০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রস্রাব দীর্ঘ সময় চেপে রাখলে যেসব ক্ষতি হয়

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৬:৫১:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪
  • / ১০৩৯৯ বার দেখা হয়েছে

আমাদের মধ্যে অনেকেরই দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখার অভ্যাস আছে। বিশেষ করে বাইরে বের হলে নানা অজুহাতে এমনটা করেন অনেকেই। মিটিংয়ে দেরি হয়ে গেছে কিংবা বাথরুম নোংরা- এ ধরনের নানা অজুহাত দিয়ে প্রস্রাব আটকে রাখার অভ্যাস আপনারও আছে কি? এটি কিন্তু মোটেও ভালো কোনো অভ্যাস নয়। বরং দীর্ঘ সময় প্রস্রাব আটকে রাখার এই অভ্যাসের ফলে শরীরে দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা, এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

প্রস্রাব করাটা হলো কিডনি, মূত্রাশয় এবং স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে প্রস্রাব সঞ্চয় এবং মুক্তির জন্য একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা। কিডনি প্রস্রাব তৈরি করতে রক্ত থেকে বর্জ্য পণ্য, অতিরিক্ত পানি এবং বিষাক্ত পদার্থগুলোকে ফিল্টার করে। এটি ইউরেটার নামক দুটি পাতলা টিউবের মাধ্যমে মূত্রাশয় পর্যন্ত যায়। মূত্রাশয় একটি পেশীবহুল অঙ্গ, যা প্রস্রাবে পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রসারিত হয় এবং গড়ে ৪০০-৬০০ মিলিলিটার পর্যন্ত ধারণ করতে পারে।

যখন মূত্রাশয়টি পূর্ণ হয়, তখন এর দেয়ালের প্রসারিত রিসেপ্টরগুলো মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায় এবং আপনি প্রস্রাব করার তাগিদ অনুভব করেন। প্রস্রাব করার সময় মস্তিষ্ক মূত্রাশয়ের পেশীগুলিকে সংকুচিত হতে এবং স্ফিঙ্কটার পেশীগুলোকে শিথিল হওয়ার সংকেত দেয়, তখন মূত্রনালী দিয়ে প্রস্রাব প্রবাহিত হয়। যখন আপনি প্রস্রাব করতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন মস্তিষ্ক স্ফিঙ্কটার পেশীগুলোকে শক্ত করার সংকেত দেয় এবং প্রস্রাব ভেতরে থাকে।

বেশিক্ষণ প্রস্রাব আটকে রাখার ঝুঁকি কী?

যদিও মূত্রাশয় প্রায় এক পিন্ট প্রস্রাব ধরে রাখতে পারে, তবে মূত্রাশয় প্রায় অর্ধেক পূর্ণ হলেই সাধারণত প্রস্রাব করার তাগিদ শুরু হয়। বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে, মাঝে মাঝে প্রস্রাব আটকে রাখা তেমন কোনো বড় সমস্যা সৃষ্টি করে না। তবে আপনি যদি এটিকে অভ্যাস করে তোলেন তবে তার পরিণতি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুন: পিরিয়ড ক্র্যাম্প দূর করার ঘরোয়া উপায়

প্রসারিত মূত্রাশয়

প্রস্রাব বেশিক্ষণ ধরে রাখলে তা মূত্রাশয়ের পেশীগুলোকে দুর্বল করে দিতে পারে। কারণ প্রস্রাব ধরে রাখলে মূত্রাশয় তার স্বাভাবিক ক্ষমতার বাইরে প্রসারিত হয়। ধীরে ধীরে বারবার স্ট্রেচিং পেশীগুলোকে দুর্বল করে দিতে পারে, তখন আপনার জন্য মূত্রাশয় সম্পূর্ণরূপে খালি করা এবং প্রস্রাব ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়।

ইউটিআই এর ঝুঁকি

দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্রাব রাখা মূত্রনালীর সংক্রমণের (ইউটিআই) ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এর কারণ হলো, প্রস্রাবের ব্যাকটেরিয়া আপনার মূত্রাশয়ে সংখ্যাবৃদ্ধি করার জন্য বেশি সময় থাকে। ইউটিআই প্রস্রাব করার সময় জ্বালাপোড়া, শ্রোণীতে ব্যথা এবং ঘন ঘন প্রস্রাব করতে পারে।

কিডনির ক্ষতি

দীর্ঘ সময় প্রস্রাব ধরে রাখলে তা কিডনিতে ব্যাক আপ হতে পারে, যা ধীরে ধীরে সংক্রমণ বা কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। এই অবস্থা ভেসিকোরেটেরাল রিফ্লাক্স নামে পরিচিত। তাই কিডনিকে সুস্থ রাখতে চাইলে এ ধরনের অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।

ঢাকা/এসএইচ

শেয়ার করুন

error: Content is protected ! Please Don't Try!

