০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

১৪ বছর পর আরপিও তহবিল ব্যয় করল বিএসসি

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ১২:০৫:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১০৩০৪ বার দেখা হয়েছে

প্রায় ১৪ বছর পর আরপিও তহবিলের পুরো অর্থ ব্যয় করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। পুঁজিবাজার থেকে ২০১১ সালে রিপিট পাবলিক অফার (আরপিও) ছাড়ার মাধ্যমে ৩১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছিল রাষ্ট্রায়ত্ত জাহাজ পরিবহন সংস্থাটি। ২০২৫ সালের অক্টোবরে এসে সেই আরপিও তহবিলের পুরো অর্থ ব্যয় সম্পন্ন করেছে বিএসসি।

এ সময়ের মধ্যে আরপিও থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যাংকে আমানত হিসেবে সংরক্ষণ করে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সুদ আয় করেছে বিএসসি। সংস্থাটির কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ব্যাংকে ৬ থেকে ১০ শতাংশ সুদহারে আমানত রেখে প্রায় ২৩৪ কোটি টাকারও বেশি সুদ আয় হয়েছে, যা জাহাজ পরিচালনার ব্যয় নির্বাহে ব্যবহার করা হয়েছে।

আরপিও তহবিল ব্যয়সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার আরপিও তহবিলের মধ্যে ২৯ কোটি ২৬ লাখ ৫৬ হাজার ৭০ টাকা অব্যবহৃত ছিল। পরবর্তীতে অক্টোবরে এসে অবশিষ্ট অর্থসহ পুরো তহবিল ব্যয় সম্পন্ন করা হয়।

ব্যয়ের খাতভিত্তিক বিবরণ অনুযায়ী, ছয়টি জাহাজ ক্রয় প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ২৩৬ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার ২৩ টাকা। এছাড়া ভবন নির্মাণে ৫৯ কোটি ৩৫ লাখ ৯ হাজার টাকা এবং আরপিও ইস্যু সংক্রান্ত খরচ বাবদ ১৭ কোটি ৯৩ লাখ ৬০ হাজার ৯৭৭ টাকা ব্যয় করেছে সংস্থাটি। একই সময়ে ব্যাংকে আমানত রেখে সুদ হিসেবে অর্জিত হয়েছে ২৩৪ কোটি ৫৩ লাখ ২১ হাজার ৫০ টাকা।

কোম্পানি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী আরপিও থেকে সংগৃহীত অর্থ মূলধনি খাতে ব্যয় করা বাধ্যতামূলক হলেও সুদ থেকে অর্জিত অর্থ কোন খাতে ব্যয় হবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। সে কারণে সুদ আয়ের অর্থ জাহাজ পরিচালনা ব্যয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি আসন্ন বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) বিনিয়োগকারীদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

এদিকে, সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪–২৫ অর্থবছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের ২৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার সুপারিশ করেছে বিএসসির পরিচালনা পর্ষদ। আলোচ্য অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা ১০ পয়সা, যা আগের বছরে ছিল ১৬ টাকা ৩৭ পয়সা। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪ টাকা ৮৪ পয়সা।

ঘোষিত ডিভিডেন্ডসহ অন্যান্য অ্যাজেন্ডায় বিনিয়োগকারীদের সম্মতি নিতে আগামী ২২ ডিসেম্বর এজিএম আহ্বান করেছে বিএসসি।

ঢাকা/এসএইচ

শেয়ার করুন

error: Content is protected ! Please Don't Try!

১৪ বছর পর আরপিও তহবিল ব্যয় করল বিএসসি

আপডেট: ১২:০৫:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

প্রায় ১৪ বছর পর আরপিও তহবিলের পুরো অর্থ ব্যয় করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। পুঁজিবাজার থেকে ২০১১ সালে রিপিট পাবলিক অফার (আরপিও) ছাড়ার মাধ্যমে ৩১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছিল রাষ্ট্রায়ত্ত জাহাজ পরিবহন সংস্থাটি। ২০২৫ সালের অক্টোবরে এসে সেই আরপিও তহবিলের পুরো অর্থ ব্যয় সম্পন্ন করেছে বিএসসি।

এ সময়ের মধ্যে আরপিও থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যাংকে আমানত হিসেবে সংরক্ষণ করে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সুদ আয় করেছে বিএসসি। সংস্থাটির কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ব্যাংকে ৬ থেকে ১০ শতাংশ সুদহারে আমানত রেখে প্রায় ২৩৪ কোটি টাকারও বেশি সুদ আয় হয়েছে, যা জাহাজ পরিচালনার ব্যয় নির্বাহে ব্যবহার করা হয়েছে।

আরপিও তহবিল ব্যয়সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার আরপিও তহবিলের মধ্যে ২৯ কোটি ২৬ লাখ ৫৬ হাজার ৭০ টাকা অব্যবহৃত ছিল। পরবর্তীতে অক্টোবরে এসে অবশিষ্ট অর্থসহ পুরো তহবিল ব্যয় সম্পন্ন করা হয়।

ব্যয়ের খাতভিত্তিক বিবরণ অনুযায়ী, ছয়টি জাহাজ ক্রয় প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ২৩৬ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার ২৩ টাকা। এছাড়া ভবন নির্মাণে ৫৯ কোটি ৩৫ লাখ ৯ হাজার টাকা এবং আরপিও ইস্যু সংক্রান্ত খরচ বাবদ ১৭ কোটি ৯৩ লাখ ৬০ হাজার ৯৭৭ টাকা ব্যয় করেছে সংস্থাটি। একই সময়ে ব্যাংকে আমানত রেখে সুদ হিসেবে অর্জিত হয়েছে ২৩৪ কোটি ৫৩ লাখ ২১ হাজার ৫০ টাকা।

কোম্পানি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী আরপিও থেকে সংগৃহীত অর্থ মূলধনি খাতে ব্যয় করা বাধ্যতামূলক হলেও সুদ থেকে অর্জিত অর্থ কোন খাতে ব্যয় হবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। সে কারণে সুদ আয়ের অর্থ জাহাজ পরিচালনা ব্যয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি আসন্ন বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) বিনিয়োগকারীদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

এদিকে, সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪–২৫ অর্থবছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের ২৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার সুপারিশ করেছে বিএসসির পরিচালনা পর্ষদ। আলোচ্য অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা ১০ পয়সা, যা আগের বছরে ছিল ১৬ টাকা ৩৭ পয়সা। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪ টাকা ৮৪ পয়সা।

ঘোষিত ডিভিডেন্ডসহ অন্যান্য অ্যাজেন্ডায় বিনিয়োগকারীদের সম্মতি নিতে আগামী ২২ ডিসেম্বর এজিএম আহ্বান করেছে বিএসসি।

ঢাকা/এসএইচ