০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে দ্রুত লাভজনক করতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক: গভর্নর

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৬:৫৭:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১০২৩৫ বার দেখা হয়েছে

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে দ্রুত আস্থার জায়গায় নিয়ে গিয়ে এক থেকে দুই বছরের মধ্যে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘নতুন নতুন গ্রাহক যুক্ত করাই আমাদের লক্ষ্য। গত দুদিনে নতুন করে ৪৪ কোটি টাকা আমানত এসেছে। এসব নতুন আমানতকারী ইচ্ছামতো যে কোনো সময় টাকা তুলতে পারবেন। তারা বাজারে চলমান ইসলামী ব্যাংকিং রেট অনুযায়ী প্রতিযোগিতামূলক মুনাফাও পাবেন।”

গভর্নর বলেন, দুদিনে পাঁচটি ব্যাংকে মোট ৪৪ কোটি টাকার বেশি নতুন আমানত জমা পড়েছে। এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংকে ২৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা, ইউনিয়ন ব্যাংকে ১৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা, এসআইবিএলে ৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ৪৮ লাখ টাকা এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে ৬২ লাখ টাকা জমা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের শঙ্কা ও ভয়ভীতি ছিল। দেশ-বিদেশের অনেক পরামর্শক নানা আশঙ্কার কথা বলেছিলেন। কিন্তু আমরা সেগুলো অতিক্রম করতে পেরেছি। আমাদের গল্পটা ইতিবাচক, এবং যে ডাটা পাচ্ছি, তা আমাদের আস্থা আরও বাড়াচ্ছে।’

ব্যাংকটির সামনে তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো, রপ্তানি ও আমদানি কার্যক্রমে গতি ফেরানো এবং ইউটিলিটি বিল পরিশোধসহ সব ধরনের ডিজিটাল সেবা নির্বিঘ্ন করা। একই সঙ্গে খরচ কমানো ও আয় বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে।

গভর্নর আরও বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক রাষ্ট্রীয় মালিকানায় থাকলেও পরিচালিত হবে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়। “এটি কোনো সরকারি পে-স্কেলে চলবে না। নতুন ও বিদ্যমান কর্মকর্তাদের বেতন হবে বেসরকারি ব্যাংকিং কাঠামোর আওতায়। পাঁচটি ব্যাংকের ভিন্ন ভিন্ন বেতন কাঠামো একীভূত করে একটি ইউনিফাইড স্কেলে নেওয়া হবে।”

ফরেনসিক অডিট প্রসঙ্গে গভর্নর জানান, পাঁচটি ব্যাংককেই ফরেনসিক অডিটের আওতায় আনা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কোথায় কীভাবে টাকা গেছে এবং কারা দায়ী— তা চিহ্নিত করা হবে। অপরাধের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে, তিনি কর্মকর্তা হোন বা উদ্যোক্তা— কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে তথ্য-প্রমাণ সরবরাহ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর গণমাধ্যমের ভূমিকাকে ইতিবাচক উল্লেখ করে বলেন, ‘গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরিতে মিডিয়ার সহযোগিতা আমরা পেয়েছি এবং ভবিষ্যতেও তা প্রত্যাশা করি।’

তিনি আরও জানান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যেই তা সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঢাকা/এসএইচ

শেয়ার করুন

error: Content is protected ! Please Don't Try!

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে দ্রুত লাভজনক করতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক: গভর্নর

আপডেট: ০৬:৫৭:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে দ্রুত আস্থার জায়গায় নিয়ে গিয়ে এক থেকে দুই বছরের মধ্যে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘নতুন নতুন গ্রাহক যুক্ত করাই আমাদের লক্ষ্য। গত দুদিনে নতুন করে ৪৪ কোটি টাকা আমানত এসেছে। এসব নতুন আমানতকারী ইচ্ছামতো যে কোনো সময় টাকা তুলতে পারবেন। তারা বাজারে চলমান ইসলামী ব্যাংকিং রেট অনুযায়ী প্রতিযোগিতামূলক মুনাফাও পাবেন।”

গভর্নর বলেন, দুদিনে পাঁচটি ব্যাংকে মোট ৪৪ কোটি টাকার বেশি নতুন আমানত জমা পড়েছে। এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংকে ২৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা, ইউনিয়ন ব্যাংকে ১৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা, এসআইবিএলে ৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ৪৮ লাখ টাকা এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে ৬২ লাখ টাকা জমা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের শঙ্কা ও ভয়ভীতি ছিল। দেশ-বিদেশের অনেক পরামর্শক নানা আশঙ্কার কথা বলেছিলেন। কিন্তু আমরা সেগুলো অতিক্রম করতে পেরেছি। আমাদের গল্পটা ইতিবাচক, এবং যে ডাটা পাচ্ছি, তা আমাদের আস্থা আরও বাড়াচ্ছে।’

ব্যাংকটির সামনে তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো, রপ্তানি ও আমদানি কার্যক্রমে গতি ফেরানো এবং ইউটিলিটি বিল পরিশোধসহ সব ধরনের ডিজিটাল সেবা নির্বিঘ্ন করা। একই সঙ্গে খরচ কমানো ও আয় বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে।

গভর্নর আরও বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক রাষ্ট্রীয় মালিকানায় থাকলেও পরিচালিত হবে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়। “এটি কোনো সরকারি পে-স্কেলে চলবে না। নতুন ও বিদ্যমান কর্মকর্তাদের বেতন হবে বেসরকারি ব্যাংকিং কাঠামোর আওতায়। পাঁচটি ব্যাংকের ভিন্ন ভিন্ন বেতন কাঠামো একীভূত করে একটি ইউনিফাইড স্কেলে নেওয়া হবে।”

ফরেনসিক অডিট প্রসঙ্গে গভর্নর জানান, পাঁচটি ব্যাংককেই ফরেনসিক অডিটের আওতায় আনা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কোথায় কীভাবে টাকা গেছে এবং কারা দায়ী— তা চিহ্নিত করা হবে। অপরাধের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে, তিনি কর্মকর্তা হোন বা উদ্যোক্তা— কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে তথ্য-প্রমাণ সরবরাহ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর গণমাধ্যমের ভূমিকাকে ইতিবাচক উল্লেখ করে বলেন, ‘গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরিতে মিডিয়ার সহযোগিতা আমরা পেয়েছি এবং ভবিষ্যতেও তা প্রত্যাশা করি।’

তিনি আরও জানান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যেই তা সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঢাকা/এসএইচ