উল্টোরথে নাভানা ফার্মার আয়: সুদের যাঁতাকলে পিষ্ট বিনিয়োগকারীরা (পর্ব-১)
- আপডেট: ০১:৫৯:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
- / ১০৫০০ বার দেখা হয়েছে
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অনেক কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে এক ধরনের উদ্বেগজনক প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে- গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আংশিক প্রকাশ, বড় অংকের পরিবর্তনের ব্যাখ্যার অভাব, এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রকৃত চিত্র আড়াল করে রাখার প্রবণতা। এই বাস্তবতায় বিনিয়োগকারীরা ক্রমেই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছেন, কারণ তাদের সিদ্ধান্ত নির্ভর করে যেসব তথ্যের উপর, সেগুলোই যদি অসম্পূর্ণ বা অস্পষ্ট হয়, তাহলে পুরো বিনিয়োগ ব্যবস্থাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।
এই সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে এমন কিছু উদ্বেগজনক তথ্য সামনে আসে, যা শুধু একটি কোম্পানির সমস্যা নয়- বরং পুরো পুঁজিবাজারের জন্য একটি সতর্কবার্তা। কোম্পানিটির অন্যান্য আয় বছরের ব্যবধানে নিট ক্ষতিতে রুপান্তরিত হওয়ার পাশাপাশি সুদ বাবদ ব্যয় পাঁচ বছরে বেড়েছে প্রায় ৯০০ শতাংশ।
এর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষন শুরু করে ‘বিজনেস জার্নাল’-এর অনুসন্ধানী দল। কোম্পানিটির সর্বশেষ ২০২৪-২৫ সমাপ্ত বছরের আর্থিক প্রতিবেদনের চুল-চেড়া বিশ্লেষনে বেরিয়ে আসে নানা আর্থিক অসঙ্গতিসহ বেশ কয়েকটি প্রশ্ন। এসব প্রশ্নের উত্তর না মিললে কোম্পানির ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা এবং শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ- সবকিছুই অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। এরই ধারাবাহিকতায় নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি নিয়ে বিজনেস জার্নালের করা আট পর্বের বিশেষ প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব আজ প্রকাশিত হলো।
আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষনে দেখা গেছে, সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে কোম্পানির আদার ইনকাম (Other Income) থেকে। ২০২৪ সালে যেখানে আদারস ইনকাম ছিল ৯৫ লাখ ৬০ হাজার ২৬৪ টাকা, সেখানে ২০২৫ সালে তা সরাসরি উল্টো ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৩৪ হাজার ৫৬১ টাকার লোকসানে দাঁড়িয়েছে। অর্থ্যাৎ এক বছরের ব্যবধানে পরিবর্তন হয়েছে ৪ কোটি ৩৪ লাখ ৯৪ হাজার ৮২৫ টাকা, যা শতাংশের হিসেবে প্রায় ৪৫৫ শতাংশ পতন। সাধারণভাবে আদার ইনকাম বা অন্যান্য আয় আসে বিনিয়োগ, সুদ বা সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে। কিন্তু আয় থেকে সরাসরি এমন বিশাল লোকসানে চলে যাওয়া কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। এটি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয়- কোম্পানি হয় বড় কোনো বিনিয়োগে ধাক্কা খেয়েছে, না হয় কোনো আর্থিক সিদ্ধান্তে মারাত্মক ভুল করেছে। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো- এই বিশাল ক্ষতির পেছনে কি ঘটেছে, তার কোনো ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে নেই। IAS 1 অনুযায়ী এমন material পরিবর্তনের ক্ষেত্রে উৎস ও কারণ স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এখানে সেই স্বচ্ছতা অনুপস্থিত, যা সরাসরি বিনিয়োগকারীদের সাথে তথ্য গোপনের ইঙ্গিত দেয়।
এই অস্বচ্ছতা শুধু একটি সংখ্যার সমস্যা নয়, এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য সরাসরি ঝুঁকি তৈরি করে। কারণ একজন বিনিয়োগকারী যদি না জানেন কোম্পানি কোথায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাহলে ভবিষ্যতে সেই ঝুঁকি কতোটা বাড়তে পারে তা মূল্যায়ন করার কোনো সুযোগই থাকে না। ফলে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত হয়ে যায় অনুমানের উপর নির্ভরশীল, যা একটি সুস্থ পুঁজিবাজারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
আরও পড়ুন: ইস্টার্ন ব্যাংকের আয় বাড়লেও কমছে লাভ: লাগামহীন ব্যয়ে বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ!
আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষনে আরও উদ্বেগজনক যে তথ্যটি সামনে এসেছে, তা হলো নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের সুদ বাবদ ব্যয়ের (Finance Cost) অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। ২০২৪ সালে কোম্পানির সুদ বাবদ ব্যয় ছিল ৪৮ কোটি ৫১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৩২ টাকা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ৭৫ কোটি ৯৬ হাজার ৩৮১ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থ্যাৎ মাত্র এক বছরে অতিরিক্ত ২৬ কোটি ৪৯ লাখ ৪৮ হাজার ৬৪৯ টাকা সুদ দিতে হয়েছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ৫৫ শতাংশ বেড়েছে। এটি স্পষ্টভাবে দেখায় কোম্পানির ঋণের বোঝা দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো- এই ঋণ কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে? কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে? সুদের হার কতো? প্রতিবেদনে এসব মৌলিক তথ্যের কোনো উল্লেখ নেই। IFRS 7 অনুযায়ী financial liabilities-এর ঝুঁকি, সুদের হার এবং ঋণের কাঠামো বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এখানে সেই তথ্যের ঘাটতি স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
শুধু তাই নয়, গত পাঁচ বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের সুদ বাবদ ব্যয় বৃদ্ধির এই হার অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। ২০২০-২১ সমাপ্ত বছরে কোম্পানিটির এ খাতে ব্যয় ছিলো ৭ কোটি ৫১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৩৬ টাকা, ২০২১-২২ এ যা প্রায় ১৬৭ শতাংশ বেড়ে ২০ কোটি ৪ লাখ ২১ হাজার ১৬৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এরপরের বছর (২০২২-২৩) তা আরও ৩৪ শতাংশ বেড়ে ২৬ কোটি ৯১ লাখ ৩২ হাজার ৬২ টাকা, ২০২৩-২৪ সালে তা আরও ৮০.৩০ শতাংশ বেড়ে ৪৮ কোটি ৫১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৩২ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থ্যাৎ গত পাঁচ বছরে নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের সুদ বাবদ ব্যয় প্রায় ৯০০ শতাংশ বেড়েছে।
সুদ বাবদ ব্যয়ের এই উল্লম্ফন ভবিষ্যতের জন্য আরও বড় সংকেত দেয়। কারণ সুদের ব্যয় যত বাড়বে, কোম্পানির লাভ তত কমে যাবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে শেয়ারহোল্ডারদের উপর, কমে যেতে পারে লভ্যাংশ, এমনকি কোম্পানির আর্থিক স্থিতিশীলতাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো- যদি এই ঋণগুলো উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার না হয়ে থাকে, তাহলে এটি সরাসরি অর্থ অপচয় বা অদক্ষ ব্যবস্থাপনার প্রমাণ।
আরও পড়ুন: সাবসিডিয়ারির আড়ালে শাশা ডেনিমসের শত কোটি টাকা উধাও!
এই দুইটি বিষয় একসাথে বিশ্লেষণ করলে যে চিত্রটি উঠে আসে, তা আরও বেশি উদ্বেগজনক। একদিকে কোম্পানি আদারস ইনকাম বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে সেই ক্ষতি সামাল দিতে বা কার্যক্রম চালাতে ক্রমাগত ঋণের উপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। এটি একটি বিপজ্জনক চক্র- যেখানে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ঋণ নেওয়া হয়, আর সেই ঋণের সুদ আবার নতুন করে আর্থিক চাপ তৈরি করে। দীর্ঘমেয়াদে এটি কোম্পানিকে একটি ঋণ চক্রের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
এখানেই শেষ নয়, সাম্প্রতিক সময়ে নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কোম্পানিটির চেয়ারম্যান সাইকা মাজেদার অভিযোগের ভিত্তি প্রাথমিক তদন্তে বিএসইসিও এ ঘটনার সত্যতা খুঁজে পেয়েছে। কোম্পানিটি দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী, আনিসুজ্জামান চৌধুরীর স্ত্রী ইমরানা জামান, তাদের সহযোগী আদনান ইমাম ও তার বোন জাহার রসুলের বিরুদ্ধে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত এমডি সাঈদ আহমেদের বিরুদ্ধেও নিয়ম বহির্ভূতভাবে ক্ষমতার অপব্যবহারেরও নানা অভিযোগ ওঠেছে। (পরবর্তী পর্বে সেসব অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে)।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পুঁজিবাজারে এর প্রভাবও কম নয়। কারণ তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনই বিনিয়োগকারীদের প্রধান ভরসা। যদি সেই প্রতিবেদনে বড় বড় অংকের পরিবর্তনের কোনো ব্যাখ্যা না থাকে, তাহলে বাজারে ভুল তথ্যের উপর ভিত্তি করে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে শেয়ারদরের অস্বাভাবিক ওঠানামা, বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি এবং বাজারে আস্থার সংকট তৈরি হয়। ইতোমধ্যেই দেশের পুঁজিবাজারে খুচরা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে, তার অন্যতম কারণ এই ধরনের অস্বচ্ছতা।
আরও পড়ুন: ইউসিবি’র প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার সুদ আয় অনিশ্চিত!
