁকি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে ১১টি তদন্ত দল গঠন করা হয়। পরে আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের অর্থ পাচারের প্রমাণ মিলে।

ঢাকা/এসএইচ

শেয়ার করুন

পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে কোনো চাপ মানা হবে না: গভর্নর

আপডেট: ১০:৪১:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

রাজনৈতিক চাপে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়া বন্ধ হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন মোস্তাকুর রহমান। এ নিয়ে কোনো চাপ এলে তা বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে বলেছেন তিনি। গভর্নর বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক সেটা মোকাবিলা করবে। পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। জনগণের টাকা চুরি হয়েছে। এর দায় সবার আছে। পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে এমডিদের সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।’

ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে গতকাল মঙ্গলবার এক বৈঠকে এ কথা বলেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। পাচার হওয়া অর্থ ফেরতের অগ্রগতি ও করণীয় বিষয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে ৩৭টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অংশ নেন। বৈঠকে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের বিষয়ে গভর্নরের উপদেষ্টা ফরহান চৌধুরী ও বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)–এর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, বর্তমানে ৩৭টি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৪ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকা। এসব খেলাপি ঋণের বড় অংশ পাচার হয়ে গেছে। তাই সব এমডিদের পাচার হওয়া অর্থ ফেরতে উদ্যোগ জোরদার করতে হবে।

সভায় জানানো হয়, পাচার হওয়া অর্থ ফেরতে ব্যাংকগুলোকে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অপ্রকাশযোগ্য চুক্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ৬০ শতাংশ ব্যাংক এটি নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করেছে। বাকি ব্যাংকগুলোকে দ্রুত এই চুক্তি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর টাকা ফেরতে বাণিজ্যিক চুক্তি করতে হবে। টাকা ফেরত আনতে পারলে তার ভিত্তিতে মাশুল পাবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো।

কেন্দ্রীয় জানায়, অনেক ব্যাংক নির্বাচনের কারণে এই উদ্যোগের গতি কমিয়ে এনেছিল। নতুন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনা। তাই এই উদ্যোগে কোনোরকম শৈথিল্য দেখা গেলে এমডিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। অর্থ পাচারের পেছনে সবার দায় আছে।

ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশ থেকে বিপুলে পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে। পাচারের অর্থ ফেরত আনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নানা উদ্যোগ নেয়। সেই উদ্যোগ চলমান থাকবে বলে সভায় জানানো হয়।

জানতে চাইলে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)–এর চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংক–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘বিদেশে পাচার হওয়া টাকা দেশে ফেরত আনার প্রচেষ্টা অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। আজকে বুঝলাম, কাজ এগিয়েছে কিছুটা। বিশেষ করে ইউসিবিএল ব্যাংক এগিয়েছে। কিন্তু দেশে একই প্রতিষ্ঠানকে নীতিসহায়তা দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে টিকিয়ে রাখলে ও বিদেশের আদালতে তারই সম্পদ জব্দ করার জন্য মামলা লড়লে এই বিষয়টাকে উন্নত দেশের বিচারিক কর্তৃপক্ষ কীভাবে দেখবে, তা নিয়ে আমার সংশয় আছে।’

মাসরুর আরেফিন আরও বলেন, ‘একটা ব্যাংক কতটুকু তথ্য বিদেশি আইনজীবীকে দিচ্ছে, কী দেওয়া উচিত আর কী উচিত নয়, কতটুকু দিলে সেই ব্যাংকের কর্তৃপক্ষই আইনি প্যাঁচে জড়িয়ে যেতে পারে, এসব বুঝে স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। আমি সভায় বিষয়টা জানিয়েছি।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, প্রতারণা, জালিয়াতি, মুদ্রা পাচার, কর ও শুল্ক ফাঁকি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে ১১টি তদন্ত দল গঠন করা হয়। পরে আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের অর্থ পাচারের প্রমাণ মিলে।

ঢাকা/এসএইচ