প্রস্রাব দীর্ঘ সময় চেপে রাখলে যেসব ক্ষতি হয়

আপডেট: ০৬:৫১:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪

আমাদের মধ্যে অনেকেরই দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখার অভ্যাস আছে। বিশেষ করে বাইরে বের হলে নানা অজুহাতে এমনটা করেন অনেকেই। মিটিংয়ে দেরি হয়ে গেছে কিংবা বাথরুম নোংরা- এ ধরনের নানা অজুহাত দিয়ে প্রস্রাব আটকে রাখার অভ্যাস আপনারও আছে কি? এটি কিন্তু মোটেও ভালো কোনো অভ্যাস নয়। বরং দীর্ঘ সময় প্রস্রাব আটকে রাখার এই অভ্যাসের ফলে শরীরে দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা, এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

প্রস্রাব করাটা হলো কিডনি, মূত্রাশয় এবং স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে প্রস্রাব সঞ্চয় এবং মুক্তির জন্য একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা। কিডনি প্রস্রাব তৈরি করতে রক্ত থেকে বর্জ্য পণ্য, অতিরিক্ত পানি এবং বিষাক্ত পদার্থগুলোকে ফিল্টার করে। এটি ইউরেটার নামক দুটি পাতলা টিউবের মাধ্যমে মূত্রাশয় পর্যন্ত যায়। মূত্রাশয় একটি পেশীবহুল অঙ্গ, যা প্রস্রাবে পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রসারিত হয় এবং গড়ে ৪০০-৬০০ মিলিলিটার পর্যন্ত ধারণ করতে পারে।

যখন মূত্রাশয়টি পূর্ণ হয়, তখন এর দেয়ালের প্রসারিত রিসেপ্টরগুলো মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায় এবং আপনি প্রস্রাব করার তাগিদ অনুভব করেন। প্রস্রাব করার সময় মস্তিষ্ক মূত্রাশয়ের পেশীগুলিকে সংকুচিত হতে এবং স্ফিঙ্কটার পেশীগুলোকে শিথিল হওয়ার সংকেত দেয়, তখন মূত্রনালী দিয়ে প্রস্রাব প্রবাহিত হয়। যখন আপনি প্রস্রাব করতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন মস্তিষ্ক স্ফিঙ্কটার পেশীগুলোকে শক্ত করার সংকেত দেয় এবং প্রস্রাব ভেতরে থাকে।

বেশিক্ষণ প্রস্রাব আটকে রাখার ঝুঁকি কী?

যদিও মূত্রাশয় প্রায় এক পিন্ট প্রস্রাব ধরে রাখতে পারে, তবে মূত্রাশয় প্রায় অর্ধেক পূর্ণ হলেই সাধারণত প্রস্রাব করার তাগিদ শুরু হয়। বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে, মাঝে মাঝে প্রস্রাব আটকে রাখা তেমন কোনো বড় সমস্যা সৃষ্টি করে না। তবে আপনি যদি এটিকে অভ্যাস করে তোলেন তবে তার পরিণতি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুন: পিরিয়ড ক্র্যাম্প দূর করার ঘরোয়া উপায়

প্রসারিত মূত্রাশয়

প্রস্রাব বেশিক্ষণ ধরে রাখলে তা মূত্রাশয়ের পেশীগুলোকে দুর্বল করে দিতে পারে। কারণ প্রস্রাব ধরে রাখলে মূত্রাশয় তার স্বাভাবিক ক্ষমতার বাইরে প্রসারিত হয়। ধীরে ধীরে বারবার স্ট্রেচিং পেশীগুলোকে দুর্বল করে দিতে পারে, তখন আপনার জন্য মূত্রাশয় সম্পূর্ণরূপে খালি করা এবং প্রস্রাব ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়।

ইউটিআই এর ঝুঁকি

দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্রাব রাখা মূত্রনালীর সংক্রমণের (ইউটিআই) ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এর কারণ হলো, প্রস্রাবের ব্যাকটেরিয়া আপনার মূত্রাশয়ে সংখ্যাবৃদ্ধি করার জন্য বেশি সময় থাকে। ইউটিআই প্রস্রাব করার সময় জ্বালাপোড়া, শ্রোণীতে ব্যথা এবং ঘন ঘন প্রস্রাব করতে পারে।

কিডনির ক্ষতি

দীর্ঘ সময় প্রস্রাব ধরে রাখলে তা কিডনিতে ব্যাক আপ হতে পারে, যা ধীরে ধীরে সংক্রমণ বা কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। এই অবস্থা ভেসিকোরেটেরাল রিফ্লাক্স নামে পরিচিত। তাই কিডনিকে সুস্থ রাখতে চাইলে এ ধরনের অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।

ঢাকা/এসএইচ