তাদের মতে, নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের ক্ষেত্রে প্রশ্নগুলো আরও তীব্র হয়ে ওঠে। একদিকে অন্যান্য আয়ে ধস, অন্যদিকে সুদের অতিরিক্ত বোঝা- কিন্তু এই দুইয়ের মধ্যে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। এতে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ তৈরি হয়- কোম্পানি কি কোনো বড় আর্থিক ভুল করেছে, নাকি তথ্য আংশিকভাবে প্রকাশ করে প্রকৃত চিত্র আড়াল করছে?
সার্বিক বিষয়ে জানতে বিজনেস জার্নালের পক্ষ থেকে কোম্পানি সচিব মো: আমিনুল হক ভূইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে লিখিত বক্তব্য পাঠান। সেখানে কোম্পানির অন্যান্য আয় মুনাফা থেকে লোকসানে নেমে আসার কারণ হিসেবে বলেন, ‘প্রযোজ্য হিসাবমান অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় থেকে অর্জিত লাভ বা ক্ষতি ‘অন্যান্য আয় (Other Income)’ হিসেবে স্বীকৃত হয়। ২০২৫ অর্থবছরে, মার্কিন ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার অবমূল্যায়নের (এক্সচেঞ্জ রেট ১১৭ টাকা থেকে ১২২ টাকায় বৃদ্ধি) কারণে কোম্পানিটি ৫.৪০ কোটি টাকার উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এছাড়াও, শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে কোম্পানিটি ১.০৪ কোটি টাকার ক্ষতি বহন করেছে। এই দুইটি কারণের ফলে ২০২৫ অর্থবছরে মোট অন্যান্য আয় নেট ক্ষতিতে পরিণত হয়েছে। ফলে ২০২৪ অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে।’
সুদ বাবদ ব্যয় ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘২০২৫ অর্থবছরে ফাইন্যান্স কস্টের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি মূলত বাজারে সুদের হারের তীব্র ঊর্ধ্বগতির কারণে হয়েছে। উক্ত সময়ে, সকল ধরনের ঋণ সুবিধার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সুদের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে, যা প্রায় ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের শেষে প্রায় ১৫ শতাংশে পৌঁছে। ফলে প্রযোজ্য সুদের হারে আনুমানিক ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি ঘটে। এর ফলে কোম্পানির মোট ঋণগ্রহণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়, যা ২০২৪ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫ অর্থবছরে ফাইন্যান্স খরচ বৃদ্ধির প্রধান কারণ হয়েছে।’
আরও পড়ুন: এবি ব্যাংক: সুদ আয়ের তুলনায় ব্যয় বেড়েছে ২০৮ শতাংশ!
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান এ বি এম মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, অন্যান্য আয়ে বড় ধস এবং সুদ বাবদ ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি- এই দুইটি বিষয় একসাথে দেখলে স্পষ্ট হয় কোম্পানির আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা আছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এই পরিবর্তনের পেছনে পরিষ্কার ব্যাখ্যা নেই, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ঝুঁকির ইঙ্গিত।’
বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাবেক সভাপতি মিজানুর রশীদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যেকোনো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং ধারাবাহিকতা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই। নাভানা ফার্মার প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক পরিবর্তনের ব্যাখ্যা না থাকায় আমাদের আস্থা ক্ষুণ্ন হয়েছে। পরিষ্কার তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত আমরা সতর্ক অবস্থানে থাকবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবেদনে এতো বড় পরিবর্তন দেখাচ্ছে, কিন্তু কেন হচ্ছে সেটা বলা হচ্ছে না- এতে আমরা বিভ্রান্ত হচ্ছি। আমাদের টাকার নিরাপত্তা কোথায়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।’
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মুখপাত্র ও পরিচালক মো. আবুল কালাম বলেন, ‘শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে যদি অসঙ্গতি বা অস্বাভাবিক আর্থিক প্রবণতার অভিযোগ উঠে, তাহলে কমিশন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয় এবং তথ্যগুলো পর্যালোচনা করা হয়। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার মতো কোনো তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে বা নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে, তাহলে বিএসইসি আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’ (চলবে…)
বিজনেস জার্নাল/এইচকে/ঢাকা



































