০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিতে আগ্রহী সার্বিয়া

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০১:০৬:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অক্টোবর ২০২১
  • / ১০৩০৬ বার দেখা হয়েছে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর নাগরিকদের কাছে ইউরোপ পছন্দের গন্তব্যস্থল। বিশেষত উচ্চশিক্ষা, উন্নত জীবনের প্রত্যাশা কিংবা জীবিকার তাগিদে প্রতিবছর বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ ইউরোপে পাড়ি জমান। তবে এবার ক্ষোদ

ইউরোপের দেশ সার্বিয়া বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও আধা দক্ষ শ্রমিক নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। এজন্য দুই দেশের সরকারের মধ্যে একটি কৌশলগত দিক নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বুধবার সকালে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

এতে বলা হয়, বেলগ্রেডে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্দার ভুসিক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনকে এ আগ্রহের কথা জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ প্রস্তাব সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট সাদরে গ্রহণ করেন বলে জানানো হয় বিবৃতিতে। বাংলাদেশ থেকে শ্রম ও জনশক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া তৈরিতে জোর দেন ভুসিক। সার্বিয়ার চলমান উচ্চাভিলাষী উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য যে বিশাল মানবসম্পদের প্রয়োজন তা পূরণে বাংলাদেশের দক্ষ ও আধা-দক্ষ আইটি পেশাজীবী, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বাদের নিয়োগের প্রস্তাব দেন বৈঠকে মোমেন। সার্বিয়ায় বর্তমানে এসব কাজে অনেক চাহিদা রয়েছে। বৈঠকে দুই বন্ধু দেশের মধ্যে শক্তিশালী বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সংযোগ গড়ে তোলার ওপর জোর দেন মোমেন। সার্বিয়ান বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশ থেকে আমদানি করার এবং সরকারের দেয়া চমৎকার বিনিয়োগের পরিবেশ ব্যবহার করে দেশে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি। করোনাভাইরাস মহামারির চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট ভুসিক। বৈঠকে ঢাকা ও বেলগ্রেডের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং ঐতিহ্যগতভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মোমেন বলেন, এ সম্পর্ক ইতিহাসে নিহিত।

এ সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক যুগোস্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট জোসিপ ব্রোজ টিটোর ব্যক্তিগত বন্ধুত্বকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি। সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট এটা জানতে পেরে উচ্ছ্বসিত হন যে, বাংলাদেশ বর্তমানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ১২ লাখ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) আশ্রয় দিয়েছে উল্লেখ করে তাদের নিরাপদ, সেচ্ছায় ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার জান্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সার্বিয়ার প্রতি আহবান জানান মোমেন। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করে ভুসিক জানান, এ সমস্যা সমাধানে ঢাকার পাশে থাকবে তার দেশ। মোমেন সার্বিয়ান প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান, সাদরে এ আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন ভুসিক। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকেও সার্বিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।

ঢাকা/এমটি 

শেয়ার করুন

বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিতে আগ্রহী সার্বিয়া

আপডেট: ০১:০৬:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অক্টোবর ২০২১

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর নাগরিকদের কাছে ইউরোপ পছন্দের গন্তব্যস্থল। বিশেষত উচ্চশিক্ষা, উন্নত জীবনের প্রত্যাশা কিংবা জীবিকার তাগিদে প্রতিবছর বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ ইউরোপে পাড়ি জমান। তবে এবার ক্ষোদ

ইউরোপের দেশ সার্বিয়া বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও আধা দক্ষ শ্রমিক নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। এজন্য দুই দেশের সরকারের মধ্যে একটি কৌশলগত দিক নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বুধবার সকালে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

এতে বলা হয়, বেলগ্রেডে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্দার ভুসিক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনকে এ আগ্রহের কথা জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ প্রস্তাব সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট সাদরে গ্রহণ করেন বলে জানানো হয় বিবৃতিতে। বাংলাদেশ থেকে শ্রম ও জনশক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া তৈরিতে জোর দেন ভুসিক। সার্বিয়ার চলমান উচ্চাভিলাষী উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য যে বিশাল মানবসম্পদের প্রয়োজন তা পূরণে বাংলাদেশের দক্ষ ও আধা-দক্ষ আইটি পেশাজীবী, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বাদের নিয়োগের প্রস্তাব দেন বৈঠকে মোমেন। সার্বিয়ায় বর্তমানে এসব কাজে অনেক চাহিদা রয়েছে। বৈঠকে দুই বন্ধু দেশের মধ্যে শক্তিশালী বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সংযোগ গড়ে তোলার ওপর জোর দেন মোমেন। সার্বিয়ান বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশ থেকে আমদানি করার এবং সরকারের দেয়া চমৎকার বিনিয়োগের পরিবেশ ব্যবহার করে দেশে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি। করোনাভাইরাস মহামারির চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট ভুসিক। বৈঠকে ঢাকা ও বেলগ্রেডের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং ঐতিহ্যগতভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মোমেন বলেন, এ সম্পর্ক ইতিহাসে নিহিত।

এ সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক যুগোস্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট জোসিপ ব্রোজ টিটোর ব্যক্তিগত বন্ধুত্বকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি। সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট এটা জানতে পেরে উচ্ছ্বসিত হন যে, বাংলাদেশ বর্তমানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ১২ লাখ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) আশ্রয় দিয়েছে উল্লেখ করে তাদের নিরাপদ, সেচ্ছায় ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার জান্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সার্বিয়ার প্রতি আহবান জানান মোমেন। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করে ভুসিক জানান, এ সমস্যা সমাধানে ঢাকার পাশে থাকবে তার দেশ। মোমেন সার্বিয়ান প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান, সাদরে এ আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন ভুসিক। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকেও সার্বিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।

ঢাকা/এমটি