০৬:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

জমি বিক্রিতে আশরাফ টেক্সটাইলে ২৫০ কোটি টাকা লোপাট

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ১০:৩১:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ এপ্রিল ২০২২
  • / ১০৪২৩ বার দেখা হয়েছে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: দেশের পুঁজিবাজারে এসএমই প্ল্যাটফর্মে লেনদেন হওয়া কোম্পানি আশরাফ টেক্সটাইল লিমিটেডের পরিচালকরা জমি বিক্রিতে প্রতারণার মাধ্যমে ২৫০ কোটি টাকারও বেশি আত্মসাৎ করেছে। অর্থাৎ বাজার মূল্যে জমি বিক্রি করলেও আর্থিক প্রতিবেদনে এর বিক্রিত মূল্য কম দেখানো হয়েছে।  নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের ( বিএসইসি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

কমিশন বলছে কোম্পানির সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে এই টাকা সরিয়েছে মালিক পক্ষ।

এছাড়াও বিএসইসি নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী (২০১০-২০১২) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই করার পর বেশ কয়েকটি অসঙ্গতি উদ্ঘাটন করা হয়।

২০১২ সালের নিরীক্ষকদের রিপোর্ট অনুযায়ী, কোম্পানিটি ২০০৬ সালে তার উৎপাদন বন্ধ করে দেয় এবং তারপর থেকে সমস্থ যন্ত্রপাতি বিক্রি করতে শুরু করে। কোম্পানিটি গাজীপুরের টঙ্গীর আশরাফাবাদে অবস্থিত মোট ৩২.৮২বিঘা বা ১০৮৫ ডেসিমেল জমি কর্ণফুলী ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কাছে ৭৫ কোটি টাকা দামে বিক্রি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্পদের বাজার মূল্য হতে পারে ৩২৫.৫ কোটি টাকা। সুতরাং, বিক্রয় মূল্য তৎকালীন বাজার মূল্যের তুলনায় যথেষ্ট কম বলে মনে হচ্ছে।

২০১২ সালের আর্থিক বিবৃতি থেকে দেখা যায় কোম্পানিটির স্থায়ী সম্পদ, জমি এবং ফ্লোর বিক্রির আয় থেকে ২১.৪৫ কোটি টাকার সুরক্ষিত ঋণ নিষ্পত্তি করেনি।

২০১০ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, বিক্রিত পণ্যের মূল্য শূন্য ছিল। মোট পরিচালন ব্যয় ছিল ১.৯৭ কোটি টাকা (এমনকি ইনভেন্টরি বৃদ্ধির জন্য কোনও নগদ বহিঃপ্রবাহও চিহ্নিত করা হয়নি) যেখানে নগদ প্রবাহ বিবৃতিতে ব্যয় এবং ব্যয়ের জন্য অর্থপ্রদান ২৫.৭৫ কোটি টাকা হিসাবে দেখানো হয়েছে।

বিএসইসি বলেছে, ২০১২ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানির সাধারণ রিজার্ভ দেখানো হয়েছে ১৫.৮৯ কোটি টাকা। যেখানে নগদ এবং ব্যাংক হিসেবে দেখানো হয়েছে মাত্র ০.৭৬ লাখ টাকা।

বিএসইসি বলেছে, ‘কোম্পানির সম্পদ, জমি, ভবন এবং যন্ত্রপাতি বিক্রির বিষয়ে তথ্য শেয়ারহোল্ডারদের কাছে যথাযথভাবে প্রচার করা হয়নি এবং শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে যথাযথ অনুমোদন পাওয়া যায়নি।

বিএসইসি রোববার কোম্পানির কাছ থেকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে বিভিন্ন নথি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজপত্রসহ ব্যাখ্যা চেয়েছে। একই সাথে ডিএসই,সিএসই ও আইসিবির কাছে এই সংক্রান্ত কোন নথি থাকলে তা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।

এ বিষয়ে বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিক বলেন, কমিশনের উচিত ওটিসি মার্কেটের আওতাধীন প্রতিটি কোম্পানির তদন্ত করা। ‘যদি নিয়ন্ত্রক তহবিল আত্মসাৎসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পায়, তাহলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

কোম্পানিটি ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ওটিসি মার্কেটে লেনদেন হতো। গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর, বিএসইসি ওটিসি বাজার বাতিল করে এবং আশরাফ টেক্সটাইল মিলসহ ১৬টি কোম্পানিকে দেশের স্টক এক্সচেঞ্জের এসএমই প্ল্যাটফর্মে পাঠায়।

কোম্পানির প্রাক-আইপিও পরিশোধিত মূলধন ছিল ৪০ লাখ টাকা এবং বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ১০.৫০ কোটি টাকা। কোম্পানিটি তার শেয়ারের ডিম্যাট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেনি, যা সিকিউরিটিজ নিয়মের লঙ্ঘন।

ঢাকা/এসআর

ট্যাগঃ

শেয়ার করুন

জমি বিক্রিতে আশরাফ টেক্সটাইলে ২৫০ কোটি টাকা লোপাট

আপডেট: ১০:৩১:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ এপ্রিল ২০২২

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক: দেশের পুঁজিবাজারে এসএমই প্ল্যাটফর্মে লেনদেন হওয়া কোম্পানি আশরাফ টেক্সটাইল লিমিটেডের পরিচালকরা জমি বিক্রিতে প্রতারণার মাধ্যমে ২৫০ কোটি টাকারও বেশি আত্মসাৎ করেছে। অর্থাৎ বাজার মূল্যে জমি বিক্রি করলেও আর্থিক প্রতিবেদনে এর বিক্রিত মূল্য কম দেখানো হয়েছে।  নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের ( বিএসইসি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুকটুইটারলিংকডইনইন্সটাগ্রামইউটিউব

কমিশন বলছে কোম্পানির সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে এই টাকা সরিয়েছে মালিক পক্ষ।

এছাড়াও বিএসইসি নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী (২০১০-২০১২) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই করার পর বেশ কয়েকটি অসঙ্গতি উদ্ঘাটন করা হয়।

২০১২ সালের নিরীক্ষকদের রিপোর্ট অনুযায়ী, কোম্পানিটি ২০০৬ সালে তার উৎপাদন বন্ধ করে দেয় এবং তারপর থেকে সমস্থ যন্ত্রপাতি বিক্রি করতে শুরু করে। কোম্পানিটি গাজীপুরের টঙ্গীর আশরাফাবাদে অবস্থিত মোট ৩২.৮২বিঘা বা ১০৮৫ ডেসিমেল জমি কর্ণফুলী ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কাছে ৭৫ কোটি টাকা দামে বিক্রি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্পদের বাজার মূল্য হতে পারে ৩২৫.৫ কোটি টাকা। সুতরাং, বিক্রয় মূল্য তৎকালীন বাজার মূল্যের তুলনায় যথেষ্ট কম বলে মনে হচ্ছে।

২০১২ সালের আর্থিক বিবৃতি থেকে দেখা যায় কোম্পানিটির স্থায়ী সম্পদ, জমি এবং ফ্লোর বিক্রির আয় থেকে ২১.৪৫ কোটি টাকার সুরক্ষিত ঋণ নিষ্পত্তি করেনি।

২০১০ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, বিক্রিত পণ্যের মূল্য শূন্য ছিল। মোট পরিচালন ব্যয় ছিল ১.৯৭ কোটি টাকা (এমনকি ইনভেন্টরি বৃদ্ধির জন্য কোনও নগদ বহিঃপ্রবাহও চিহ্নিত করা হয়নি) যেখানে নগদ প্রবাহ বিবৃতিতে ব্যয় এবং ব্যয়ের জন্য অর্থপ্রদান ২৫.৭৫ কোটি টাকা হিসাবে দেখানো হয়েছে।

বিএসইসি বলেছে, ২০১২ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানির সাধারণ রিজার্ভ দেখানো হয়েছে ১৫.৮৯ কোটি টাকা। যেখানে নগদ এবং ব্যাংক হিসেবে দেখানো হয়েছে মাত্র ০.৭৬ লাখ টাকা।

বিএসইসি বলেছে, ‘কোম্পানির সম্পদ, জমি, ভবন এবং যন্ত্রপাতি বিক্রির বিষয়ে তথ্য শেয়ারহোল্ডারদের কাছে যথাযথভাবে প্রচার করা হয়নি এবং শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে যথাযথ অনুমোদন পাওয়া যায়নি।

বিএসইসি রোববার কোম্পানির কাছ থেকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে বিভিন্ন নথি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজপত্রসহ ব্যাখ্যা চেয়েছে। একই সাথে ডিএসই,সিএসই ও আইসিবির কাছে এই সংক্রান্ত কোন নথি থাকলে তা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।

এ বিষয়ে বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিক বলেন, কমিশনের উচিত ওটিসি মার্কেটের আওতাধীন প্রতিটি কোম্পানির তদন্ত করা। ‘যদি নিয়ন্ত্রক তহবিল আত্মসাৎসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পায়, তাহলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

কোম্পানিটি ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ওটিসি মার্কেটে লেনদেন হতো। গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর, বিএসইসি ওটিসি বাজার বাতিল করে এবং আশরাফ টেক্সটাইল মিলসহ ১৬টি কোম্পানিকে দেশের স্টক এক্সচেঞ্জের এসএমই প্ল্যাটফর্মে পাঠায়।

কোম্পানির প্রাক-আইপিও পরিশোধিত মূলধন ছিল ৪০ লাখ টাকা এবং বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ১০.৫০ কোটি টাকা। কোম্পানিটি তার শেয়ারের ডিম্যাট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেনি, যা সিকিউরিটিজ নিয়মের লঙ্ঘন।

ঢাকা/এসআর